সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে যেভাবে ছড়াল আগুন *** আশুলিয়ায় কাভার্ড ভ্যান থেকে ৬ লাশ উদ্ধার *** জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথম স্ত্রীসহ থানায় এমপি নজরুল *** সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা *** কমলাপুর রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে আগুন *** শিল্পকলা একাডেমির সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, পল্লবীতে বাসে আগুন *** ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরার এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার *** সমালোচনার মুখে হাফেজদের উপহার দেওয়া সেই বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী *** অপ্রতিমের মা ড. নাহিদার চব্বিশের সেই ফেসবুক পোস্ট কেন আলোচনায়, কী লিখেছিলেন তিনি *** পাকিস্তান কি সৌদি আরবকে রক্ষা করতে যুদ্ধে জড়াবে

শক্তিশালী ‘পাইপ বোমার’ পাশ দিয়েই গেছে রথযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, ২৫শে জুলাই ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে উদ্ধার হওয়া শক্তিশালী পাইপ বোমাটি (আইইডি) পাতা হয়েছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রার পথেই। শোভাযাত্রা যখন ওই স্থান অতিক্রম করছিল, তখন পুলিশ বোমাটি ঘিরে রেখে উপস্থিত মানুষকে বলেছিল, সেখানে ‘শর্ট সার্কিট’ হয়েছে। পরে শোভাযাত্রা চলে যাওয়ার পর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি ধ্বংস করে।

ঘটনার পর মতিঝিল থানায় করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, উল্টো রথযাত্রাকে লক্ষ্য করেই বোমাটি রাখা হয়েছিল। তবে আগেই সেটি শনাক্ত হওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। মামলার বাদী মতিঝিল থানার এসআই মো. মুক্তা। তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার উল্টো রথযাত্রার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন এসআই মুক্তা। শোভাযাত্রাটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে স্বামীবাগ আশ্রমের দিকে যাচ্ছিল। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ট্রাফিক বিভাগ থেকে ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে খবর আসে, মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতরে রাখা বোমা সদৃশ বস্তু থেকে মিটমিট করে আলো জ্বলছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। ঠিক সেই সময় রথযাত্রার শোভাযাত্রা সেখানে পৌঁছালে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ তাদের জানায়, সেখানে ‘শর্ট সার্কিট’ হয়েছে। পরে শোভাযাত্রাটি বিকল্প পথ ধরে এগিয়ে যায়। জনসমাগম সরে যাওয়ার পর ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল রাত ৮টার দিকে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে।

ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা আলামতের মধ্যে রয়েছে জিআই পাইপের টুকরা, ব্যাটারি, বিদ্যুতের সার্কিট এবং অসংখ্য বিয়ারিং বল। বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণের স্প্লিন্টারে পথচারী ৬৬ বছর বয়সী মিরাজ আহমেদ আহত হন। তার বাম চোখে আঘাত লাগে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের এক কর্মকর্তা জানান, এটি ছিল একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বা পাইপ বোমা। এর ভেতরে প্রায় দেড় কেজি বিস্ফোরক পদার্থ, বিপুল পরিমাণ লোহার টুকরা ও বিয়ারিং বল ভরা ছিল। ব্যাটারি ও সার্কিটের মাধ্যমে এমনভাবে সেটি তৈরি করা হয়েছিল, যাতে কেউ ছাতার বোতাম চাপলে সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটত। তখন লোহার টুকরাগুলো স্প্লিন্টারের মতো চারদিকে ছিটকে আশপাশের মানুষকে গুরুতর আহত বা নিহত করতে পারত।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে তাদের ধারণা, উল্টো রথযাত্রাকেই লক্ষ্য করে বোমাটি রাখা হয়েছিল। মামলায়ও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি ও প্রাণহানির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বোমাটি রাখা হয়েছিল। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, রথযাত্রাকে কেন্দ্র করেই বোমাটি রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি এখনো তদন্তাধীন বিষয়।

পাইপ বোমা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250