শনিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্কুল ছাড়াই গাজার শিক্ষার্থীদের উচ্চ মাধ্যমিকের ফল উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৭:৪০ অপরাহ্ন, ১৭ই নভেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ। স্কুলগুলো ধ্বংস প্রায়। এমন কঠিন বাস্তবতায় উচ্চ মাধ্যমিক পাসের ফলাফল উদযাপন করেছেন গাজার শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৩ই নভেম্বর) ফলাফল প্রকাশের পর গাজার সর্বত্রই আনন্দঘন দৃশ্য দেখা গেছে, গত দুই বছরে যা ছিল অত্যন্ত বিরল।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশ করার পর ফিলিস্তিনিরা আতশবাজি ফুটিয়েছেন; গান আর নাচে আলিঙ্গন করেছেন একে অন্যকে। খবর সিএনএনের।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে দোয়া মুসাল্লেম খুব ভালো ফলাফল করেছেন। কিন্তু ১৮ বছরের এ তরুণীর জন্য উদযাপনটি ছিল তিক্ত-মধুর। তিনি বলেন, ‘আমাদের আনন্দ অসম্পূর্ণ, কারণ আমাদের ভরসা আর ঘরের অস্তিত্ব নেই।’ 

দোয়ার বাবা বাসাম ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত হন। মুসাল্লেমের মতো গাজার ২০২৫ সালের ব্যাচের আরো প্রায় ৫৬ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন প্রায় পুরোপুরি ব্যাহত হয়েছে। ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ১৯ হাজার স্কুলগামী শিশু নিহত হয়েছে, হাজারো শিশু পিতামাতাহীন হয়েছে।

প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে উপত্যকার আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা। ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধে অন্তত ২৭ হাজার ২১৬ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৭৯২ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিহত এবং ৩ হাজার ২৫১ জন আহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এ ফলাফলে গাজার ৫৬ হাজার নতুন শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েট কলেজে ভর্তির জন্য প্রস্তুত। কিন্তু তাদের যাওয়ার মতো বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ গত দুই বছরে ইসরায়েলি আক্রমণে মোট ৬৩টি বিশ্ববিদ্যালয় ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গাজা অবরোধ ও বোমাবর্ষণে গাজার শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞেরা এটিকে একটি জাতির শিক্ষা ব্যবস্থাকে সচেতনভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে বর্ণনা করেছেন।

কিন্তু ইসরায়েল বারবার দাবি করেছে, হামাস স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্ত্র মজুদ রাখা বা কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এর আগে সিএনএনকে বলেছিল যে, তারা বেসামরিক ক্ষতি কমাতে চায়, তবে হামাস বেসামরিক অবকাঠামোকে সন্ত্রাসের কাজে ব্যবহার করে। 

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় গাজার ৯৭ শতাংশ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, ফলে লাখো শিশু সরাসরি ক্লাসে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছে।

শিক্ষা খাতের এ বিপুল ক্ষতির পরও বৃহস্পতিবারের ফলাফল শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে নতুন আশা দিয়েছে। গাজার স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবার গড়ে উঠবে বলে বিশ্বাস রাখছেন তারা। ইউনিসেফের সাম্প্রতিক বিবৃতি অনুযায়ী, প্রায় ৯২ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নতুন করে তৈরি বা ব্যাপক পুনর্গঠন প্রয়োজন হবে।

জে.এস/

ফিলিস্তিন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250