শনিবার, ৩রা অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী *** শেখ হাসিনা এখনো ভারতে বিশেষ মর্যাদায়, দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে মিলছে সেই ইঙ্গিত *** হুতিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযানের প্রস্তুতি সৌদির, অংশ নিতে পারেন লাখো ইয়েমেনি সেনা *** জামায়াতের আখতারুজ্জামান এক দিনের রিমান্ডে *** ইসরায়েলগামী বিমানের ককপিটে কুড়াল নিয়ে হামলা, সেই সহকারী পাইলটের পরিচয় কী *** সাক্ষাৎকারে মিথ্যা বললে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ হতে পারে: মার্কিন দূতাবাস *** বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগদানের ক্ষোভে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে: পরওয়ার *** ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রীর ছবি প্রকাশ *** মাল্টার দাম ৫২০ টাকা কেন, ব্যাখ্যা চেয়ে ব্যবস্থার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর *** মুক্তিযোদ্ধাদের মরদেহ দাফন ও সৎকারে বরাদ্দ সাড়ে ৯ কোটি টাকা

দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান চেষ্টায় জাতিসংঘের উদ্বেগে পুরোনো আশঙ্কার নতুন মাত্রা

আদিত্য কবির

🕒 প্রকাশ: ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, ১৫ই আগস্ট ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা—আল-কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট বা একিউআইএস—ছোট ছোট সেল বা বিচ্ছিন্ন সাংগঠনিক ইউনিট গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এ জন্য বাংলাদেশকে নিজেদের কর্মকাণ্ডের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দল। জাতিসংঘের সবশেষ প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে গত ১০ আগস্ট। নিরাপত্তা পরিষদের নথি অনুযায়ী, এটি পর্যবেক্ষণ দলের ৩৮তম প্রতিবেদন, যার নম্বর এস/২০২৬/৬৫১।

জাতিসংঘের ওই পর্যবেক্ষণ দলের মূল্যায়নে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের হুমকি এখন আর শুধু বড় আকারের সংগঠন বা প্রশিক্ষণ শিবিরকেন্দ্রিক নয়। বরং ছোট, বিচ্ছিন্ন ও পরস্পর থেকে আড়ালে থাকা সেলের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ, অর্থায়ন, রসদ সরবরাহ এবং যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রবণতা বাড়ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এই পরিবর্তিত কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বাংলাদেশের নাম উঠে আসা তাই নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রতিবেদনটির মূল্যায়নের সময়সীমা ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর দেওয়া তথ্য ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে আল-কায়েদার অবস্থান ও সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। একই সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদার শাখা একিউআইএস আগের তুলনায় আরও ছড়িয়ে পড়ার মতো সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে। বড় ইউনিটের বদলে ছোট সেল তৈরি করে কাজ করা এই সংগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গটি এসেছে একিউআইএসের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের আলোচনায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংগঠনটি বাংলাদেশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে এবং এখানে ছোট সাংগঠনিক ইউনিট বা সেল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশে একিউআইএসের একটি পূর্ণাঙ্গ, প্রকাশ্য বা শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা হলো, স্থানীয়ভাবে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি ও ছোট ছোট গোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে সংগঠনটি ধীরে ধীরে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারে।

এই আশঙ্কার পেছনে দেশের অতীত অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অভিজ্ঞরা। দেশে আল-কায়েদার আদর্শে অনুপ্রাণিত আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং পরে আনসার আল ইসলাম নামে পরিচিত সংগঠনের তৎপরতার কথা বহু বছর ধরেই জানা। ২০১৫ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নিষিদ্ধ হওয়ার পর সংগঠনটির নাম ও সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও আল-কায়েদার আদর্শের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে দেশি-বিদেশি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আলোচনা করেছে। প্রথম আলোর একটি বিশ্লেষণে পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বা আনসার আল ইসলাম আল-কায়েদা কিংবা আরও নির্দিষ্টভাবে একিউআইএসের আদর্শ ধারণ করলেও তাদের সঙ্গে সরাসরি সাংগঠনিক যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আল-কায়েদার পাশাপাশি দেশে ইসলামিক স্টেট বা আইএসের প্রভাব নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বিদেশি নাগরিক হত্যা, শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর দেশে আইএসের উপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন ওঠে। সে সময় আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে আইএসের কোনো সাংগঠনিক কাঠামো নেই। ২০১৫ সালের ৬ অক্টোবর তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক দেশে আইএসের সাংগঠনিক অস্তিত্ব অস্বীকার করেছিলেন। একই বছরের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও বলেছিলেন, দেশে আইএসের কোনো সাংগঠনিক কাঠামো নেই; যারা আইএসের নামে তৎপর, তারা স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। এসব বক্তব্য সে সময় দ্য ডেইলি স্টারসহ অন্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর ঢাকার একটি আদালত আইএসের কথিত চার সদস্যের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাত ও খেলাফত প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযোগ গঠন করার পরও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে আইএসের সাংগঠনিক অস্তিত্ব অস্বীকার করেছিলেন। ডেইলি স্টারের ২৫ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসে।

পরের বছর ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পরও সরকার হামলাকারীদের আইএসের সদস্য না বলে স্থানীয় নব্য জেএমবির সঙ্গে যুক্ত হিসেবে বর্ণনা করেছিল। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রোহান গুনারত্না ২০১৭ সালের ১২ মার্চ ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, হলি আর্টিজানে হামলা আইএস-ই চালিয়েছে।

দেশের একাধিক গণমাধ্যমে সে সময় বাংলাদেশে আইএস ও আল-কায়েদার প্রভাব নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা হয়েছিল। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আল-কায়েদা ও আইএস—দুটি সংগঠনই দেশে বাড়তে থাকা জঙ্গি তৎপরতার সুযোগ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে। আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশে একিউআইএস নামে শাখা খুলেছে এবং বাংলাদেশকে সেই কাঠামোর আওতায় রাখা হয়েছে।

অভিজ্ঞরা বলছেন, জাতিসংঘের ১০ আগস্টের উদ্বেগকে একেবারে নতুন কোনো আশঙ্কা হিসেবে দেখার সুযোগ কম। দীর্ঘদিনের একটি প্রবণতা নতুন বাস্তবতায় কীভাবে রূপ বদলাচ্ছে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আগে বড় সংগঠন, প্রশিক্ষণকেন্দ্র বা প্রকাশ্য সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে তৎপরতা চালানোর প্রবণতা থাকলেও এখন আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলো ছোট সেল, অনলাইন যোগাযোগ, ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক এবং সীমান্তপারের যোগাযোগের ওপর বেশি নির্ভর করছে।

বাংলাদেশের জন্য এই পরিবর্তনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর। সে সময় দেশের বিভিন্ন কারাগারে হামলা, বন্দী পালানো এবং জঙ্গিদের মুক্তির ঘটনা ঘটে। ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ডেইলি স্টার এক প্রতিবেদনে জানায়, ৫ আগস্টের পর অন্তত ৪৩ জন উচ্চপর্যায়ের অপরাধী ও জঙ্গি জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান। একই সময়ে ১৭টি কারাগারে হামলার ঘটনায় দুই হাজারের বেশি বন্দী পালিয়ে যায়; তাদের মধ্যে ৭০ জনের বেশি জঙ্গি ছিলেন বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে এই উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে। প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণের চলতি বছরের ১ জুলাই-এর এক প্রতিবেদনে পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়, নিষিদ্ধ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের অন্তত ৩১১ সদস্য তখন পলাতক। তাদের মধ্যে ১৮৫ জন জেএমবি, ৮৩ জন আনসার আল ইসলাম, ১৬ জন হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামি, ১৬ জন নব্য জেএমবি এবং অন্য কয়েকটি সংগঠনের সদস্য। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন জঙ্গি মামলায় ১ হাজার ৬১১ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন; এর মধ্যে ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর মুক্তি পেয়েছেন ৩৮০ জন।

এখানেই জাতিসংঘের নতুন উদ্বেগের সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির যোগসূত্র খুঁজছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। নিষিদ্ধ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক সদস্যের পলাতক থাকা এবং বহু জঙ্গি আসামির জামিনে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি নিরাপত্তা ঝুঁকি, তা অস্বীকার করারও উপায় নেই।

আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের যোগাযোগের ইতিহাসও পুরোনো। ২০২১ সালে ডেইলি স্টার জানায়, আনসার আল ইসলামের কয়েক সদস্য আফগানিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং কয়েকজন সেখানে পৌঁছেছেন বলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। একই বছর বার্তা সংস্থা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশি কয়েক তরুণ আফগানিস্তানে গিয়ে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, আনসার আল ইসলাম নিজেদের আল-কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা হিসেবে দাবি করে এবং সেই আদর্শের কারণে তাদের কেউ কেউ আফগানিস্তানের দিকে ঝুঁকেছিল।

সাম্প্রতিক বছরেও আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ডেইলি স্টার জানায়, সাভার থেকে গ্রেপ্তার এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাকিস্তানভিত্তিক তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি ২০২৪ সালের অক্টোবরে পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তান ভ্রমণ করেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য দেন।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক যোগাযোগও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ডেইলি স্টার জানায়, খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তালেবান সরকারের আমন্ত্রণে কাবুল সফর করে। পাঁচ দিনের ওই সফরে আফগানিস্তানের প্রধান বিচারপতি, কয়েকজন মন্ত্রী, ধর্মীয় আলেম ও তালেবানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা জানানো হয়েছিল।

এর কয়েক মাস পর ২৯ ডিসেম্বর ডেইলি স্টার জানায়, আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক নূর আহমাদ নূর এক সপ্তাহের সফরে বাংলাদেশে এসে কয়েকজন ইসলামপন্থী নেতার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং ঢাকার বিভিন্ন মাদ্রাসাও পরিদর্শন করেছেন। আফগান কর্মকর্তার সফরকে বাংলাদেশ সরকারের একজন কর্মকর্তা ব্যক্তিগত সফর হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে এ সফর যে ঘটেছিল, তা একাধিক প্রতিবেদনে এসেছে।

আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর আল-কায়েদা ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর জন্য সেখানে যে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগের বিষয়। জাতিসংঘের ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আফগানিস্তানের বাস্তব কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ বজায় রেখেছে।

জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদনেও আফগানিস্তানকে আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আর আগের জাতিসংঘ মূল্যায়নে এক সদস্যরাষ্ট্রের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, আল-কায়েদা একিউআইএসকে বাংলাদেশ, ভারতের জম্মু-কাশ্মীর এবং মিয়ানমারে কর্মকাণ্ড বিস্তারের জন্য প্রস্তুত করছে। একই মূল্যায়নে একিউআইএসের প্রায় ২০০ যোদ্ধার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

বাংলাদেশে আল-কায়েদার নতুন সেল প্রতিষ্ঠার আশঙ্কার বাস্তবতা নিয়ে তাই প্রশ্নটি শুধু কোনো একটি সংগঠনের উপস্থিতি আছে কি না, সেখানেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রশ্ন হলো—দেশে থাকা পুরোনো জঙ্গি নেটওয়ার্ক, পলাতক বা জামিনে মুক্ত জঙ্গি সদস্য, অনলাইনে উগ্রবাদী প্রচারণা, বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আফগানিস্তান-পাকিস্তানকেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক—এসব বিচ্ছিন্ন প্রবাহ এক জায়গায় মিলছে কি না।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বহুদিন ধরেই বলে আসছেন, আল-কায়েদা ও আইএসের মতো সংগঠনগুলো এখন বড় আকারের প্রকাশ্য সংগঠন তৈরির চেয়ে ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেলের ওপর বেশি নির্ভর করছে। সিঙ্গাপুরের রাজরত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ২০২৬ সালের সন্ত্রাসবাদবিষয়ক পর্যালোচনাতেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইএস-সমর্থকদের ছোট সেলভিত্তিক সংগঠনের কৌশলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তারা ছয়-সাতজনের ছোট সেল তৈরি করে নিজেদের পরিচয় ও অবস্থান গোপন রাখার চেষ্টা করে।

অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, আইএস বা আল-কায়েদার নামে সরাসরি কোনো শাখা আছে কি না—এই বিতর্কে আটকে থাকলে ঝুঁকির প্রকৃতি বোঝা কঠিন। কারণ, দেশে এর আগেও দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের মতাদর্শ স্থানীয় সংগঠন ও ব্যক্তির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইএস ও আল-কায়েদার সাংগঠনিক অস্তিত্ব অস্বীকার করা হলেও দেশীয় জঙ্গি সংগঠনগুলোর হামলা, হত্যা, সদস্য সংগ্রহ ও অনলাইন প্রচারণা বন্ধ হয়নি। বরং বিভিন্ন নিরাপত্তা অভিযানে আল-কায়েদাপন্থী ও আইএসপন্থী আদর্শে উদ্বুদ্ধ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কারাগার থেকে বিপুলসংখ্যক জঙ্গির মুক্তি এবং বর্তমানে শত শত জঙ্গির পলাতক থাকার তথ্য সেই পুরোনো ঝুঁকির সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ছোট সেল, গোপন যোগাযোগ, অনলাইনভিত্তিক সদস্য সংগ্রহ, সীমান্তপারের যাতায়াত এবং আফগানিস্তান-পাকিস্তানকেন্দ্রিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ—এসবকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিলে ঝুঁকিটিকে অবহেলা করার সুযোগও নেই। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি হলো রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের ভিত্তিতে নয়, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা, জামিনে মুক্ত জঙ্গি সদস্যদের আইনগত কাঠামোর মধ্যে নজরদারিতে রাখা এবং কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা।

কারণ জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় অতীতের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—কোনো আন্তর্জাতিক সংগঠনের ‘অস্তিত্ব’ স্বীকার বা অস্বীকারের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার মতাদর্শ, যোগাযোগ ও স্থানীয় নেটওয়ার্ক কীভাবে কাজ করছে, সেটি শনাক্ত করা। জাতিসংঘের ১০ আগস্টের সর্বশেষ সতর্কবার্তা সেই পুরোনো প্রশ্নটিকেই নতুন করে সামনে এনেছে: বাংলাদেশ কি আবার এমন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে আল-কায়েদা বা আইএসের নামের চেয়ে তাদের আদর্শ ও ছোট সেলভিত্তিক নেটওয়ার্কই বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে?

জঙ্গিবাদ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, ৩রা অক্টোবর ২০২৬

শেখ হাসিনা এখনো ভারতে বিশেষ মর্যাদায়, দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে মিলছে সেই ইঙ্গিত

🕒 প্রকাশ: ০৮:১৭ অপরাহ্ন, ৩রা অক্টোবর ২০২৬

হুতিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযানের প্রস্তুতি সৌদির, অংশ নিতে পারেন লাখো ইয়েমেনি সেনা

🕒 প্রকাশ: ০৭:৪২ অপরাহ্ন, ৩রা অক্টোবর ২০২৬

জামায়াতের আখতারুজ্জামান এক দিনের রিমান্ডে

🕒 প্রকাশ: ০৭:২৬ অপরাহ্ন, ৩রা অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলগামী বিমানের ককপিটে কুড়াল নিয়ে হামলা, সেই সহকারী পাইলটের পরিচয় কী

🕒 প্রকাশ: ০৭:১৯ অপরাহ্ন, ৩রা অক্টোবর ২০২৬

Footer Up 970x250