বাংলাদেশে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হওয়ায় একটি বিশাল জনগোষ্ঠী ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। সেই ‘ভোটবঞ্চিত প্রজন্ম’কেই এবার রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং কেন্দ্রীয় নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তরুণ ভোটারদের ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার
(৫ই আগস্ট) বেসরকারি
টেলিভিশন চ্যানেল- ‘এখন’-এর টকশোতে
অংশ নিয়ে রুমিন
বলেন, ‘বাংলাদেশের এমন একটা বড় জনগোষ্ঠী রয়েছে, যারা জীবনে কখনো জাতীয় নির্বাচনে ভোট
দিতে পারেনি। যাদের অনেকেই ৪০ বছরে পা রেখেছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই কোনোদিন ভোটকেন্দ্রে
যেতে পারেননি। এবার সেই জনগোষ্ঠীর প্রথম ভোটটি গুরুত্বপূর্ণ। তাদেরকেই আমরা আহ্বান জানাচ্ছি
ধানের শীষে ভোট দিতে।’
তিনি
জানান, নতুন ভোটার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন প্রায় ৪ কোটির বেশি নাগরিক, যা দেশের মোট ভোটারের
একটি বড় অংশ। অতীতে বিএনপিকে যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে এই বিশাল জনগোষ্ঠী যুক্ত
হলে রাজনৈতিক পালাবদলের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চরমপন্থা
ও সমাজে সংকোচন: উদ্বেগ বিএনপির
রুমিন
ফারহানা একই টকশোতে বলেন, ‘দেশে একটি ভয়ংকর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—নারীর পোশাক, চলাফেরা, শিল্প-সংস্কৃতিতে হস্তক্ষেপ—যা শুধু ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর নয়, সামাজিক সহনশীলতার ওপরও
আঘাত।’ তিনি বলেন, এই ধরনের দক্ষিণমুখী রাজনীতি
সমাজে বৈচিত্র্য ও মুক্তচিন্তার পরিবেশকে সংকুচিত করছে।
ভারতের
কিছু গণমাধ্যম বাংলাদেশের ‘চরমপন্থার উত্থান’ নিয়ে
যেসব প্রতিবেদন করছে, তারও প্রতিবাদ করেন তিনি। তবে সতর্ক করেন, ‘আমরাও লক্ষ্য করছি
যে নারীর ওপর চাপ, সংস্কৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। যা এক ধরনের রাজনৈতিক
সংকেত দেয়।’
তিনি
বলেন, সমাজে ভিন্নমত ও ভিন্ন পরিচয়ের মানুষ সবসময় থাকবে, কিন্তু পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ
না থাকলে গণতন্ত্র বা রাষ্ট্র—কোনো কিছুই টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
প্রথম
ভোটের রাজনীতি
এই
প্রেক্ষাপটে বিএনপি তরুণদের ‘প্রথম ভোট’কে রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল হাতিয়ার হিসেবে
দেখছে। রুমিন বলেন, ‘যাদের কখনো সুযোগ দেওয়া হয়নি, এবার তারা ইতিহাসের অংশ হতে পারেন।
ভোটের মাধ্যমে তারা তাদের মত প্রকাশ করতে পারেন—এটাই
গণতন্ত্রের ভিত্তি।’
তারেক
রহমানের ভাষায়, ‘তরুণদের শক্তিকে জাগাতে হবে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন।’ বিএনপির এই বার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তরুণদের মধ্যে
রাজনৈতিক উৎসাহ যেমন বাড়ছে, তেমনি হতাশা, অনাগ্রহ আর ক্ষোভও জমেছে।
এদিকে
বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরুণ ভোটারদের যে প্রভাব আগামি নির্বাচনকে আমূল নাড়িয়ে দিতে পারে,
তা অস্বীকারের সুযোগ নেই। বিএনপি এখন সেই ‘ভোটবঞ্চিত প্রজন্ম’কে নিজেদের দিকে টানার কৌশল নিয়েছে। তবে এই প্রজন্ম শুধু
প্রতীক দেখে নয়, চায় প্রাসঙ্গিকতা, নীতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা।
সুতরাং,
আগামী দিনের ভোট কেবল একটি দল বা একটি প্রতীককে নয়, একটি প্রজন্মের অবদমন থেকে মুক্তি
পাওয়ার ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করবে কী না—তা সময়ই বলে দেবে।