সোমবার, ২৩শে মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘সমালোচনা নিতে পারেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’ *** বিদেশি কূটনীতিককে জামায়াত আমিরের জড়িয়ে ধরা ‘বিতর্ক’, শুভেচ্ছা নাকি অসদাচরণ? *** ‘ঈদের নামাজে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর একসঙ্গে উপস্থিতি নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়’ *** যুদ্ধ বন্ধে মরিয়া ট্রাম্প, আলোচনার জন্য উপযুক্ত ইরানি নেতা খুঁজে পাচ্ছেন না *** যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া নিয়ে মিথ্যাচার করছে উপসাগরীয় দেশগুলো *** ‘এক যুগে বাংলাদেশকে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছে ভারত’ *** হলে হলে ছুটছেন তারকারা *** ‘নির্বাসিত’ জীবনে বিশ্বের প্রথম জেন জি ‘রাষ্ট্রপতি’ *** যে কোম্পানির বাস চালান পিন্টু, সেটির বাসেই প্রাণ গেল স্ত্রী ও দুই মেয়ের *** একাত্তরের হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা’ স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

‘প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীরা বিদেশি কোম্পানির লবিস্ট’

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

মেয়াদের শেষ সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটার আলোচনা এবং কিছু ক্ষেত্রে চুক্তি করছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিষয়টিকে চলমান প্রক্রিয়ার অংশ বলেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও প্রশাসনে বড় পদোন্নতি ও বদলির মতো সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারকে নিতে দেখা গেছে।

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করার কথাও রয়েছে সরকারের। অর্থাৎ, তফসিল ঘোষণার পর রুটিন কাজের পরিবর্তে সব ক্ষেত্রে নির্ধারণী ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে সরকার।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান গতকাল সোমবার (২রা ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করতে যান। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বের হওয়ার সময় অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো নিয়ে তার বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকেরা।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা চীন ও জাপানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, ‘এটা চলমান প্রক্রিয়া।'

গত ১১ই ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। পরদিন ১২ই ডিসেম্বর বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদোন্নতি দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদে একসঙ্গে ২ হাজার ৭০৬ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

একই দিন পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার ৩০ জন এবং অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার নয় কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়। চলতি বছরের ২৭শে জানুয়ারি জনপ্রশাসনে ১১৮ জন যুগ্ম সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত সচিব করা হয়।

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এখন সরকারের মেয়াদ রয়েছে হাতেগোনা আর কয়েক দিন। ভোটের পর ক্ষমতা হস্তান্তর করতে লাগবে কয়েক দিন। এখন সরকারের কোনো বড় কাজে হাত দেওয়া একেবারেই উচিত না। যেসব চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে এটা ঠিক হবে না। এটা গণতান্ত্রিক বিশ্বের নর্মসের সঙ্গে মেলে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তফসিল ঘোষণার পর সরকার বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে না, প্রশাসনিক পদায়ন বা এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। এ ধারণা মূলত একটি গণতান্ত্রিক রীতি বা কনভেনশন। এটি আইনে স্পষ্টভাবে লেখা না থাকলেও সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রতিষ্ঠিত একটি চর্চা।

তারা জানান, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বহু স্থিতিশীল সংসদীয় গণতন্ত্রে নির্বাচনকালে সরকার “রুটিন কাজ” চালালেও বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকে। এটি আইনগত বাধ্যবাধকতার চেয়ে রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয় বেশি। অর্থাৎ তফসিলের পর সরকারের সংযত আচরণ মূলত একটি প্রচলিত গণতান্ত্রিক প্রথা।

সরকার সব জনমত কিংবা প্রতিবাদ অগ্রাহ্য করে যেভাবে চুক্তি করছে তা খুব সন্দেহজনক বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

তিনি বলেন, ‘সরকার নিয়ম-নীতি এবং আইনবিরুদ্ধ কাজ করছে। তারা সংস্কারের যেসব কথাবার্তা বলে ঠিক তার বিপরীত কাজ করছে। প্রধান উপদেষ্টা সরকারের মধ্যে কিছু লোকজন নিয়ে এসেছেন, যারা আপাতদৃষ্টিতে তার বিশেষ সহকারী। যদিও তাদের মূল কাজটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশি কোম্পানির লবিস্ট হিসেবে কাজ করা। তারা সারাক্ষণ বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করার বিষয়ে এত আগ্রহী যে তা সন্দেহের উদ্রেক করে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ প্রশ্নে রেখে সুখবর ডটকমকে বলেন, ‘তাদের কি কাউকে কোনো কথা দেওয়া আছে? নাকি বিদেশি কোম্পানি বা অন্যান্য রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় তারা দায়বদ্ধ? চুক্তি, অর্থ বরাদ্দ, কেনাকাটা কোনো কিছুই তারা এখন করতে পারেন না। এগুলো বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো কেন চুপ করে আছে বুঝতে পারছি না।’

অভিজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের আগে সরকারের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা এবং নিয়মিত প্রশাসনিক কাজ চালু রাখা। কিন্তু এ সময়ে যদি বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত, বড় চুক্তি বা ব্যাপক পদোন্নতি-নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি বা পদোন্নতি নির্বাচনকালে মাঠ প্রশাসনের আচরণ ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠতে পারে।

তাদের মতে, এ কারণেই অনেক দেশে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে সরকারগুলো রুটিন দায়িত্ব পালন করে। বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সংযত থাকে। এমনকি যেখানে আনুষ্ঠানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নেই, সেখানেও নির্বাচন সামনে থাকলে বিদায়ী সরকার বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে বিরত থাকে।

তারা বলেন, একান্ত প্রয়োজন না হলে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বড় চুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ বা পদোন্নতির মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়াই উত্তম। আর নিতে হলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা উচিত—এটাই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভালো চর্চা।

আনু মুহাম্মদ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

‘সমালোচনা নিতে পারেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’

🕒 প্রকাশ: ১১:৫৬ অপরাহ্ন, ২২শে মার্চ ২০২৬

বিদেশি কূটনীতিককে জামায়াত আমিরের জড়িয়ে ধরা ‘বিতর্ক’, শুভেচ্ছা নাকি অসদাচরণ?

🕒 প্রকাশ: ১১:০৪ অপরাহ্ন, ২২শে মার্চ ২০২৬

‘ঈদের নামাজে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর একসঙ্গে উপস্থিতি নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়’

🕒 প্রকাশ: ০৮:০৮ অপরাহ্ন, ২২শে মার্চ ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধে মরিয়া ট্রাম্প, আলোচনার জন্য উপযুক্ত ইরানি নেতা খুঁজে পাচ্ছেন না

🕒 প্রকাশ: ০৭:২২ অপরাহ্ন, ২২শে মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া নিয়ে মিথ্যাচার করছে উপসাগরীয় দেশগুলো

🕒 প্রকাশ: ০৭:১৬ অপরাহ্ন, ২২শে মার্চ ২০২৬

Footer Up 970x250