আবারও নরেন্দ্র মোদির এআই নির্মিত একটি ভিডিও ঘিরে উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়ে বিরোধে জড়িয়েছেন কংগ্রেস ও বিজেপির নেতারা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ‘কংগ্রেস বিহার’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তার মা হীরাবান মোদিকে নিয়ে নির্মিত একটি এআই ভিডিও পোস্ট করেছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, মোদিকে তার মা বকাঝকা করছেন।
ভিডিওটি প্রকাশের পরই এ নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। বিজেপির অভিযোগ—এমন ভিডিও বানিয়ে হীরাবান মোদিকে তো বটেই সমগ্র নারী জাতিকে অপমান করেছে কংগ্রেস।
বিজেপির মুখপাত্র সায়েদ শাহনাওয়াজ হুসাইন বলেন, ‘কংগ্রেস দিন দিন নিচে নামছে। প্রথমে তারা মোদিজির প্রয়াত মাকে গালি দিয়েছে। এখন আবার এআই দিয়ে তার মুখে কথা বসিয়ে ভিডিও বানিয়েছে। বিহার তথা পুরো ভারত এটা মেনে নেবে না। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক একটা ব্যাপার। কংগ্রেসের এ ধরনের নির্লজ্জতা পরিহার করা উচিত। নির্বাচনে এর মূল্য কংগ্রেসকে চুকাতে হবে। বিহারের মানুষ ছেড়ে দেবে না।’
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ৯৯ বছর বয়সে মারা গেছেন নরেন্দ্র মোদির মা হীরাবান মোদি।
বিজেপি মুখপাত্র অরবিন্দ কুমার সিংহও বলছেন, এই ভিডিওর মাধ্যমে ভারতের মায়েদের অনুভূতিকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস যে এমন একটি ভিডিও বানিয়ে ইন্টারনেটে আপলোড করেছে তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এর মাধ্যমে তারা ভারতের কোটি কোটি মায়ের অনুভূতিকে ছোট করল। আমাদের জন্য মায়েরা দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী এবং সরস্বতীর মতো পূজনীয়। যা হয়েছে তার জন্য কংগ্রেস নেতাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’
এদিকে, কংগ্রেসের ভাষ্য ওই ভিডিওর মাধ্যমে কাউকে কোনোরকম অসম্মান করা হয়নি। তাদের ভাষ্য মায়েদের সাধারণ বৈশিষ্ট্যই তুলে ধরা হয়েছে। একজন মা তার সন্তানকে শেখাচ্ছেন—তা-ই ওই ভিডিওকে দেখানো হয়েছে বলে দাবি তাদের।
কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেছেন, ‘সন্তানকে শিক্ষা দেওয়া অভিভাবকের দায়িত্ব। তিনি (প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী মোদির মা হীরাবেন মোদি) শুধু তার সন্তানকে শিক্ষা দিচ্ছেন। যদি সন্তান মনে করে এতে তার প্রতি অসম্মান করা হয়েছে, তবে সেটা তার সমস্যা।’
কংগ্রেসের মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের প্রধান পবন খেরা আরও বলেন, ‘প্রয়াত মায়ের প্রতি কোথায় অসম্মান দেখানো হয়েছে? আমাকে দেখান, একটি শব্দ, একটি অঙ্গভঙ্গি, একটি ইঙ্গিত—কোথাও কি অসম্মান দেখা যাচ্ছে? সন্তানকে শিক্ষা দেওয়া অভিভাবকের অধিকার। তিনি শুধু তার সন্তানকে শিক্ষা দিচ্ছেন। এখন যদি সন্তান মনে করে এতে তার প্রতি অসম্মান করা হয়েছে, তবে সেটা তার সমস্যা, আমার বা আপনার নয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিজেপি কেন সবকিছুকেই সমস্যা বানানোর চেষ্টা করে এবং মিথ্যা সহমর্মিতা তৈরি করে? এসব বিষয়ে আর কোনো সহমর্মিতা নেই। প্রধানমন্ত্রী মোদি “টাচ-মি-নট” রাজনীতি করতে পারেন না। তিনি রাজনীতিতে আছেন এবং সবকিছুকে, এমনকি বিরোধীর হালকা রসিকতাকেও সঠিকভাবে নিতে হবে। আর এখানে কোনো রসিকতা নেই, বরং এটা ‘নাসিহাত’ (উপদেশ)।’
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন