ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে বাস থেকে নেমে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন হাফেজ কামরুল হাসান। এ সময় কয়েকজন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার কাছে থাকা নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে চায়। এতে বাধা দিলে চাকু দিয়ে তার বুকে আঘাত করে। পরে হাসপাতালে নিলে কামরুলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
শনিবার (২১শে ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টায় যাত্রাবাড়ীর করাতিটোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতারের পর এ তথ্য জানায় যাত্রাবাড়ী থানাপুলিশ। গ্রেফতার দুজনেরই বয়স ১৮ বছরের কম।
ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৮ই ডিসেম্বর রাতে বন্ধুদের সঙ্গে সাজেক যাওয়ার কথা ছিল কামরুলের। এজন্য সে রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড থেকে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের সায়েদাবাদ এলাকায় নেমে ফ্লাইওভার দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় কয়েকজন ছিনতাইকারী দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার কাছে থাকা নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘কামরুল হাসান ছিনতাইকারীদের বাধা দেয়। তাদের সঙ্গে কামরুলের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে একজন হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে কামরুলের বুকে আঘাত করে। কামরুল ফ্লাইওভারের ওপর লুটিয়ে পড়লে ছিনতাইকারীরা তার কাছে থাকা একটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৭ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।’
আরও পড়ুন: চাঁদাবাজদের তালিকা হচ্ছে, ২-৩ দিনের মধ্যে অভিযান : ডিএমপি কমিশনার
গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এডিসি মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘গুরুতর অবস্থায় কামরুলকে উদ্ধার করে ইসলামিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শুক্রবার কামরুল হাসানের বাবা মো. ইমাম হোসেন বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।’
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া ছিনতাইকারী চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এসি/কেবি
খবরটি শেয়ার করুন