বুধবার, ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়ে জাতিসংঘে আওয়ামী লীগের চিঠি *** মানিক পশারীর জানাজা-দাফনে বাধার অভিযোগ তদন্তে জামায়াতের কমিটি *** তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা জাপান প্রধানমন্ত্রীর *** রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার: জাতিসংঘের প্রতিবেদন *** মাও সেতুংকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে ক্ষমা চাইলেন এমবাপ্পে, দুঃখ প্রকাশ লা লিগার *** আইজিপির বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর: রিজভী *** বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমকে সমর্থন করে না সরকার: তথ্য উপদেষ্টা *** ‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে মবের শিকার হবেন না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা *** আওয়ামী লীগের যারা ভালো মানুষ, তারা আপন ঠিকানা খুঁজে নেবেন: জামায়াত আমির

‘অবমাননা ও অনুভূতিতে আঘাতের নির্দিষ্ট কোনো মানদণ্ড নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৯:০২ পূর্বাহ্ন, ১৫ই এপ্রিল ২০২৬

#

ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

ধর্মীয় অবমাননা ও অনুভূতিতে আঘাতের প্রশ্নে স্পষ্ট কোনো মানদণ্ড নেই—এমন মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট কবি ও সাধক সৈয়দ তারিক। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তার এই মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে; অনেক নেটিজেন তার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে মতামত প্রকাশ করছেন।

সৈয়দ তারিক তার পোস্টে লিখেছেন, ‘অবমাননা’ ও ‘অনুভূতিতে আঘাত’—এর কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞার্থ বা মানদণ্ড নেই। তিনি বলেন, তথাকথিত ‘তৌহিদি জনতা’ আর তাদের পরিচালক ও উস্কানিদাতা কট্টরপন্থী মোল্লা সম্প্রদায় যা নির্ধারণ করে, সেটাই তাদের চালিকাশক্তি। আর এই নির্ধারণ স্পষ্টই এই নির্দেশনা দেয় যে, ‘অবমাননাকারী’ বা ‘অনুভূতিতে আঘাতকারী’-কে কতল করা অবশ্যকর্তব্য (ওয়াজিব) এবং এটা সওয়াবের কাজ। এই কাজটি করতে পারলে তার জন্য বেহেশত নিশ্চিত।

তিনি আরও বলেন, একটি জাতির বিপুলসংখ্যক সদস্যের মধ্যে যখন এই আদর্শ কার্যকর থাকে, তখন সেই জাতির মানবিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের বর্তমান-ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী আশা করতে পারেন আপনি? সবশেষে তিনি বলেন, মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটুক। মানুষ মানব হোক। বিবেক জাগুক।

সৈয়দ তারিকের এই বক্তব্য প্রকাশের পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই তার বক্তব্যকে ‘সাহসী’ ও ‘সময়োপযোগী’ বলে উল্লেখ করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান তার পোস্টে লেখেন, “সমাজে যেটা বলা দরকার, সেটাই তিনি বলেছেন। অনুভূতির নামে সহিংসতার বৈধতা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”

ব্লগার তানজিলা নাসরিন মন্তব্য করেন, “ধর্মীয় অনুভূতি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটাকে আইনের ঊর্ধ্বে নিয়ে গিয়ে মানুষের জীবন নেওয়ার যুক্তি তৈরি করা বিপজ্জনক। সৈয়দ তারিক সেই বিষয়টাই তুলে ধরেছেন।”

চট্টগ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা রাশেদ করিম লিখেছেন, “সমাজে যুক্তিবাদী আলোচনা দরকার। ভিন্নমত সহ্য করার সংস্কৃতি না থাকলে আমরা এগোতে পারব না।”

তবে কিছু ব্যবহারকারী তার বক্তব্যের সমালোচনাও করেছেন। তাদের মতে, ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি এতটা সরলীকরণ করা উচিত নয় এবং এটি অনেক মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্মীয় অনুভূতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা আধুনিক সমাজের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ধর্মীয় অনুভূতি একটি সংবেদনশীল বিষয়। কিন্তু ‘অনুভূতিতে আঘাত’—এই ধারণাটি যদি স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত না হয়, তাহলে এটি সহজেই অপব্যবহারের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

তাদের মতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত অনুভূতির ভিত্তিতে সহিংসতার বৈধতা দেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সমাজ—উভয়েরই দায়িত্ব রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশেই এই ধরনের বিতর্ক রয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করতে হয়। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই সহিংসতা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ ঘিরে সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে এই ধরনের অভিযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক সময় তা বাস্তব যাচাইয়ের আগেই উত্তেজনা তৈরি করে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল আচরণ, তথ্য যাচাই এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষার মাধ্যমে সহনশীলতা ও যুক্তিবোধের চর্চা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

সৈয়দ তারিকের বক্তব্য নতুন কোনো বিতর্ক তৈরি করেনি, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি সংবেদনশীল আলোচনাকে আবার সামনে এনেছে। তার কথায় যেমন প্রশ্ন আছে, তেমনি আছে আত্মসমালোচনার আহ্বান।

সমাজের একটি অংশ তার বক্তব্যে সমর্থন জানালেও অন্য অংশের ভিন্নমতও স্পষ্ট। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের আলোচনা একটি সুস্থ ও সহনশীল সমাজ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয়—যেখানে মতভেদ থাকবে, কিন্তু সহিংসতার জায়গা থাকবে না।

জে.এস/

সৈয়দ তারিক

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250