ছবি: সংগৃহীত
ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনায় কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ের সামনে গতকাল শুক্রবার (২৯শে আগস্ট) বিজেপি ও কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। রাজ্যের দরভঙ্গায় কংগ্রেসের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে কটূক্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পর এ সংঘর্ষ বাধে। মোদিকে কটূক্তির প্রতিবাদে বিজেপি কর্মীরা কংগ্রেসের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করতে গেলে এই সংঘর্ষ বাধে।
দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এতটাই ছিল, দুই পক্ষের সমর্থকেরা লাঠি ও দলীয় পতাকার দণ্ড দিয়ে একে অন্যের ওপর হামলা চালাতে শুরু করেন। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিলেও বেশ কয়েকজন আহত হন। হামলায় কংগ্রেসের কার্যালয়ের আঙিনায় রাখা কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।
ঘটনার সূত্রপাত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ২৭শে আগস্ট সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। এতে দেখা যায়, কংগ্রেসের পতাকা গায়ে জড়ানো এক ব্যক্তি মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে কটূক্তি করছেন। পরে তার কাছ থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
বিজেপি এ ঘটনায় দুটি অভিযোগ করেছে। একটি পাটনার কোতোয়ালি থানায় দলের কংগ্রেসের মিডিয়া ইনচার্জ দানিশ ইকবালের বিরুদ্ধে, আরেকটি দরভঙ্গার সিমরি থানায় জেলা সভাপতি আদিত্য নারায়ণ চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
বিজেপির বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিহার রাজ্য সরকারের মন্ত্রী নীতিন নবীন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে এসেছিলাম। কিন্তু কংগ্রেস কার্যালয়ের ভেতর থেকে আমাদের দিকে ইট ছোড়া হয় আর বন্দুক দেখানো হয়। বিজেপির কর্মীরা ইট বা বন্দুককে ভয় পায় না। আমাদের মায়ের অপমানের প্রতিশোধ আমরা নেব।’
নীতিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘কংগ্রেস ও আরজেডির নেতাদের বলছি, আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করবেন না। বিহারে আপনাদের চলাফেরাই কঠিন হয়ে যাবে।’
অন্যদিকে কংগ্রেসের নেতা ও লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘মিথ্যা আর সহিংসতা কখনোই সত্য ও অহিংসার সামনে টিকতে পারবে না। যতই মারুন বা ভাঙুন, আমরা সংবিধান ও সত্যকে রক্ষা করে যাব।’
ডিএসপি (ল অ্যান্ড অর্ডার) কৃষ্ণ মুরারি প্রসাদ বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল। কী ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তদন্ত চলছে।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘দরভঙ্গায় ভোটার অধিকার যাত্রায় কংগ্রেস ও আরজেডির মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে যে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমি এর নিন্দা জানাচ্ছি।’
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন