বুধবার, ২রা সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি জ্বালানিমন্ত্রী টুকু *** লঘুচাপে টানা বৃষ্টির আভাস, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা *** নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১২৭, নিখোঁজ প্রায় ৪৯০০ *** আনন্দবাজার পত্রিকার দপ্তরে হিন্দুত্ববাদীদের হামলার কারণ কী, গেরুয়া ‘গুন্ডামি’ শিরোনাম ঘিরে কেন উত্তেজনা *** পশ্চিমবঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার দপ্তরে হামলা হিন্দুত্ববাদীদের *** জামায়াতে যোগ দিলেন বিএনপি নেতা, সাবেক বিচারপতি, সেনা কর্মকর্তাসহ ৬০৫ জন *** যন্তর মন্তর থেকে জামা মসজিদ, কী চায় ভারতের জেন-জি *** মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ, ইরান, মিসর যোগ দিলে কী হবে *** যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা নিয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে ভিন্নতা *** মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজির মরদেহ উদ্ধার

মেয়ের ভেসে যাওয়ার মুহূর্তটি স্মরণ করলেন অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা মনীষার বাবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, ২রা সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৬০ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করা হয় পাঁচ বছরের মনীষাকে। ছবি: সিএনএন

নেপালের হিমালয়সংলগ্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ধসে তছনছ হয়ে গেছে অসংখ্য পাহাড়ি গ্রাম। ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর সিএনএনের সাংবাদিক উইল রিপলির ক্যামেরায় উঠে এসেছে পাঁচ বছর বয়সী মনীষার অলৌকিক ও আবেগঘন বেঁচে ফেরার গল্প।

মনীষার বাবা জানান, ঘটনার দিন সকালে তিনি ছোট মেয়ে মনীষাকে নাশতা করিয়ে কাজের জন্য মাঠে যাচ্ছিলেন। বাড়ি থেকে তার বের হওয়ার ঠিক কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এক বিকট শব্দে আকস্মিক বন্যা ও ধস নেমে আসে। তিনি বাড়ির দিকে ছুটে আসেন, কিন্তু সেখানে আর কোনো বাড়ির অস্তিত্ব ছিল না।

কয়েক ঘণ্টা পর যখন মনীষার বাবা তার স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হন, মেয়ের শোকে তারা দুজন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং চেতন হারান। ততক্ষণে তারা ধরে নিয়েছিলেন, তাদের আদরের পাঁচ বছরের ছোট মেয়েটি আর বেঁচে নেই।

কিন্তু মনীষা নিজের ভেঙে পড়া বাড়ির নিচে নয়, বরং ধসের তোড়ে ভেসে গিয়ে আরও দুটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছিল। সেখানে অলৌকিকভাবে একটি ছোট ‘এয়ার পকেট’ (বাতাস চলাচলের ফাঁকা স্থান) তৈরি হওয়ায় সে টানা ৬০ ঘণ্টা ধরে অন্ধকার ও ধুলাবালুর মধ্যে শ্বাস নিতে পেরেছিল।

দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারীরা যখন ওই এলাকায় জীবিত মানুষের সন্ধান করছিলেন, তখন ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ক্ষীণ শব্দ শুনতে পান তারা। প্রথমে তারা ভেবেছিলেন, কোনো বিড়াল হয়তো আটকে আছে। কিন্তু সাবধানে প্রায় দুই ঘণ্টা মাটি ও ইট-পাথর সরানোর পর তারা নিশ্চিত হন, এটি কোনো প্রাণী নয়, একটি ছোট্ট শিশু!

উদ্ধারের সময় মনীষার শরীর মারাত্মক ক্ষতবিক্ষত ছিল এবং তার মুখ চেনা যাচ্ছিল না। খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে হেলিকপ্টার না আসায় উদ্ধার ক্যাম্পে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ভাতের মাড় খেতে দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে কাঠমান্ডুর টিচিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মেয়ে বেঁচে আছে বা উদ্ধার হয়েছে, তা মা-বাবা জানতে পেরেছিলেন ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া উদ্ধার অভিযানের একটি ভিডিও দেখে। ভিডিওতে নিজেদের সন্তানকে চেনার পর মনীষার বাবা শুধু বলেছিলেন, ‘ও আমার বাচ্চা...এরচেয়ে বেশি কিছু আমি বলতে পারছি না।’

হাসপাতালে মা-বাবার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর মনীষা তার মায়ের কাছে আকুতি জানিয়ে কেঁদে বলে, ‘বন্যা এসে আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, আমি মা, বাবা বলে চিৎকার করে ডেকেছি...তোমরা কেন আমাকে বাঁচাতে এলে না?’

মনীষার বাবার চোখে তখন অশ্রু, কিন্তু বুকে জড়িয়ে ধরা সন্তানকে জীবিত দেখে তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নেপাল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250