আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রভাব বিস্তার করছে চীন, অন্যদিকে বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ব্যাখ্যাও উপস্থাপন করছে। এমনই একটি বিষয় হলো মানবাধিকার।
ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সূচকে নিচের দিকে রয়েছে চীন। পশ্চিমাঞ্চলের নেতিবাচক মন্তব্যে অতিষ্ঠ হয়েই হয়তো বর্তমানে এদেশ মানবাধিকার বিষয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
জুনের মাঝামাঝি, চীন বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার বিষয়ক একটি সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে প্রায় ১০০ টি দেশের ৩০০ জনেরও বেশি পণ্ডিত, জাতিসংঘের কর্মকর্তা এবং বিশেষজ্ঞরা এবং দেশগুলোর বেসরকারি সংস্থাগুলো তাদের মতামত ব্যক্ত করে। তারা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও কীভাবে মানবাধিকারকে উন্নীত করা যায় এ বিষয়ে আলোচনা করে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মেলনে একটি বিশেষ বার্তা পাঠিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার শাসন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এ সময়ে চীন সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করে নিরাপত্তাসহ মানবাধিকার রক্ষার পক্ষে দাঁড়িয়েছে। সকল দেশকে শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথ অনুসরণ করার এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগকে কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে শি বলেন, চীন পারস্পরিক সম্মান ও সমতার চেতনায় সহযোগিতার সাথে মানবাধিকারের অগ্রগতির জন্য সর্বদা প্রস্তুত।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন যে চীন জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলমানদের সাথে কীভাবে আচরণ করে সে সম্পর্কে পশ্চিমা অভিযোগের বিপরীতে তিনি মানবাধিকারের প্রচারেই বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, তার দেশ ভিয়েনা ঘোষণা ও কর্মসূচীতে বর্ণিত নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করতে প্রস্তুত।
সম্মেলনের থিম ছিল, "সমতা, সহযোগিতা এবং উন্নয়ন: ভিয়েনা ঘোষণা ও কর্মসূচীর ৩০ তম বার্ষিকী এবং গ্লোবাল হিউম্যান রাইটস গভর্নেন্স"। স্টেট কাউন্সিলের তথ্য অফিস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি যৌথভাবে এটি আয়োজন করে।
সম্মেলনে উন্নয়নশীল দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ এবং কর্মকর্তারা মানবাধিকার উন্নয়নে বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচনে চীনের অর্জনের প্রশংসা করেন।
চীনের ভাইস পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মা ঝাওসু বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো মানবাধিকার বিষয়ে তাদের দেশের ত্রুটিগুলোর দিকে নজর না দিয়ে অন্যদের দিকে আঙ্গুল তোলে।
নানকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ হিউম্যান রাইটসের অধ্যাপক এবং পরিচালক, চ্যাং জিয়ান বলেন, এ সম্মেলনের অর্থ পশ্চিমা দেশের বিরোধিতা নয়, বরং চীন, বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো, মানবাধিকারের বিষয়বস্তু প্রচার এবং অনুশীলনের লক্ষ্যে কাজ করতে চায়।
প্রেসিডেন্ট শি সম্মেলনে বলেন, চীন উন্নয়নের সাথে মানবাধিকারের প্রচার, বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগকে কার্যকর করার এবং তাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের সাথে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে সমস্ত দেশের মানুষের মানবাধিকারের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে।
আই. কে. জে/