মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বাংলাদেশকে পণ্য উৎপাদনভিত্তিক কেন্দ্র করতে চায় চীন: বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন *** বাসভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত, প্রজ্ঞাপন আজ *** জাপানে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাতে ৪ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৬ *** ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন হবে চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলের মরদেহ *** দেশে বীজের বার্ষিক চাহিদা ১৩ লাখ, পরীক্ষিত ৩০ শতাংশ *** বুধবার থেকেই বিশ্বজুড়ে বন্ধ হয়ে যাবে ইরানের সব এয়ারলাইন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি *** রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুতিনের দলের *** ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা ৩ মার্কিন সংবাদমাধ্যমের, টেলিভিশন ‘পুল’ কভারেজ স্থগিত *** বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ কত শক্তিশালী হবে, গরম কমবে কি *** ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের যে এলাকায় হাটে বিক্রি হয় রেডিমেড ঘর

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০১:২৩ অপরাহ্ন, ১৯শে নভেম্বর ২০২৩

#

ছবি: সংগৃহীত

ঘর আবার রেডিমেড, কথাটি শুনলেই হাজারটা প্রশ্ন মনে ঘুরাঘুরি করে। যেমন: স্থানান্তরযোগ্য হয় নাকি?  কিভাবে বিক্রি হয় ইত্যাদি। একটু অবাক লাগলেও তিন যুগ আগে থেকেই কিন্তু বাংলাদেশে রয়েছে এটি। নদীভাঙনের হাত থেকে বাসস্থানকে বাঁচাতে বহনযোগ্য ঘরের চিন্তাটা শুরু। তবে এখন শুধু নদীভাঙন নয়, স্থানান্তরের সুবিধা, নান্দনিক ডিজাইন আর সাশ্রয়ের কথা ভেবে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন এ ধরনের ঘর।

এই ঘরগুলো মূলত কাঠ আর টিনের তৈরি। আশপাশে নদী ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিলে দু-একদিনের মধ্যেই ঘরগুলো খুলে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা যায়। মূলত পদ্মার পাড়ে মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কাঠের বহনযোগ্য ঘরের দেখা মেলে।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় এই ঘরগুলো তৈরি হয়ে থাকে। তবে এখন মুন্সীগঞ্জ সদর, টঙ্গীবাড়ী, সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারসহ রাস্তার পাশেও গড়ে উঠেছে এসব ঘর বিক্রির হাট। আগে এসব ঘর তৈরিতে সাধারণত কাঠ আর টিন ব্যবহার করা হতো। জানালা, গ্রিল বা দরজার ফ্রেমে ভেতরে ও বাইরে খুব বেশি নকশা খোদাই করা হতো না। তবে সময়ের সঙ্গে নকশায় এসেছে পরিবর্তন।

আরো পড়ুন : বিশ্বে প্রকাশনায় ছাপানো প্রথম বই

আগে ঘরগুলোকে স্থায়ী করার জন্য ব্যবহার করা হতো মিয়ানমারের লোহা কাঠ। এই কাঠগুলো পোকা যেরকম নষ্ট করতে পারে না, তেমনি পানিতেও খুব একটা নষ্ট হয় না। ভালো থাকে অনেকদিন। তবে বাংলাদেশে এখন মিয়ানমারের লোহা কাঠের অপ্রতুলতা থাকায় নাইজেরিয়া থেকে আমদানি করা হয় কাঠ। এতেও ঘর হয় বেশ মজবুত আর স্থায়ী। এছাড়া সেগুন, শাল, বাচালু, কড়ই ও ওকান কাঠের ঘরের চাহিদাও রয়েছে।

আগে চারপাশে শুধু সাদা ঢেউটিন ব্যবহার করা হলেও এখন ঘরের চালে এবং নকশায় বিভিন্ন রঙিন টিন ব্যবহার করা হয়। কাঠ ও টিন দিয়ে তৈরি এসব ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস অনায়াসে প্রবেশ করেতে পারে। আবহাওয়ার সঙ্গে ঘর দ্রুত ঠাণ্ডা ও গরম হয়।

টিন ও কাঠ দিয়ে নির্মিত ঘরগুলো একচালা, দোচালা, চৌচালা হয়ে থাকে। আর যারা একটু সামর্থ্যবান তারা বানিয়ে নেন দোতলা বা তিনতলা ঘর।

রেডিমেড ঘর ব্যবসায়ীরা জানান, 'হাটে ৩ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত দামে ঘর বিক্রি হয়। আবার অনেকেই বাড়িতে কাঠমিস্ত্রি নিয়ে পছন্দমত ঘর বানিয়ে নেন। সেক্ষেত্রে খরচটা কম-বেশি হতে পারে। তবে যত খরচ মালিক করবে, ততই ঘর সুন্দর হবে।'

ঘরের স্থায়িত্বের কথা জানতে চাইলে তারা জানান, 'এই ঘরগুলো ৯০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হবে।

মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এই দৃষ্টিনন্দন ঘরগুলো আর ওই জেলাতেই শুধু নয়, সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে গেছে। অনেক শৌখিন ব্যক্তি এই কাঠের ঘরের দিকে ঝুঁকছেন। খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, সেন্টমার্টিনের অনেক রিসোর্টে কটেজ আকারে, রেস্ট্রুরেন্ট, পিকনিক স্পটে এই ঘরগুলো শোভা বাড়াচ্ছে।

এস/ আই. কে. জে/


রেডিমেড ঘর হাটে বিক্রি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250