শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান *** রুয়েটের বাসে প্রধানমন্ত্রী, ‘স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যের জেরে আইনের আওতায় বাবা-ছেলে *** প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা, মিরপুরে গ্রেপ্তার ১ *** প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় রাখার সিদ্ধান্ত *** মাজারের সিন্দুক ও মসজিদের দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরি *** এআই-ছবি ছড়িয়ে ঘৃণা উসকে দেওয়া সব ধর্মের জন্য অবমাননাকর: রুমিন ফারহানা *** সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর গুলি, ৩ হাজার পর্যটক উদ্ধার *** সাজেককে ঘিরে ‘কী হচ্ছে’, প্রশ্ন শফিকুর রহমানের *** সৌদি আরবে ১২ বছরে ২০৮৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ১০০ *** সারোগেসি পদ্ধতিতে প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় নেদারল্যান্ডসের প্রথম সমকামী প্রধানমন্ত্রী

নানা পাটেকর কেন নিজের সৎকারের কাঠও প্রস্তুত করে রেখেছিলেন

বিনোদন ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন, ১০ই অক্টোবর ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে বিনোদন জগতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার ৭৫ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই গুণী অভিনেতা।

তার মৃত্যুর পর চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র জগতের বহু সহকর্মী শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এর মধ্যে জনপ্রিয় তারকা আলোকচিত্রী অতুল কাসবেকরের একটি আবেগঘন স্মৃতিচারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে অতুল কাসবেকর নানা পাটেকরের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, পুনের কাছে অভিনেতার খামারবাড়িতে কাটানো মুহূর্ত এবং নানা পাটেকরের অত্যুচ্চ ব্যক্তিত্ব ও অনন্য রসবোধের স্মৃতিকথা তুলে ধরেছেন।

নানা পাটেকরের ব্যক্তিত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে অতুল কাসবেকর লেখেন, ‘নানা সাহেব। কী অসাধারণ একজন মানুষ ছিলেন, আর কী অপূরণীয় ক্ষতি! তার সঙ্গে আমার দারুণ উষ্ণ সম্পর্ক ছিল। প্রায়ই দেখা হতো না, কিন্তু যখনই দেখা হতো মনে হতো যেন গতকালই সাক্ষাৎ হয়েছে।’

একজন মারাঠি হিসেবে আলোকচিত্র জগতে নিজের স্থান তৈরি করায় নানা পাটেকর তাকে নিয়ে গর্ব বোধ করতেন বলে জানান অতুল। তিনি বলেন, ‘তার মুখে সব সময়ই উষ্ণ অভ্যর্থনা থাকত, এর সঙ্গে যোগ হতো তার ট্রেডমার্ক কটু কিন্তু চমৎকার রসবোধ।’

নিজের চিত্রপ্রদর্শনী ‘অনেস্ট: পোর্ট্রেটস অব ক্যারেক্টার’-এর জন্য নানা পাটেকরের ছবি তোলার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে অতুল লেখেন, ‘তিনি আনপ্রেডিকটেবল, তীব্রভাবে উপস্থিত ও অত্যন্ত ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী ছিলেন। নানা সাহেব কোনো কক্ষে সাধারণ মানুষের মতো প্রবেশ করতেন না, মনে হতো পুরো ঘরটার নিয়ন্ত্রণ তিনি একাই নিয়ে নিয়েছেন।’

ছবি তোলার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অতুল জানান, শুটিংয়ের আগে নানা পাটেকরের প্রথম উদ্বেগ ছিল সেটের সবার খাবারের বন্দোবস্ত করা।

‘তার প্রথম প্রশ্ন ছিল কতজন লোক আসছে। ক্রু মেম্বারের সংখ্যা নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিলেন না, তার চিন্তা ছিল সবাই যেন দুপুরের খাবার খায়। আর সে কী রাজকীয় ভোজ! সহকারী, স্পট বয় থেকে শুরু করে ড্রাইভার—সবাইকে তার মূল ডাইনিং টেবিলে বসানো হয়েছিল। নানা সাহেব নিজে হেঁটে হেঁটে অতিরিক্ত রুটি আর তার বিখ্যাত খাসির মাংস পরিবেশন করছিলেন।’ যোগ করেন অতুল।

অভিনেতার এই উদারতার প্রশংসা করে অতুল লেখেন, ‘কোনো সামাজিক অনুক্রম ছিল না, কোনো আড়ম্বর ছিল না। যে মানুষটি চোখের এক ভ্রু তুলে পুরো ফিল্ম সেটকে স্তব্ধ করে দিতে পারতেন, তার কাছ থেকে এই অসাধারণ উদারতা সত্যিই বিরল।’

স্মৃতিচারণে অতুল কাসবেকর নানা পাটেকরের শরীরচর্চা ও এক ব্যতিক্রমী রসবোধের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, কোনো ধরনের ওয়ার্ম-আপ ছাড়াই নানা পাটেকর কাসবেকরকে তার জিমে এক ডজন ট্রাইসেপ ডিপস করে দেখান।

তবে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটেছিল যখন নানা পাটেকর তাকে নিজের সৎকারের জন্য জমিয়ে রাখা কাঠের স্তূপ দেখান।

অতুলের ভাষায়, ‘একটি বিষাদময় কিন্তু অসাধারণ রসাত্মক মুহূর্তে তিনি আমাকে নিজের সৎকারের জন্য প্রস্তুত করে রাখা শুকনা কাঠের স্তূপ দেখান। তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন, কাঠ ভিজা থাকলে ধোঁয়া হয়, আর তিনি চান না তার সৎকার অনুষ্ঠানে এসে ধোঁয়ার কারণে মানুষ অঝোরে কাঁদুক! কেবল নানা সাহেবের পক্ষেই নিজের দাহ অনুষ্ঠানকে একটি কমেডি রুটিনে রূপ দেওয়া সম্ভব।’

নানা পাটেকরের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অতুল লেখেন, ‘তিনি ছিলেন একজন সবকালে প্রাসঙ্গিক অভিনেতা, একটি প্রজন্মের কণ্ঠস্বর এবং এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। সেই ভয়াল বা ভীতিপ্রদ বাহ্যিক রূপের নিচে একজন অত্যন্ত উদার ও খাঁটি মানুষ বাস করতেন।’

তিনি আরও লেখেন, ‘তার এই চলে যাওয়া ব্যক্তিগত ক্ষতের মতো মনে হচ্ছে। আমি যে তার পোর্ট্রেট তুলতে পেরেছিলাম তার জন্য সম্মানিত, তবে তার চেয়েও বেশি কৃতজ্ঞ তার সঙ্গে কাটানো সময়, কথোপকথন ও হাসিমুখের স্মৃতিগুলোর জন্য। মালহার, নীলু জি এবং তার সব প্রিয়জনের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা।’

গতকাল ভোরে গোয়ার দোনা পাওলায় নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়েন নানা পাটেকর। ভোর প্রায় সাড়ে ৪টায় তাকে অচেতন অবস্থায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করলেও সকাল ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় জগতে আত্মপ্রকাশ করা নানা পাটেকর ‘পারিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’ ও ‘অগ্নিসাক্ষী’র মতো চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৩ সালে তাকে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’তে ভূষিত করা হয়।

নানা পাটেকর

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250