মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** নেপালের সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান *** নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন মাহফুজ আনাম *** কলকাতায় গ্রেপ্তার ফয়সাল ও আলমগীরের সাক্ষাৎ চায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন *** ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিশুদ্ধ আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করাই এখন প্রধান লক্ষ্য’ *** হাদি হত্যা মামলায় ভারতে গ্রেপ্তারদের দেশে আনার চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** মাদক মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর বেকসুর খালাস *** জুমার সঙ্গে হাদির খুনির ছবি, যা জানাল দ্য ডিসেন্ট *** আড়াল থেকে সর্বোচ্চ নেতা, কে এই মুজতবা খামেনি *** ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিষয়ে ভারতের কাছে কনস্যুলার সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী *** ঢাবিতে ছাত্রলীগ করার অভিযোগে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীকে মারধর, হাসপাতালে ভর্তি

নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন মাহফুজ আনাম

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ১১:৫৪ অপরাহ্ন, ৯ই মার্চ ২০২৬

#

ফাইল ছবি

একাত্তরের যে দিনটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠের ঘোষণায় স্বাধীনতার বার্তা ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের প্রতিটি প্রান্তে, ইতিহাসের বাঁক বদলে দেওয়া সেই ৭ই মার্চ এবারো এসেছে ভিন্ন বাস্তবতায়। আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে ৭ই মার্চ উদযাপনের পর সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে যে ছেদ পড়ছিল, বিএনপির নতুন সরকারেও তা কাটেনি।

এমন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ সামনে রেখে ডেইলি স্টারের ছাপা সংস্করণে প্রখ্যাত সাংবাদিক মাহফুজ আনাম লেখেন 'দ্য স্পিচ দ্যাট এমবোল্ডেনড আস অল' শিরোনামে একটি উপসম্পাদকীয়। সেই ভাষণ নিয়ে লেখা তার কলামের ওপরে একইদিন (শনিবার, ৭ই মার্চ) ‘দ্য থার্ড ভিউ’ পডকাস্টে দ্য ডেইলি স্টারের ডিজিটাল এডিটর তানিম আহমেদের সঙ্গে মাহফুজ আনাম কথা বলেন। অভিজ্ঞতা থেকে স্মরণ করেছেন—কীভাবে সেদিন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সবাইকে সাহসী করে তুলেছিল।

এবার ৭ই মার্চ সামনে রেখে সম্পাদক হিসেবে শুধু মাহফুজ আনামই এ বিষয়ে কলামে লিখেছেন। এছাড়া দেশের অন্যান্য সংবাদমাধ্যমগুলো বিষয়টি প্রায় এড়িয়ে গেছে। ডেইলি স্টারের ইউটিউব চ্যানেল থেকে মাহফুজ আনামের ‘দ্য থার্ড ভিউ’তে দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশ-বিদেশের নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন দেশের অন্যতম সেরা তারকা সাংবাদিক ও সম্পাদক মাহফুজ আনাম। 

নেটিজেনরা বলছেন, স্বাধীনতার ইতিহাসে ৭ই মার্চের ভাষণ কেন্দ্রীয় ঐতিহাসিক ঘটনা। এই ভিডিওতে ডেইলি স্টারের সম্পাদক-প্রকাশক মাহফুজ আনাম সেই ভাষণের তাৎপর্য, প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য দিয়েছেন। তার বক্তব্যে মূলত তিনটি বিষয় প্রধান হয়ে ওঠে—ঐতিহাসিক স্মৃতি, রাজনৈতিক ঐক্য এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন।

ভিডিওতে মাহফুজ আনামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হলো—বাংলাদেশে নানা রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং তার মৌলিক মূল্যবোধ যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। তার মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জাতির অস্তিত্বের ভিত্তি এবং এটি নিয়ে বিভাজন তৈরি হলে রাষ্ট্রের আদর্শিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

এই অবস্থান থেকে তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কে বিভিন্ন মত থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে একটি জাতীয় ঐকমত্যের জায়গায় রাখা প্রয়োজন।

বক্তব্যে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন—৭ই মার্চের সমাবেশের সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং সেই মুহূর্তের আবেগ ও উত্তেজনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তার মতে, সেই দিন জনতার মধ্যে যে সাহস ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল, তা পরবর্তী স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা বা রাজনৈতিক ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। এর ফলে জাতীয় ইতিহাসকে দলীয় রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে টেনে আনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

নেটিজেনদের মতে, সব মিলিয়ে ভিডিওতে মাহফুজ আনামের বক্তব্য মূলত ইতিহাসের পুনঃমূল্যায়ন নয়, বরং ইতিহাসের মৌলিক ঐকমত্য বজায় রাখার আহ্বান। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭ই মার্চের ভাষণকে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ধরে রাখা জরুরি।

পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভিডিওর বক্তব্যে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ মূলত ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ এবং তার রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে কথা বলেছেন।

মাহফুজ আনাম বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে ১৯৭১ সাল এবং বিশেষ করে ৭ই মার্চের ভাষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ দেন, তা বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করেছিল।

তিনি বলেন, ওই ভাষণের মাধ্যমে বাঙালি জাতি একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পায়—কীভাবে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে এবং স্বাধীনতার পথে এগোতে হবে। ইতিহাসবিদদের মতে, এই ভাষণ কার্যত স্বাধীনতার ঘোষণার রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করেছিল। ভাষণটি মানুষের মনে সাহস ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছিল।

তিনি বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণ শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তৃতা ছিল না—এটি মানুষের মনে সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং ঐক্যের শক্তি তৈরি করেছিল। ভাষণ শোনার পর মানুষ বুঝতে পারে যে, সামনে বড় সংগ্রাম আসছে এবং সেই সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এর ফলে দেশজুড়ে প্রতিরোধের মানসিকতা তৈরি হয়।

মাহফুজ আনাম উল্লেখ করেন, তখন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুবই অনিশ্চিত ছিল। পাকিস্তানি সামরিক শাসকেরা ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চাইছিল না। এই পরিস্থিতিতে ৭ই মার্চের ভাষণ জাতিকে পরিষ্কার দিকনির্দেশনা দেয়—সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া, অসহযোগ আন্দোলন জোরদার করা এবং স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার।

তিনি বলেন, ভাষণটির শক্তি ছিল এর শব্দ, কণ্ঠ, আবেগ এবং রাজনৈতিক বার্তার মধ্যে। বক্তৃতার ছন্দ, মানুষের আবেগকে স্পর্শ করার ক্ষমতা—এসব মিলিয়ে এটি এমন একটি ভাষণ হয়ে ওঠে, যা পুরো জাতিকে উদ্দীপ্ত করেছিল।

ভিডিওর একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো—১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। মাহফুজ আনাম বলেন, ১৯৭১ বাংলাদেশের সবার ইতিহাস। এটি কোনো এক দলের সম্পত্তি নয়। একাত্তর জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি হওয়া উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আমাদের উচিত ১৯৭১-এর চেতনাকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখা।১৯৭১-এর ইতিহাস দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত।

তিনি মনে করেন, নতুন প্রজন্মকে ৭ই মার্চের ভাষণ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানো জরুরি। কারণ এই ইতিহাস জানলে তারা বুঝবে—স্বাধীনতা কীভাবে এসেছে, কত ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে, জাতীয় পরিচয় কীভাবে গড়ে উঠেছে।

মাহফুজ আনাম তার বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। এই ভাষণের মাধ্যমে তৎকালীন রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বাঙালি জাতি একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পায়। ভাষণে উচ্চারিত 'এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'—এই আহ্বান জনসাধারণকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করে তোলে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ভাষণটি কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না; বরং এটি ছিল এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের আহ্বান, যা সমগ্র জাতিকে এক লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করেছিল।

মাহফুজ আনাম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250