ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার দেওয়া একটি বক্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরকারি দল বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে দেওয়া ওই বক্তব্য ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে সংসদ সদস্য বলেন, ‘তিনি (বিএনপি প্রার্থী) আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যান্ডিডেট ছিলেন। তিনি বক্তব্য দিয়ে বলেছেন, বিএনপিকে নিয়ে খোঁচাখুঁচি কইরেন না! আরে আমি হানজালা বিএনপিকে খোঁচাখুঁচি করলে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না।’
গত শুক্রবার বাহাদুরপুরে এক ইফতার মাহফিলে হানজালা এ বক্তব্য দেন। রাতেই বক্তব্যটি হানজালা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করলে মুহূর্তে সেটি ছড়িয়ে পড়ে। পরে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার শিবচর উপজেলার বাহাদুরপুর মাঠে কুয়েত রিলিফ সোসাইটির তত্ত্বাবধানে ও বাংলাদেশ উন্নয়ন সমিতির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১১-দলীয় জোটের স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। তখন প্রধান অতিথির বক্তব্যের এক পর্যায়ে শিবচর উপজেলা বিএনপির উদ্দেশে নানা ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বক্তব্য দেন তিনি।
ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ভিডিওতে সংসদ সদস্য হানজালাকে বলতে শোনা গেছে, ‘এ দেশের প্রবাসী ভাইয়েরা আমাদের বিশ্বাস করেছেন। এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ আমাদের বিজয়ী করেছে। এ জন্য আমাদের জমা-খরচ দিয়ে রাজনীতি করতে হবে—বিষয়টি এ রকম নয়। আমি গত কয়েক দিন যাবৎ ভালোমতো খেয়াল করেছি, আমাদের কিছু ভাইয়েরা খুব লেখালেখি করছেন এবং খুব কথা বলছেন, তারা অন্য কেউ নয়, তারা শিবচরের বিএনপির ভাইয়েরা। কিন্তু আমি তাদের একটি কথা বলতে চাই, আপনারা কি এটা মনে করছেন না, আমি হানজালা নির্বাচিত হবার পর আমার একটা নেতৃবৃন্দও কারও সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি। আমার একটা নেতৃবৃন্দ হুমকি-ধমকি দেয় নাই! আমি হানজালা এমপি হবার আগে আমার কতটুকু পাওয়ার (শক্তি) ছিল, এই শিবচরের মাটিতে তা আপনারা দেখেন নাই? তাহলে আপনারা কী মনে করছেন? আমি চুপ করে আছি, কারণ আমি শান্তি চাই। আমি শিবচরের প্রত্যেকটা মানুষকে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমি শিবচরের প্রতিটি সদস্যকে নিয়ে কাজ করতে চাই।’
শিবচর বিএনপির উদ্দেশে হানজালা আরও বলেন, ‘আপনারা (বিএনপির নেতারা) রাজনীতি করেন শিবচর উপজেলা নিয়ে, হানজালা রাজনীতি করে পুরো বাংলাদেশ নিয়ে। আপনারা চিল্লাচিল্লি করবেন ক্লাবে-খেতে, হানজালা চিল্লাচিল্লি করবে বাংলাদেশের পার্লামেন্টে। তাহলে আমি শান্তি চাই। আমার চুপ করে থাকা মানে বারবার বলছি, এটা কোনো দুর্বলতা নয়। আমি নতুনত্বের রাজনীতি চাই। আমি শিবচরে কোনো প্রতিহিংসা আধিপত্যের রাজনীতি আগামীতে দেখতে চাই না। এ জন্য বলছি, আসুন ভালোবাসা দিয়ে কাজ করি, আসুন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি।’
ভিডিওতে সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘আমার জায়গায় যদি আজকে অন্য কেউ হতো, তাহলে আপনাদের বাড়িঘরে কাউকে থাকতে দিত না। আমার জায়গায় যদি অন্য কেউ হতো, কাউকে ঠিকমতো চলতে দিত না, বাড়িঘর থেকে বের হতে দিত না। আমি আপনাদের বাক্স্বাধীনতা দিয়েছি। আমার নামে লেখালেখি (সামাজিক মাধ্যমে) করবেন, আমি সেই স্বাধীনতা শিবচরের মানুষকে দিয়েছি। আগের এমপির বিরুদ্ধে এ দেশের একজনও কেউ কলম ধরতে পারে নাই। আমি শিবচরের মানুষকে সেই বাক্স্বাধীনতা দিয়েছি।’
জানতে চাইলে সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা মুঠোফোনে সুখবর ডটকমকে বলেন, ‘আসলে শিবচরে আমি নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আমার কোনো লোক এ পর্যন্ত কারও সাথে কোনোরূপ খারাপ আচরণ করেনি। এই সুযোগও আমি দেব না। সেখানে বিএনপির লোকজন আমার লোকজনকে হুমকি দেয়। আমাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমি একটা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কথাটা বলেছি। মূলত বিএনপি বলতে শিবচর বিএনপিকে বুঝিয়েছি। অনেকে আমার বক্তব্য কেটে কেটে সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’
হানজালা আরও বলেন, ‘বিএনপির নেত্রী (নাদিরা আক্তার) একটি অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “আমি নাকি বিএনপি নিয়ে খোঁচাখুঁচি করি।” আসলে ওই বক্তব্যের প্রতিবাদেই আমরা বক্তব্য দেওয়া। তবে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না বলতে দেশকে বোঝানো হয়নি। কথার পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়েছে।’
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. সোহেল রানা বলেন, ‘শিবচরের বর্তমান এমপি এবং তার পরিবার ৫ই আগস্টের আগে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সাথে ছিলেন। আসলে উনি যেটা চাচ্ছেন, তা হলো শিবচরে উগ্রবাদী রাজনীতির উত্থান ঘটানো। শিবচরে যে শান্তিপূর্ণ ও শান্ত সামাজিক পরিবেশ রয়েছে, তা উত্তপ্ত করার অভিপ্রায় হিসেবেই তিনি শিবচর বিএনপিকে নিয়ে এ ধরনের বিরূপ মন্তব্য করেছেন বলে আমি মনে করি। আশা করছি, তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেবেন। শান্তিপূর্ণভাবে এ বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও শিবচর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া হবে।’
খেলাফত মজলিশের রিকশা প্রতীক নিয়ে সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা চৌধুরীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। তিনি মাত্র ৩৮৫টি ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যা সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে কম ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হওয়া। হানজালা হাজী শরীয়ত উল্লাহ (র.)-এর সপ্তম পুরুষ।
খবরটি শেয়ার করুন