শনিবার, ১৪ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর *** আমস্টারডামে ইহুদি স্কুলে বিস্ফোরণ *** ‘জামায়াত-এনসিপি অসভ্যতা করবে, এটাই স্বাভাবিক’ *** হাদি হত্যা: ফয়সালকে পালাতে ‘সাহায্যকারী’ ফিলিপ সাংমা পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার *** নিষেধাজ্ঞা কাটাতে আন্তর্জাতিক তৎপরতা, নির্বাচনী রাজনীতিতে শক্তিশালী হয়ে ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ *** রাত থেকে গণপরিবহনে তেল নেওয়ার সীমা থাকছে না: সড়কমন্ত্রী *** তিন মাস পর জামিনে মুক্ত সাংবাদিক আনিস আলমগীর *** হয়তো এখনই নয়, তবে ইরান সরকারের পতন হবেই: ট্রাম্প *** ‘পদত্যাগ ও মেয়াদ পূর্ণ করার কথা—সাহাবুদ্দিন দুটিই বলেন প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিতে’ *** সাধারণ মানুষের প্রশংসায় ‘সাধাসিধা’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

হাদি হত্যা: ফয়সালকে পালাতে ‘সাহায্যকারী’ ফিলিপ সাংমা পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, ১৪ই মার্চ ২০২৬

#

ফাইল ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দুই আসামীকে বাংলাদেশ ছেড়ে পালাতে সাহায্যকারী ফিলিপ সাংমাকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। আজ শনিবার নদিয়া জেলার শান্তিপুর বাইপাস সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফিলিপ সাংমা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তের বাসিন্দা। তিনি টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশের হালুয়াঘাট এবং ভারতের মেঘালয়ের ডালুপাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে লোক পারাপার করাতেন। ওসমান হাদি হত্যার পর মূল অভিযুক্ত ফয়সাল মাসুদ করিম এবং আলমগীর শেখ এই ফিলিপের মাধ্যমেই সীমান্ত পাড়ি দিয়েছিলেন।

এর আগে গত শনিবার বনগাঁ থেকে হাদি হত্যার দুই মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। তাদের জেরা করেই ফিলিপ সাংমার নাম উঠে আসে।

এসটিএফ জানায়, হাদি হত্যার পর বাংলাদেশে তোলপাড় শুরু হলে অভিযুক্তরা ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ফিলিপের সহায়তায় তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর ফিলিপ নিজেও একই পথে ভারতে ঢুকে পড়েন এবং বিভিন্ন স্থানে গা-ঢাকা দিয়ে থাকেন।

এসটিএফের বিবৃতি থেকে জানা যায়, অভিযুক্তরা পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেই সুযোগ পাওয়ার আগেই গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়েন তারা। আজ শনিবার ফিলিপকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত বছরের ১২ই ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছু পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেল থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা।

তাকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ই ডিসেম্বর মারা যান তিনি।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ই ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরে মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা-পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে। তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ই জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

তবে ডিবির দেওয়া চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ই জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

ডিবির দাখিল করা চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে এবং প্রধান আসামি ফয়সালসহ ছয়জন পলাতক রয়েছেন। অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সিআইডি নতুন করে মো. রুবেল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। রুবেলকে দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ইতিমধ্যে দিয়েছেন। পরে তাঁকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ এই মামলায় মোট ১২ জন কারাগারে আছেন।

উল্লেখ্য, ডিবির চার্জশিটে ১৭ আসামির মধ্যে প্রধান আসামি ছিলেন ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন ছিলেন দ্বিতীয়।

শরিফ ওসমান বিন হাদি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250