সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৬ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বাড়ছে হুতিদের হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে ইরানের হুঁশিয়ারি *** জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী *** সাগরে শক্তিশালী হচ্ছে লঘুচাপ, ৬ অঞ্চলে ৬০ কিমি ঝড়ের আভাস *** আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে যেভাবে ছড়াল আগুন *** আশুলিয়ায় কাভার্ড ভ্যান থেকে ৬ লাশ উদ্ধার *** জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথম স্ত্রীসহ থানায় এমপি নজরুল *** সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা *** কমলাপুর রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে আগুন *** শিল্পকলা একাডেমির সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, পল্লবীতে বাসে আগুন *** ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরার এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বলছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৮:১০ অপরাহ্ন, ১২ই জুলাই ২০২৬

#

ফাইল ছবি

ভারতে প্রায় দুই বছর নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তার এই ঘোষণার পর বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা দিলীপ ঘোষ বলেছেন, শেখ হাসিনা একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তার নিজের দেশে ফেরার অধিকার রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে দেশে ফিরে স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে—জেনেও তিনি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। দেশের আদালতে তার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়েছে। তবে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যমগুলোও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে। আজতক বাংলা জানায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেছেন, বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা উদ্বেগজনক। তার ভাষায়, শেখ হাসিনা একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাই নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার অধিকার তার রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন এবং রাজনৈতিক মতভেদ আইনের শাসনের মধ্যেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।

ভারতীয় বাংলা সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে দেখা যায়, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় হিসেবে নয়, বরং ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটেও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন একদিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, অন্যদিকে তার ভারতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, সেটিও নতুন মাত্রা পেতে পারে।

রয়টার্সকে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা করেননি। বাংলাদেশ সরকার যেহেতু তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ভারতের কাছে বারবার অনুরোধ করেছে, তাই তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষায়, বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলে মানুষ নিজেরাই বুঝতে পারবেন সেটি কতটা ন্যায়সংগত।

ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম শেখ হাসিনার এই ঘোষণাকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে চান। পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা শুধু তার ব্যক্তিগত বা দলীয় সিদ্ধান্ত নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম, দলটির ভবিষ্যৎ অবস্থান এবং বিরোধী রাজনীতির গতিপ্রকৃতি—সবকিছুই এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মামলা হয়েছে এবং অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। এ কারণেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সবাই একসঙ্গে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তার মতে, জনগণই শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

শেখ হাসিনার এই ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা প্রকাশ না করতে দেশের গণমাধ্যমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যও তাই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান বিচার বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও, একজন নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিজ দেশে ফেরার অধিকার রয়েছে—এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তার এই মন্তব্য ভারতীয় রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয় কি না, সেটি এখনো অনিশ্চিত। তবে ডিসেম্বরকে সামনে রেখে তার ঘোষণাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর এখন দুই দেশের পরবর্তী কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকে।

শেখ হাসিনা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250