ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে ২৬ বছর ধরে রহস্য হয়ে থাকা এক জেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার অবশেষে সমাধান হয়েছে। উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সৈকতে মানুষের একটি হাড় পাওয়ার পর ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে, সেটি ১৯৯৯ সালে সমুদ্রে নিখোঁজ হওয়া জেলে জোনাথন রাক্সার।
১৯৯৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর ‘সিলভার স্প্রে’ নামের বাণিজ্যিক মাছ ধরার নৌকায় তিন সহকর্মীর সঙ্গে সমুদ্রে ছিলেন ৩৭ বছর বয়সী রাক্সা। হামবোল্ট বে-এর মোহনার কাছে হঠাৎ প্রায় ১৮ ফুট উচ্চতার একটি বিশাল ঢেউ নৌকাটিতে আঘাত করে। ঢেউয়ের আঘাতে নৌকার পাইলটহাউস মূল কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং নৌকাটি দ্রুত ডুবে যেতে শুরু করে।
নৌকার ক্যাপ্টেন আল বার্নস পরে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসকে জানান, ওই মুহূর্তে তার মনে হয়েছিল, তিনি মারা যেতে পারেন। তার দাবি, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার সময় তিনি সহকর্মীদের পানির স্রোতে তলিয়ে যেতে দেখেছিলেন। পরে আরও একটি ঢেউ তাকেও নৌকা থেকে ছিটকে প্রায় ১০০ গজ দূরে নিয়ে যায়। তিনি একটি ভাসমান পাঁচ গ্যালনের তেলের ক্যান আঁকড়ে ধরে ভেসে থাকেন এবং কিছুক্ষণ পর অন্য দুই সহকর্মী তাকে একটি ভেলায় তুলে নেন।
তবে রাক্সার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি ছিলেন তিন সন্তানের বাবা, ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টান ও পেশায় জেলে। নিজের পূর্বপুরুষের দেশ লাওসে একটি ধর্মীয় সফরে যাওয়ার জন্যও তিনি অর্থ সঞ্চয় করছিলেন।
চলতি বছরের মার্চে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্টারভিল বিচে একটি হাড় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়। হামবোল্ট কাউন্টি শেরিফের ডেপুটিরা হাড়টি উদ্ধার করে পরীক্ষা করে সেটিকে মানুষের স্যাক্রাম বা মেরুদণ্ডের নিচের অংশের হাড় হিসেবে শনাক্ত করেন।
পরে হাড়টি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইল রাক্সার পরিবারের ডিএনএর সঙ্গে মিলে যায়।
রাক্সা নিখোঁজ হওয়ার ২৬ বছর পর দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৫ মাইল দক্ষিণে তার দেহাবশেষের একটি অংশের সন্ধান মিলল। পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
হামবোল্ট কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করলে বহু বছর পরও এমন ঘটনার তদন্ত ও পরিচয় শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া সম্ভব।
খবরটি শেয়ার করুন