ছবি: সংগৃহীত
মাঠের একটি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন প্রতিপক্ষের ফুটবলার। সেই ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন গোলরক্ষক হেসুস ওওনো। ড্রেসিংরুমে কেঁদেছেন, প্রার্থনা করেছেন আহত ফুটবলারের সুস্থতার জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি তেনেরিফের স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেলকে। এর মধ্যে মাঠে দর্শকদের কাছ থেকে ‘খুনি’ গালি শুনতে হয়েছে ওওনোকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে গালাগাল ও হুমকি। এমন পরিস্থিতিতে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন এফসি আন্দোরার এই গোলরক্ষক।
সোমবার রাতে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে তেনেরিফের মুখোমুখি হয়েছিল এফসি আন্দোরা। ম্যাচের যোগ করা সময়ে বল বিপদমুক্ত করতে নিজেদের গোলপোস্ট ছেড়ে অনেকটা সামনে এগিয়ে আসেন আন্দোরার গোলরক্ষক ওওনো। একই বলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তেনেরিফের ফরোয়ার্ড দে মিগেল। দুই ফুটবলারের মধ্যে সংঘর্ষ হলে ওওনোর হাঁটু আঘাত করে দে মিগেলের বুকে।
আঘাত পাওয়ার পর মাঠেই লুটিয়ে পড়েন ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলার। দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হলেও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সকালে মারা যান দে মিগেল।
এই ঘটনায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন ওওনো। ম্যাচটিও আর শেষ করা হয়নি। তবে মাঠে সংঘর্ষের ঘটনাটি যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনবে, তা কল্পনাও করেননি নিরক্ষীয় গিনির জাতীয় দলের এই গোলরক্ষক। ঘটনার পর থেকেই ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে, ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে ওওনোকে কাঁদতে ও প্রার্থনা করতে দেখা যায়। দলের সঙ্গে ফেরার পথেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন ২৫ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।
স্প্যানিশ রেডিও স্টেশন 'কাদেনা কোপের' অনুষ্ঠান 'এল পার্তিদাসো দে কোপে'-তে সাংবাদিক ইভান আলভারেস জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে পুরো আন্দোরা দলেই গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রতিপক্ষকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না ওওনোর। বলের দখল নিতে গিয়ে সময়ের ভুল হিসাবের কারণে এমন সংঘর্ষ হয়েছে, যার পরিণতি অত্যন্ত মর্মান্তিক।
তবে সেই ব্যাখ্যায় থামেনি সমালোচনা। তেনেরিফের হেলিওদোরো রদ্রিগেস লোপেস স্টেডিয়ামে সংঘর্ষের পর মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারির একাংশ থেকে ওওনোকে উদ্দেশ করে ‘খুনি, খুনি’ বলে চিৎকার করা হয়।
ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে লক্ষ্য করে গালাগাল ও হুমকিমূলক বার্তা আসতে থাকে। শেষ পর্যন্ত নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন ওওনো।
এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আহত দে মিগেলের শারীরিক অবস্থার খবর নিয়মিত রাখছিলেন তিনি। আন্দোরার দলের প্রতিনিধির পাশাপাশি চিকিৎসাকর্মীদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের ফুটবলারের সর্বশেষ অবস্থা জানার চেষ্টা করছিলেন এই গোলরক্ষক।
শুধু খোঁজখবর নেওয়াই নয়, দে মিগেল ও তার পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করার ইচ্ছাও ছিল ওওনোর।
'কোপের' প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুযোগ বুঝে দে মিগেলের পরিবারের সদস্য কিংবা ঘনিষ্ঠ কারও সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন তিনি। ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ এবং পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিতে চেয়েছিলেন ব্যক্তিগতভাবে।
ওওনোর পরিকল্পনা ছিল, আগে পরিবারের সঙ্গে একান্তে কথা বলবেন। এরপর প্রয়োজন হলে প্রকাশ্যে নিজের বক্তব্য জানাবেন। কিন্তু আজ মঙ্গলবার সকালে দে মিগেলের মৃত্যুর খবরে পরিস্থিতি আরও বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে। ঘটনার পর গভীর শোক প্রকাশ করেছে এফসি আন্দোরাও।
এক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানিয়েছে, ‘হৃদয় ভেঙে গেছে, আমরা বিধ্বস্ত। হেসুস দে মিগেলের পরিবার, তার সতীর্থ, বন্ধু এবং তেনেরিফে ক্লাবের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।’
আন্দোরার প্রধান শেয়ারহোল্ডার ও সাবেক বার্সেলোনা ডিফেন্ডার জেরার্দ পিকেও দে মিগেলের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। স্প্যানিশ ফুটবলে এই মর্মান্তিক ঘটনা গভীর শোকের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে আলোচনায় এসেছে ওওনোর পরিস্থিতিও। মাঠে বলের জন্য লড়তে গিয়ে ঘটে যাওয়া একটি সংঘর্ষের পরিণতিতে প্রাণ হারিয়েছেন একজন ফুটবলার। আর সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গোলরক্ষক এখন শোকের পাশাপাশি সামলাচ্ছেন গালাগাল ও হুমকির চাপ।
দে মিগেলের পরিবারের শোকের মধ্যে নিজের অবস্থান প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করার আগে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের সুযোগ খুঁজছেন ওওনো। তবে তার সঙ্গে পরিবারের কোনো কথা হয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি।
খবরটি শেয়ার করুন