রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** দ্বিতীয় জানাজা শেষে গন্ধমতিতে চিরনিদ্রায় অপ্রতিম, দুপুরে পুলিশের সংবাদ সম্মেলন *** ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল *** মমতার আমলে পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশে পরিণত করার চেষ্টা হয়েছিল: ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী *** উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে ১,৩৯৯টি ভূমিকম্প হয়ে থাকতে পারে: গবেষণা *** হুতিদের মোকাবিলায় এবার সৌদির পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা তুরস্কের! যুদ্ধ করবে কি? *** কমলাপুর রেলস্টেশনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ *** তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর আগামী নভেম্বরে করা যায় কি না, আলোচনায় ঢাকা-দিল্লি *** জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান *** মন্ত্রী বড়, নাকি সংসদ সদস্য—কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের *** আওয়ামী লীগ-জামায়াত এক হয়েও বিএনপির কিছুই করতে পারেনি: এমপি চাঁদ

‘কীভাবে আওয়ামী লীগের বিচার করা হবে, তা চিন্তার বিষয়’

শুভ্র বড়ুয়া

🕒 প্রকাশ: ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, ৭ই জুলাই ২০২৬

#

ফাইল ছবি

রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে বিচারের লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি গত ৪ জুলাই নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ প্রমাণ হলে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও দলটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আইনি সুযোগ রয়েছে।

এর আগে ৩ জুলাই ঢাকার চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন, নিপাত ও নির্মূল হয়েছে এবং দলটি আর কোনো দিন বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচারের দাবি উঠেছে, তদন্ত চলছে এবং শিগগিরই আইন অনুযায়ী তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পরদিনই চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের সামনে তদন্তের অগ্রগতি এবং বিদ্যমান আইনি কাঠামোর বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মত হলো, কোন আইনে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করা হবে, তা অস্পষ্ট। এ ছাড়া বিচারিক প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হলেও তা রাজনীতির জন্য ভালো বার্তা দেবে না। এর মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে অমোচনীয় সংকট ও ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। তারা মনে করছেন, সুনির্দিষ্ট অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার হতে পারে। তবে এই কারণ দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগের বিচার দেশ, গণতন্ত্র ও রাজনীতির জন্য শুভ হবে না।

জার্মানিতে নাৎসি বাহিনীকে নিষিদ্ধ করার উদাহরণ টানা হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর অপরাধ আর ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের অপরাধ এক নয়। আওয়ামী লীগের যেসব নেতা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার হতে পারে।

এদিকে সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে কি না, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে কি হবে না, সে বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি। তদন্তের পরে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যদি প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, রিপোর্ট যদি দাখিল করা হয়; চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আমার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।’

‘তদন্তে যদি মানবতাবিরোধী অপরাধসহ উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচার করতে পারবে। অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ হলে আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হতে পারে। একই সঙ্গে আইনে দলটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তেরও সুযোগ রয়েছে,’ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিষয়টি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘গণহত্যার বিচারের কথা বলা হলে এ দেশে গণহত্যার জন্য সবচেয়ে বড় অপরাধী জামায়াত। তাদের বিচার হয়নি। তারা এখন সংসদে বিরোধী দল। সরকার আওয়ামী লীগের বিচার করার ব্যাপারটিকে সামনে আনছে। কীভাবে আওয়ামী লীগের বিচার করা হবে, তা চিন্তার বিষয়। নাৎসি বাহিনীর উদাহরণ আমরা দিই, কিন্তু নাৎসি বাহিনীর অপরাধ ২০২৪ সালের অপরাধের সঙ্গে যায় না।’

সরকার ও বিএনপির দায়িত্বশীল জায়গা থেকে কোনো দলকে রাজনীতিতে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা অথবা বিচারের কাঠগড়ায় তোলার ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘বিচারের আগে এসব কথা বলার অর্থ বিচারকাজকে প্রভাবিত করা। এ ধরনের কথা ভেবেচিন্তে বলা উচিত। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকে। আওয়ামী লীগের যারা অপরাধ করেছেন, তাদের বিচার হতে পারে। কিন্তু আমরা দেখছি, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে বিচারের নামে হয়রানি করা হচ্ছে। এমন সব মামলা দেওয়া হয়েছে অথবা আটক-বাণিজ্য করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।’

আনু মুহাম্মদ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250