বুধবার, ২৮শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আমলাতন্ত্র জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের বুকে চেপে বসেছে, কিছুই করা যায় না: ফাওজুল কবির খান *** আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র *** ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণমাধ্যমকর্মীদেরই আদায় করতে হবে’ *** নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘সিম্প্যাথি’ পেতে মিথ্যা বলছেন: মির্জা আব্বাস *** ড্রোন বানাবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, সহায়তা করবে চীন *** নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইসির কাছে ৭১ সংগঠনের ১০ সুপারিশ *** ‘নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না’ *** ‘কাজের টোপ’ দিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে বাংলাদেশিদের পাঠানো হচ্ছে যুদ্ধে *** পায়ে পাড়া দিয়ে কেউ যদি আশা করে আমরা চুপ থাকব, তা হবে না: শফিকুর রহমান *** বিচ্ছেদের পর গলায় স্ত্রীর ছবি ঝুলিয়ে দুধ দিয়ে গোসল

কারাগারেই প্রেম দুই ভয়ংকর খুনির, বিয়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দিল আদালত

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১০:২৭ অপরাহ্ন, ২৩শে জানুয়ারী ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

প্রেমের নেই কোনো সীমানা, নেই কোনো দেয়াল। এমনকি জেলখানার চার দেয়ালও সেই প্রেমের পথে বাধা হতে পারল না। রাজস্থানের আলওয়ারে ঘটতে যাচ্ছে এক নজিরবিহীন ঘটনা।

বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন দুজন দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি—যাদের একজনের হাতে রয়েছে ডেটিং অ্যাপে পরিচিত যুবককে হত্যার দাগ, আর অন্যজন একই রাতে পাঁচজনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।

রাজস্থান হাইকোর্ট এই অদ্ভুত জুটিকে বিয়ের জন্য ১৫ দিনের জরুরি প্যারোল মঞ্জুর করেছেন। কনে প্রিয়া শেঠ ওরফে নেহা শেঠ এবং বর হনুমান প্রসাদ আজ শুক্রবার (২৩শে জানুয়ারি) আলওয়ারের বারোদামেভে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের এমন বিয়ে নিয়ে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মডেল হিসেবে পরিচিত প্রিয়া শেঠের অপরাধের ইতিহাস অত্যন্ত ভয়ংকর। ২০১৮ সালের মে মাসে টিন্ডার অ্যাপের মাধ্যমে দুষ্যন্ত শর্মা নামের এক যুবকের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়। প্রিয়া ও তার তৎকালীন প্রেমিক মিলে দুষ্যন্তের বাবার কাছে ১০ লাখ রুপি দাবি করেন।

পরিবার ৩ লাখ রুপি দিলেও পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে প্রিয়া ও তার সহযোগীরা মিলে দুষ্যন্তকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। পরিচয় গোপন করতে তার মুখে অসংখ্য ছুরিকাঘাত করা হয় এবং মরদেহটি একটি সুটকেসে ভরে আমের পাহাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। এই মামলায় প্রিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সাঙ্গানের ওপেন জেলে সাজা খাটছেন।

অন্যদিকে, হনুমান প্রসাদের অপরাধ আরও ভয়াবহ। ২০১৭ সালের অক্টোবরে তার পরকীয়া প্রেমিকা সন্তোষের প্ররোচনায় তার স্বামী ও সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করেন হনুমান। প্রেমিকা সন্তোষের স্বামী বনওয়ারী লালকে পশু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে হত্যার পর, ঘুমন্ত তিন সন্তান এবং এক ভাতিজাও জেগে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শী সরিয়ে দিতে হনুমান সেই রাতেই চার শিশুসহ মোট পাঁচজনকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। আলওয়ারের ইতিহাসে এটি ছিল অন্যতম বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড।

প্রায় ছয় মাস আগে সাঙ্গানের ওপেন জেলেই প্রথম দেখা হয় প্রিয়া ও হনুমানের। সেখান থেকেই আলাপ এবং পরবর্তীতে প্রেমের শুরু। দুজনেই দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও জীবনসঙ্গী হিসেবে একে অপরকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর বিয়ের অনুমতির জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন তারা। আদালত তাদের আবেদন গ্রহণ করে বিয়ের জন্য ১৫ দিনের ছুটি মঞ্জুর করেছে।

আইন ও অপরাধের বেড়াজালে ঘেরা এই বিয়ে এখন রাজস্থানের প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খুনি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250