ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভারত চক্রান্তের জাল বুনছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাওয়াত না পাওয়ায় ব্রিকস সম্মেলন বর্জনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান গর্বের জায়গা তৈরি করেছেন।
‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন, গোটা জাতির সামনে গৌরব তৈরি করেছেন,’ যোগ করেন রিজভী। আজ বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। মুক্তিযোদ্ধা দল এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, ‘এটা ব্যক্তিগত কোনো ইচ্ছা-অনিচ্ছা নয়, বরং (ব্রিকস সম্মেলনে) না যাওয়ার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের পতাকা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের যে শক্তি, সেই শক্তিই তিনি প্রদর্শন করেছেন।’
তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার কথা জানানোর পর দিনই আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
‘উনি যেদিন না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তার পরের দিনই ওইটা নষ্ট হয়ে গেল! এই ঘটনা বুঝতে কি ব্যারিস্টারি পাস করতে হয়? ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করতে হয়? আমরা ওইটা বুঝি,’ যোগ করেন তিনি।
ভারতের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘এক হাজার ৪০০ শিশু-তরুণ-কিশোর, ছাত্র-জনতা-শ্রমিকের রক্ত রক্ত পান করা এক প্রধানমন্ত্রীকে আপনারা আশ্রয় দিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার বারবার বলেছে তাকে হস্তান্তর করার জন্য, আপনারা সেটা করেননি।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে, হত্যা করেছে, এ রকম অসংখ্য লোক সেখানে (ভারতে) পালিয়ে আছে।’
তিনি বলেন, ‘একজন সাবেক মেজর, তার বিরুদ্ধে শেখ মুজিবকে হত্যার অভিযোগ ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ভারতে পালিয়ে ছিলেন। তাকে ওখানে ধরে শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। তার বিচার করেছিলেন। সেই মেজর সাহেবকে যদি হস্তান্তর করতে পারেন, তাহলে যারা এক হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করেছে, রক্ত পান করেছে, তাদেরকে কেন হস্তান্তর করছেন না?’
‘বাংলাদেশের আদালতে আইনের মাধ্যমে যাদের বিচার হচ্ছে, তারা কেন হস্তান্তরিত হচ্ছে না? এটা তো মানুষের মধ্যে একটা বড় প্রশ্ন,’ যোগ করেন তিনি।
‘নিশ্চয়ই গভীর কোনো উদ্দেশ্য আছে’ উল্লেখ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী, অনেক ঘাতককে আপনারা আশ্রয় দিয়েছেন। যারা দেশের স্বার্থে কথা বলবে, তারা কি হত্যাকাণ্ডের শিকার হবে? আমি এ কথা বলতাম না। তবে আপনার দেশেরই একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে, বাংলাদেশে হাদিকে যে হত্যা করা হয়েছে, এটায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের হাত আছে।’
রিজভী বলেন, ‘তারা সেই মুখ্যমন্ত্রীকেও কনভিন্স করতে চেয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সামনাসামনি কথা হলে অনেক সুমধুর কথা বলেন, কিন্তু ভেতরে ভেতরে আপনারা যে চক্রান্তের জাল তৈরি করছেন শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে, সেটা অত্যন্ত সুস্পষ্ট।’
কেউ কেউ দেশকে একাত্তর পূর্ববর্তী জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেন মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ডাকসু এবং কয়েকটি জায়গায় আমরা যে নিদর্শন দেখলাম, তাদেরকেও বলে রাখি, ওটাও আপনারা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন না।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা মধুর ক্যান্টিনকে “ইশরাত মঞ্জিল” বানাবেন, এটা ঠিক না। আপনারা এটা বানাতে চাইলে একাত্তরে ৩০ লাখ শহীদকে অপমান করবেন। মধুর ক্যান্টিনের মধু, সে একাত্তরের শহীদ, আপনারা কোথায় নিয়ে যেতে চাচ্ছেন?’
‘ওই পার্শ্ববর্তী দেশ-আওয়ামী লীগ মিলে যে কাজটা করছে, ওটা যেমন এ দেশের জনগণ বোঝে, আবার আপনারা যেটা করতে চাচ্ছেন, আরেকটি পক্ষ কী বলে...গুপ্ত না কী বলে? আপনারা যে একাত্তরে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছেন, এটাও এ দেশের মানুষ হতে দেবে না,’ যোগ করেন রিজভী।
খবরটি শেয়ার করুন