শনিবার, ২৯শে নভেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সমালোচনামূলক কনটেন্ট সরাতে সরকার অনুরোধ করেনি: প্রেস উইং *** মধ্যরাতে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা জানিয়েছে বিএনপি *** জালিম একই আছে, লেবাস বদলেছে: সৈয়দ জামিল আহমেদ *** বাউলদের বিরুদ্ধে 'তৌহিদী জনতাকে' বিদেশি শক্তি মাঠে নামাচ্ছে: ফরহাদ মজহার *** হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার খবর নিলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা *** প্রধান উপদেষ্টার প্রতি তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা *** কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন *** রাষ্ট্র সংস্কার কি সরকারের কাছে শুধুই ফাঁকা বুলি, প্রশ্ন টিআইবির *** আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পরিবর্তনে 'বিদেশ থেকে খেলা চলছে', দাবি সজীব ওয়াজেদের *** প্রতিদিন শত শত ছবি দেখে মাহফুজ আনামের পর্যবেক্ষণ ও অনুভূতি

ভাই-বোনের স্নেহচুম্বন ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী, বিজেপি মন্ত্রীদের মন্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৬:০৩ অপরাহ্ন, ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২৫

#

রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার সৌহার্দ্য বিনিময়কে ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী বলছেন বিজেপি নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

ভাই-বোনের সম্পর্ক নিয়ে আপত্তিকর ও কুরুচিকর মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রর জনসমক্ষে সৌহার্দ্য বিনিময়ের (আলিঙ্গন ও মাথায় স্নেহচুম্বন) প্রসঙ্গ টেনে তিনি এটিকে ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন। তার এই বক্তব্য দ্রুতই একটি রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। খবর এনডিটিভির।

মধ্যপ্রদেশের শাজাপুর জেলায় একটি জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে কৈলাস বিজয়বর্গীয় রাহুল গান্ধীকে সরাসরি আক্রমণ করেন। তিনি ভারতীয় মূল্যবোধ এবং বিদেশি সংস্কৃতির তুলনা টেনে বলেন, ‘আমার বাবা পুরোনোপন্থী লোক। আমরা আমাদের বোনের গ্রামে জল পর্যন্ত খাই না (গুরুত্ব ও সম্মান বোঝাতে)। কিন্তু আমাদের বিরোধী নেতারা এমন যে খোলা রাস্তায় ওরা নিজেদের বোনকে চুমু খায়। আমি আপনাদের কাছে জানতে চাই, আপনাদের মধ্যে কেউ নিজের যুবতী বোনকে চুমু খান? আসলেই শিক্ষা আর সংস্কারের অভাব। এসব বিদেশি সংস্কৃতি।’

তিনি আরও দাবি করেন, এই ‘বিদেশি সংস্কৃতি’ আমদানির কারণেই রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও ‘রূঢ়ভাবে’ কথা বলেন, ‘তুই-তোকারি’ করেন।

পরে এক সংবাদমাধ্যমকে বিজয়বর্গীয় অবশ্য কিছুটা নরম হয়ে বলেন, এতে রাহুলের বিশেষ দোষ নেই, কারণ ‘উনি বিদেশে বড় হয়েছেন’ এবং ‘বিদেশি সংস্কৃতি আমদানি করেছেন’।

কৈলাস বিজয়বর্গীয়র বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে যখন উত্তাপ বাড়ছে, তখন তার মন্ত্রিসভার সহকর্মী বিজয় শাহ প্রকাশ্যে তাকে সমর্থন করে বিতর্কে ঘি ঢেলেছেন।

খান্ডওয়াতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজয় শাহ জোর দিয়ে বলেন, ‘এটা আমাদের সংস্কৃতি নয়; আমাদের সভ্যতা, রীতিনীতি এবং ঐতিহ্য এসব শেখায় না। তারা যা শেখায়, তা নিজেদের বাড়িতে অনুশীলন করুক, জনসমক্ষে নয়।’

বিজয় শাহ মঞ্চে উপস্থিত নারী বিধায়ক কাঞ্চন তানভের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘উনিও আমার আপন বোন, তাহলে কি আমি জনসমক্ষে তাকে চুমু খাব? ভারতীয় সংস্কৃতি এবং সভ্যতা এটা শেখায় না।’

বিজয় শাহের এই সমর্থন বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অতীতেও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে।   ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে মন্তব্য করে তিনি চরম বিতর্কে জড়িয়েছিলেন।

অবশ্য পরে ক্ষমা চেয়ে বলেছিলেন, ‘আমি ঈশ্বর নই, আমি একজন মানুষ, এবং যদি কারও অনুভূতিতে আঘাত লাগে, তবে আমি দশবার ক্ষমা চাই।’ 

বিজয় শাহ বলেছিলেন, ‘যারা আমাদের মা-মেয়ের সিঁদুর মুছে দিয়েছে, তাদের বোনকেই ব্যবহার করে হামলাকারীদের শায়েস্তা করেছি। ওরা (জঙ্গিরা) পোশাক খুলিয়ে বেছে বেছে হিন্দুদের মেরেছে। আর মোদিজি ওদের বোনকে দিয়েই উচিত শিক্ষা দিয়ে দিয়েছেন। মোদিজি তো আর ওদের মতো ব্যবহার করতে পারেন না। তাই ওদের সম্প্রদায়ের বোনকে দিয়েই ওদের বারোটা বাজিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি। অভিযানের পর যারা সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে ভারতীয় সেনার কৃতিত্ব তুলে ধরছিলেন জনসমক্ষে, তিনি তাদের মধ্যেও অন্যতম। ভারতীয় সেনার সেই কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে ‘সন্ত্রাসবাসীদের বোন’ বলে মন্তব্য করেন বিজয় শাহ।

রাহুল-প্রিয়াঙ্কার সৌহার্দ্য বিনিময় নিয়ে বিজেপি মন্ত্রীদের মন্তব্যে ফুঁসে উঠেছে কংগ্রেস। তারা এই মন্তব্যকে ‘ভাই-বোনের শ্রদ্ধার সম্পর্ককে কলুষিত করার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেছে এবং কৈলাস বিজয়বর্গীয়র কুশপুতুল পুড়িয়েছে।

জে.এস/

রাহুল গান্ধী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কৈলাস বিজয়বর্গীয়

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250