বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ভারতে স্লিপার বাসে আগুন, নিহত ৯ *** প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নভেম্বরের সফর নিয়ে ঢাকা-দিল্লি আলোচনা *** মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক *** মানবাধিকার সুরক্ষা প্রশ্নে কথা রাখতে পারেনি বিএনপি: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ *** রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা প্রস্তাব *** জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে ভাষণ বলে ইউনূসকে নিয়ে মিথ্যাচার *** ফুটেজে সম্পৃক্ততা পেয়ে সেই কিশোরকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ *** বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত: গতকাল আটক সেই কিশোরের নাম নেই মামলায় *** আওয়ামী লীগ আমলের ‘দুর্নীতির’ তদন্তের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির *** শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্রে সায় দিচ্ছে গুপ্ত বাহিনী: রিজভী

ভারতে স্লিপার বাসে আগুন, নিহত ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১০:১০ পূর্বাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের গ্রেটার নয়ডায় যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে গতকাল বুধবার গভীর রাতে একটি চলন্ত স্লিপার বাসে আগুন লেগে নয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জীবন বাঁচাতে কয়েকজন যাত্রী চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়েন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় যুগ্ম পুলিশ কমিশনার রাজীব নারায়ণ মিশ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বাসটি দিল্লি থেকে মহোবার দিকে যাচ্ছিল। গত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে বাসটিতে আগুন ধরে যায়। বাসটিতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন। আগুন লাগার পর যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পালানোর জন্য কয়েকজন চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়েন। দ্রুত পুরো বাসটি আগুনের শিখায় গ্রাস হয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে দমকল বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ যাত্রীদের কাছ থেকে এ বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে।

বাসে আগুন লাগার ঘটনায় দায়ের করা এফআইআরের এক্সক্লুসিভ কপি হাতে পেয়েছে ইন্ডিয়া টুডে। বাসের যাত্রী সুনীল কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআরটি দায়ের করা হয়েছে। বাসটি যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে মহোবার দিকে যাচ্ছিল। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে নয়ডা-আগ্রা রুটের ৩৩ কিলোমিটারের কাছে পৌঁছালে যাত্রীরা চালকের কেবিন থেকে পোড়া গন্ধ আসতে দেখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সুনীল কুমারের অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন যাত্রী চালক ও কন্ডাক্টরকে ওই গন্ধের কথা জানান। এফআইআরে অভিযোগ করা হয়েছে, চালক তাদের উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, বাসটিতে এ ধরনের পোড়া গন্ধ পাওয়া স্বাভাবিক। এতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য চালক সঙ্গে সঙ্গে বাস থামাননি এবং চালক ও কন্ডাক্টর কেবিনে বিড়ি/সিগারেট খেতে থাকেন।

এফআইআর অনুযায়ী, এর কিছুক্ষণ পর হঠাৎ চালকের আসনের কাছে আগুনের শিখা দেখা যায়। যাত্রীরা চিৎকার করে চালককে বাস থামাতে বলতে থাকেন। এফআইআরে অভিযোগ করা হয়েছে, যাত্রীদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও চালক ও কন্ডাক্টর প্রথমে বাস থামাতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাদের হুমকি দেন। ততক্ষণে আগুন দ্রুত পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং যাত্রীদের অংশটি ঘন ধোঁয়ায় ভরে যায়।

দিল্লি থেকে মহোবার দিকে যাওয়া এক যাত্রী বলেন, তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে কেউ তাকে ঘুম থেকে তুলে আগুন লাগার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। কেউ এসে আমাদের ঘুম থেকে তুলে বলল, বাসে আগুন লেগেছে। আমরা বেরিয়ে দৌড়াতে শুরু করি।’

কীভাবে তিনি বেরিয়ে আসেন, তা স্মরণ করে ওই যাত্রী বলেন, বাসটি ধোঁয়ায় ভরে যাওয়ায় বের হওয়ার মতো জায়গা প্রায় ছিলই না। তিনি বলেন, ‘বের হওয়ার কোনো ঠিকঠাক পথ ছিল না। প্রচুর ধোঁয়া ছিল। আতঙ্কের মধ্যে কোনোভাবে আমরা বের হতে সক্ষম হই।’ তিনি জানান, আগুনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীরা বের হতে শুরু করেন এবং প্রত্যেকে যে যেভাবে পারেন পালানোর চেষ্টা করেন। বাসের একেবারে পেছনে বসা ওই যাত্রী বলেন, আগুন বাসের সামনের দিক থেকে শুরু হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আগুন সামনের দিক থেকে শুরু হয়েছিল। আমার আসন ছিল একেবারে পেছনে।’

আরেক যাত্রী, রিঙ্কি রাজপুত নামে পরিচিত, বলেন, তিনি নয়ডা থেকে নিজের বাড়ি রাঠে যাচ্ছিলেন। তখনই বাসটিতে আগুন ধরে যায়। তিনি জানান, তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে কেউ তার গেটে ধাক্কা দিয়ে তাকে সতর্ক করেন। রিঙ্কি বলেন, ‘আমি আমার কোনো জিনিসপত্রই নিইনি। এমনকি জুতাও পরিনি। শুধু ফোনটা নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলাম।’

বাসের ভেতরের পরিস্থিতিকে তিনি বিশৃঙ্খল বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় যাত্রীরা একে অপরকে ধাক্কা দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এত বেশি ভিড় ছিল যে মানুষ একে অপরকে ধাক্কা দিচ্ছিল। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে কোনোভাবে আমি বেরিয়ে আসি। কেউ আমাকে টেনে বের করে। এরপরের অনেক কিছুই আমার মনে নেই। চারদিকে শুধু ধোঁয়া ছিল।’ রিঙ্কি জানান, আগুন চালকের আসনের কাছ থেকেই শুরু হয়েছে বলে মনে হচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘সামনের দিকে, চালকের কাছে, যেখানে চালক বসেন, সেখানেই আগুন ছিল।’

তিনি স্মরণ করে বলেন, ধোঁয়া এত ঘন ছিল যে যাত্রীরা প্রায় কিছুই দেখতে পারছিলেন না এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘এত বেশি ধোঁয়া ছিল যে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। আমরা ভেতরে দম বন্ধ হয়ে আসছিল।’ রিঙ্কির দাবি, মাত্র কয়েকজন যাত্রী বের হতে পেরেছিলেন, তাও মূলত বিশৃঙ্খলা ও ধাক্কাধাক্কির মধ্য দিয়ে। তিনি আরও বলেন, বেশ কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আমার পেছনে অনেক মানুষ ছিল। তারা সম্ভবত বের হতে পারেনি।’ তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

ভারত

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250