রবিবার, ২৫শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ফ্রান্সে ৪ লাখ মানুষের বিক্ষোভ, বাড়ছে উত্তেজনা–সংঘর্ষ *** আজই ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প *** সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশের নিয়ম-কানুন পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর *** এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর *** টঙ্গীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ *** তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে উচ্চকক্ষ থেকে নিয়োগের প্রস্তাব *** সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিকের লাশ দাফনে বাধা, গোপনে গার্ড অব অনার *** মৃত্যুর জন্য ইউএনওকে দায়ী করে এসি ল্যান্ডের ফেসবুক পোস্ট, পরিবারের দাবি মানসিক সমস্যা *** সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডে কূটনৈতিক যোগাযোগের ফাঁক উন্মোচিত, ঢাকার অজান্তেই আরও ২০ জনের পরিণতি অনিশ্চিত *** আসিফ আকবরের চালকের পেছনের আসন বরাবর গুলি করা হয়

তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রপতি ভবন, মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার নতুন অধ্যায়

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ০৭:১৩ অপরাহ্ন, ১৩ই আগস্ট ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

রাজনীতিতে কিছু পথ সরলরেখার মতো নয়। কখনো তা মিছিলের ভিড় পেরোয়। কখনো শ্রেণিকক্ষের নীরবতা ছুঁয়ে যায়। কখনো ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দূরে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পরীক্ষা নেয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন অনেকটা তেমনই। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুরু। এরপর শিক্ষকতা। সরকারি চাকরি। স্থানীয় সরকার। সংসদ। মন্ত্রিত্ব। সবশেষে একটি বড় রাজনৈতিক দলের মহাসচিবের দায়িত্ব। এবার সেই দীর্ঘ পথচলার সামনে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী করার ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার তার প্রার্থিতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের একটি রাজনৈতিক আলোচনারও অবসান হলো। ৭৮ বছর বয়সী এই নেতার সামনে এখন নতুন এক দায়িত্বের সম্ভাবনা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রার্থী হিসেবে তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। ভারতের ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ও তাকে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতা হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি পদের শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে।

মির্জা ফখরুলের এই উত্থানকে শুধু একটি দলের সাংগঠনিক সাফল্য হিসেবে দেখলে তার রাজনৈতিক জীবনের ব্যাপ্তি ধরা পড়ে না। কারণ তার রাজনীতির শুরু হয়েছিল ক্ষমতার অলিন্দে নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে। অর্থনীতির শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি যুক্ত ছিলেন বামপন্থী ছাত্ররাজনীতিতে। ষাটের দশকের উত্তাল সময় তাকে রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে ছিলেন। অর্থাৎ তার রাজনৈতিক বোধ তৈরি হয়েছিল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলনের ভেতর দিয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে তিনি সরাসরি ক্ষমতার রাজনীতিতে যাননি। অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। পরে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে প্রশাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনার ভেতরের কাঠামো সম্পর্কে ধারণা দেয়। পরে সরকারি চাকরি ছেড়ে আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন।

এরপর শুরু হয় মাঠের রাজনীতি। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। এই জয় তার রাজনৈতিক জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। জাতীয় রাজনীতির বড় মঞ্চে ওঠার আগে তিনি স্থানীয় মানুষের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হন। ফলে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি অংশ গড়ে ওঠে একেবারে তৃণমূলের অভিজ্ঞতা থেকে।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের রাজনৈতিক আবহে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির নেতৃত্বে আসেন। এরপর ধীরে ধীরে দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে জায়গা করে নেন। সংগঠনের বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে তিনি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হন। ২০০৯ সালে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের পর তাকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। এর দুই বছর পর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব হন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত জীবনীতে তার এই সাংগঠনিক উত্থানের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০১১ সালের মার্চ থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

তার রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সংসদ ও সরকার। ২০০১ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। পরে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও ঠাকুরগাঁও-১ থেকে বড় ব্যবধানে জয় পান। ভারতের ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর নির্বাচনী ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিনি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট।

এই ফল শুধু একটি আসনে জয় নয়। এটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক উপস্থিতিরও একটি প্রতিফলন। নিজের এলাকায় তার সাংগঠনিক ভিত্তি যে দীর্ঘদিনের, নির্বাচনের ফল তা আবারও সামনে আনে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ তাকে ২০২৬ সালের নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং ঠাকুরগাঁওয়ে তার বড় জয়কে আলাদা করে তুলে ধরেছে।

তবে মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় এসেছে বিএনপির মহাসচিব হওয়ার পর। দীর্ঘ সময় দলটি ক্ষমতার বাইরে ছিল। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দী হন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বাইরে থেকে দল পরিচালনা করেন। এমন পরিস্থিতিতে দেশে থেকে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম সমন্বয়ের বড় দায়িত্ব এসে পড়ে মির্জা ফখরুলের ওপর।

এই সময় তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণ করতে হয়েছে। ২০২৩ সালে তার গ্রেপ্তারের ঘটনাও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছিল। ‘অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’ তাকে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী নেতা হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছিল, রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

রাজনীতির এই দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যেও তার একটি আলাদা পরিচয় তৈরি হয়েছে। তিনি বক্তা হিসেবে তুলনামূলক সংযত। দলের কঠিন অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। আবার রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। এই বৈশিষ্ট্যই তাকে দলের ভেতরে একটি গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করে।

রাষ্ট্রপতি পদে তার মনোনয়ন সেই গ্রহণযোগ্যতারই নতুন পরীক্ষা। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দলীয় রাজনীতির সরাসরি নেতৃত্বের চেয়ে ভিন্ন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার অন্যতম প্রতীক। ফলে একজন সক্রিয় দলীয় রাজনীতিক থেকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার যাত্রায় তাকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

এই জায়গাটিই মির্জা ফখরুলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। দীর্ঘদিন তিনি বিএনপির নীতি ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মুখপাত্র ছিলেন। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেলে তাকে হতে হবে সব দলের রাষ্ট্রপতি। বিরোধী দলেরও। সাধারণ মানুষেরও। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোরও। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এখানে শক্তি হতে পারে। কারণ তিনি মাঠের রাজনীতি দেখেছেন। সংসদ দেখেছেন। মন্ত্রিসভা দেখেছেন। দলীয় সংকট দেখেছেন। বিরোধী রাজনীতির কঠিন সময়ও পার করেছেন।

রাষ্ট্রপতি পদে তার নাম চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনার খবর প্রথমে প্রকাশ্যে আসে জুলাইয়ের শেষ দিকে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ তখন জানায়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আলোচনা শুরু হয়। পত্রিকাটি বিএনপির একাধিক সূত্রের বরাতে মির্জা ফখরুলকে সম্ভাব্য প্রধান প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছিল। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি পদে তার নাম চূড়ান্ত হলে দলীয় মহাসচিবের পদ ছাড়তে হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক কাঠামোও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদে ক্ষমতাসীন দলের বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত—এমন রাজনৈতিক বাস্তবতার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক যাত্রার দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। তিনি এক লাফে শীর্ষে ওঠেননি। সময় নিয়েছেন। হারিয়েছেন। ফিরে এসেছেন। দলের ভেতরে দায়িত্ব পেয়েছেন। আবার প্রতিকূলতার মধ্যেও দায়িত্ব ধরে রেখেছেন। তার জীবনে ছাত্ররাজনীতি যেমন আছে, তেমনি প্রশাসনের অভিজ্ঞতাও আছে। স্থানীয় সরকার আছে। সংসদীয় রাজনীতি আছে। মন্ত্রিসভার অভিজ্ঞতা আছে। আছে দীর্ঘদিনের দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা।

এ কারণেই রাষ্ট্রপতি পদে তার মনোনয়নকে বিএনপির ভেতরে শুধু আনুষ্ঠানিক পদোন্নতি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় একজন প্রবীণ নেতাকে সাংবিধানিক মর্যাদার শীর্ষ আসনে বসানোর সিদ্ধান্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে বড় জয় নিয়ে সরকার গঠন করার পর এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বেড়েছে।

তবে রাষ্ট্রপতি ভবনের দরজা পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে তার সামনে দলীয় রাজনীতির পরিচিত পথটি শেষ হবে। শুরু হবে নতুন পথ। সেখানে মিছিলের স্লোগানের চেয়ে সংবিধানের ভাষা বড় হবে। দলের সিদ্ধান্তের চেয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থ গুরুত্বপূর্ণ হবে। রাজনৈতিক পক্ষের চেয়ে নাগরিকের অধিকার প্রাধান্য পাবে।

মির্জা ফখরুলের জীবনের গল্প তাই কেবল একজন রাজনীতিকের পদোন্নতির গল্প নয়। এটি দেশের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ পথ অতিক্রমের গল্প। ছাত্রজীবনের আন্দোলন থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্বের সম্ভাব্য মঞ্চে তার পৌঁছানো সময়েরও একটি সাক্ষ্য। তৃণমূলের একজন নেতা কীভাবে ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসতে পারেন, তার জীবন তার একটি উদাহরণ।

এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে দলীয় রাজনীতির পরিচিত বৃত্ত থেকে বেরিয়ে রাষ্ট্রের অভিভাবকসুলভ ভূমিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা যদি সাংবিধানিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে মিশে যায়, তবে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতিত্ব দেশের রাজনীতিতে একটি ভিন্ন বার্তা দিতে পারে। সেই বার্তা হতে পারে—রাজনীতির দীর্ঘ পথ পেরিয়েও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে পৌঁছানো যায়, যদি শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকে দলীয় সীমারেখার ওপরে রাখার সক্ষমতা তৈরি হয়।

তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই রাজনীতিকের সামনে তাই এখন নতুন অধ্যায়। একসময় তিনি মানুষের ভোট চেয়েছেন। এখন তাকে রাষ্ট্রের মানুষের আস্থা ধারণ করতে হবে। একসময় তিনি দলের হয়ে কথা বলেছেন। এখন তাকে রাষ্ট্রের ভাষায় কথা বলতে হবে। আর সেই পরিবর্তনই হয়তো তার পাঁচ দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হয়ে উঠতে পারে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250