শনিবার, ৩০শে আগস্ট ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ঢামেকে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ আসিফ নজরুল, বেরোলেন বাগান গেট দিয়ে *** কাকরাইলে দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইএসপিআরের বক্তব্য *** আসিফ নজরুলকে 'ভণ্ডামি বাদ দিতে' বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ *** অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পণ্য বিক্রি করলে জেল ও জরিমানা *** মুরগি খাওয়া রোধে পাতা ফাঁদে ধরা পড়ল মেছো বাঘ *** আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির সময় তাহলে ফুরিয়ে এল *** লতিফ সিদ্দিকী যা বললেন আদালতে *** ভারতে ইসলাম থাকবে, মানিয়ে নিতে শিখুন: আরএসএস প্রধান *** আটকের ১২ ঘণ্টা পর মামলা লতিফ সিদ্দিকী, শিক্ষক কার্জনসহ ১৬ জন কারাগারে *** নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জুতার মালা ও জেলের কথা মনে করিয়ে দিলেন ইসি

একসময়ের জনপ্রিয় শিশুশিল্পী শামীম এখন বাদাম বিক্রেতা

বিনোদন প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, ২৯শে আগস্ট ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

২০১০-১১ সালে প্রকাশিত হয় শিশুশিল্পী শামীম হোসেনের প্রথম অডিও অ্যালবাম ‘মেম্বারের মাইয়া’। প্রথম অ্যালবামেই পরিচিতি পেয়ে যান। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে তার গাওয়া ‘উদলা ঘরের ছাউনি’, ‘ও আমার প্রেম সোহাগী’, ‘তুমি কার লাগিয়া’, ‘তুমি জ্বালাইয়া গেলা প্রেমের আগুন’ গানগুলো।

একে একে প্রকাশ পায় তার ১০টি অ্যালবাম। কিন্তু অডিও অ্যালবামের যুগের শেষে আর খোঁজ পাওয়া যায়নি তার। সময়ের পরিক্রমায় শামীম হোসেন এখন বাদাম বিক্রেতা। চৌগাছার বিভিন্ন বাজার, বাসস্ট্যান্ডে ঘুরে ঘুরে বাদাম বিক্রি করে জীবন চালান তিনি।

এখনো ইউটিউব, ফেসবুক, রিলসে পাওয়া যায় শিশুশিল্পী শামীমের কণ্ঠের গানগুলো। সম্প্রতি ফেসবুকে শামীমের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওতে শামীম জানান, এখন বাদাম বিক্রি করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করছেন। শিশুশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয়তা পেলেও গান গাওয়ার বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক কখনো পাননি।

শামীম এখন থাকেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার মশিউর নগর গ্রামে। একাই থাকেন। বেঁচে থাকার তাগিদে প্রতিদিন সকালে বেরিয়ে পড়েন বাদাম নিয়ে। শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অতীত নিয়ে কথা বলতে চাইলেন না তিনি।

অনুরোধ করলে শামীম জানান, ছোটবেলায় এলাকার এক পরিচিত মানুষ তাকে ঢাকা নিয়ে গিয়েছিলেন। তার মাধ্যমেই শামীমের গানের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তবে এর বিনিময়ে কখনো পারিশ্রমিক পাননি শামীম। রেকর্ডিং শেষে দুই বেলা খাইয়ে বিদায় করে দেওয়া হতো তাকে।

অডিও অ্যালবাম যুগের শেষে অনলাইনের যুগ শুরু হলে ছিটকে পড়েন শামীম। এরপর আর কেউ তর কোনো খোঁজ নেননি। অভিমান করে শামীমও যোগাযোগ করেননি কারও সঙ্গে। কোনো অভিভাবক ছিল না বলেই এমনটা হয়েছে বলে মনে করেন শামীম।

তিনি বলেন, ‘আমি যে সময় গান করতাম তখন অডিও ক্যাসেট আর সিডি বের হতো। অনলাইন আসার পর থেকে গান থেকে ছিটকে পড়ি। এরপর কেউ আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি। অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই বাদাম বিক্রি শুরু করি।’

শামীম আবার ফিরতে চান গানের জগতে। কিন্তু কোনো অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কিংবা সংগীত পরিচালকের সঙ্গে পরিচয় না থাকায় তা পারছেন না। শামীম জানালেন, বাদাম বিক্রির ভিডিও ভাইরাল হলে অনেকেই ফোন করে তার খোঁজ নিচ্ছেন, কিন্তু মিলছে না গান গাওয়ার সুযোগ। যদিও শামীম এখনো স্বপ্ন দেখেন আবার প্রকাশ পাবে তার নতুন গান।

নতুন করে গান প্রকাশের আশায় তিন বছর আগে নিজের নামে ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল খুললেও নতুন গান প্রকাশ করতে পারেননি সামর্থ্যের অভাবে।

শামীম বলেন, ‘গানে ফিরতে চাই। কেউ সুযোগ দিলে অবশ্যই কাজ করব। কিন্তু কার কাছে যাব আমি? কারও সঙ্গে যোগাযোগ নেই, পরিচয় নেই। সম্প্রতি অনেকেই ফোন করছেন, তবে গানের কথা কেউ বলছেন না। আমি চেষ্টা করতে চাই। নিজের ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে গান প্রকাশ করে হলেও আবার শুরু করতে চাই।’

জে.এস/

শিশুশিল্পী শামীম হোসেন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন