ছবি: সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্তের বিষয়ে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য দেননি। গত রোববার (১লা মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এক সাংবাদিক জানতে চান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাইয়ে নিহত পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেটা বলেছেন, সেই অনুযায়ী চলবে।
জবাবে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে কিছু বলেছে? মহাসচিব কেন এ ব্যাখ্যা দিলেন, আমি জানি না। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি। আমাদের মহাসচিব কী বলেছেন, আমি জানি না। এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনাদের জানা আছে যে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। তার ভিত্তি ছিল, জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারনামায় একটি দফা। সে দফায় সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদে যারা সই করেছে, তারা সবাই অঙ্গীকারনামার বিষয়ে একমত হয়েছে। সেটি ছিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, অংশগ্রহণ করেছে, তাদের আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে হবে। এসব অঙ্গীকারে আমরা সই করেছি। অঙ্গীকার করেছি।’
তবে পুলিশকে যারা মেরেছেন, তাদের কী বিচার হবে না বলে প্রশ্ন করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। তিনি বলেন, পুলিশ যাদের হত্যা করেছেন, তার কারণে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বহু পুলিশ জেলখানাতে, পলাতক, বহু পুলিশ চাকরিচ্যুত হয়েছেন। কিন্তু পুলিশকে যারা মেরেছেন, তাদের কি বিচার হবে না? পুলিশ হত্যার মতো যে হত্যাকাণ্ড, এটা কোনো একটি ইতিহাসের অংশ হতে পারে না।
তিনি বলেন, এটা কোনো অবস্থাতেই দায়মুক্তি পেতে পারে না। এই দায়মুক্তি নিয়ে একটি জাতি কখনো এগোতে পারে না। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিওতে গোলাম মাওলা রনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাই ও আগস্ট ২০২৪-এ দেশে নির্মম হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে যেগুলো ছাত্রলীগ ঘটিয়েছে, পুলিশ ঘটিয়েছে সেগুলোর বিচার হচ্ছে এবং এটা হতেই হবে। তবে পর্দার উল্টো দিকের কিছু দৃশ্য রয়েছে। সে দৃশ্যগুলো হলো ক্ষমতায় থাকার জন্য আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং সরকারের অনুগত পেটোয়া বাহিনী জনগণের উপর জুলুম করেছে, অত্যাচার করেছে।
তিনি বলেন, ওই সময়ের যে বিভৎস ঘটনা— বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া, জেলে দেওয়া, মামলা দেওয়া, গুলি করে মেরে ফেলা, গুম করা সবকিছুই হয়েছে। সেই কুকর্মগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কুকর্মের বিচার হচ্ছে। মামলাও হয়েছে এবং অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, ২০২৪-এর জুলাই-আগস্ট মাসে পর্দার একদিকে যা হয়েছে, এত বিভৎস ঘটনা আমাদের রাষ্ট্রশক্তি কখনো ঘটায়নি। সরকারি দল কখনো ঘটায়নি। আবার একই সঙ্গে ঠিক জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পরে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এলো, আমাদের মোহ কাটতে থাকলো, আমাদের চিন্তা চেতনার দার উন্মুক্ত হতে থাকলো।
তিনি দাবি করেন, জুলাই ও আগস্ট আন্দোলনের ওই সময়টিতে অস্ত্রধারী দেশি এবং বিদেশি লোকজন সরাসরি পুলিশের উপর গুলি ছুড়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের উপর গুলি ছুড়েছেন। তারাই বিভিন্ন সরকারি স্থাপনাগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে সাধারণ যারা সিভিলিয়ান, তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অনেককে হত্যা করেছেন।
খবরটি শেয়ার করুন