ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের (ইউএনএএমএ) নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশি কূটনীতিক রাবাব ফাতিমা। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গতকাল বুধবার এ নিয়োগের ঘোষণা দেন। পেশাদার কূটনীতিক রাবাব ফাতিমা জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন। এর আগে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে রাবাব ফাতিমা জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ ও ক্ষুদ্র দ্বীপপুঞ্জের উন্নয়নশীল দেশগুলোর উচ্চ প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্রের দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, রাবাব ফাতিমার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সিভিল সার্ভিসে দায়িত্ব পালনের ৩০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ অভিজ্ঞতার মধ্যে আছে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনীতি, নীতিনির্ধারণ, অ্যাডভোকেসি, কর্মসূচি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন।
রাবাব ফাতিমা আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের (ইউএনএএমএ) নতুন প্রধান হিসেবে কানাডার জর্জেট গ্যানিওনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। ইউএনএএমএর ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন গ্যানিওন। ইউএনএএমএ ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরে তালেবান। এর পর থেকে দেশটিতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়, রাজনৈতিক সংলাপ এগিয়ে নেওয়া এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এ মিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
ইউএনএএমএর লক্ষ্য ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি আছে। তা সত্ত্বেও গত জুনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইউএনএএমএর ‘ম্যান্ডেট’ আরও এক বছরের জন্য নবায়ন করে। নতুন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাবাব ফাতিমার রয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সিভিল সার্ভিসে তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা। তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনীতি, নীতি প্রণয়ন, অ্যাডভোকেসি এবং প্রকল্প পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বর্তমানে তিনি জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং স্বল্পোন্নত দেশ, ভূ-বেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ ও ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রসমূহের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্থায়ী প্রতিনিধি থাকাকালীন তিনি ২০২০ সালে ইউনিসেফ এবং ২০২২ সালে ইউএন-ওমেনের নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ২০২১ সালে তিনি ইউএনডিপি/ইউএনএফপিএ/ইউএনওপিএসের নির্বাহী বোর্ডের সহ-সভাপতি ছিলেন। ২০২২ সালে তিনি প্রথম নারী হিসেবে জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের (পিসবিল্ডিং কমিশন) চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। এ ছাড়া তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের অন্যতম সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে রাবাব ফাতিমা ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ২০১৫-২০১৬ সালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এ ছাড়া তিনি নিউইয়র্ক, জেনেভা, বেইজিং ও কলকাতায় বাংলাদেশ মিশন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থায় (আইওএম) দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক উপদেষ্টা এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসনবিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা (২০১২-২০১৫) হিসেবে কাজ করেছেন। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ছিলেন।
এ ছাড়া ২০০৬-২০০৭ সালে তিনি লন্ডনের কমনওয়েলথ সচিবালয়ে মানবাধিকার বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাবাব ফাতিমা যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস ইউনিভার্সিটির ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামাজিক বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। নিজ ভাষা বাংলার পাশাপাশি তিনি ইংরেজিতে দক্ষ এবং হিন্দি ও উর্দু ভাষার ওপর তার ব্যবহারিক জ্ঞান রয়েছে।
খবরটি শেয়ার করুন