ছবি: সংগৃহীত
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির জেরে আমেরিকা-ভারত সম্পর্কে যখন টানাপোড়েন চলছে, ঠিক তখনই চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হচ্ছে। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এই বৈঠক এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৈঠকটি ভারতের জন্য আমেরিকার চাপ কমানোর এবং তাদের ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার একটি সুযোগ তৈরি করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদি আজ রোববার (৩১শে আগস্ট) সি চিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বলেছেন, ‘পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান এবং সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে’ ভারত-চীন সম্পর্ক ‘এগিয়ে নিতে’ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত দুই দিনের সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে সির সঙ্গে বৈঠকে মোদি আরও বলেন, সীমান্ত ইস্যুতে দুই দেশ নতুন করে ভাবার পর ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ’ সৃষ্টি হয়েছে।
এসসিএ সম্মেলনে মোদি তার বক্তব্যে বলেন, ‘গত বছর কাজানে আমাদের অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছিল, যা আমাদের সম্পর্ককে একটি ইতিবাচক দিক দিয়েছে। সীমান্তে দুই পক্ষ সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।’
মোদি বলেন, ‘দুই দেশের ২৮০ কোটি মানুষের স্বার্থ আমাদের সহযোগিতার সঙ্গে যুক্ত। এটি সম্পূর্ণ মানবতার কল্যাণের পথও প্রশস্ত করবে।’
সি চিন পিং বলেন, ভারত ও চীনের জন্য ‘বন্ধু ও ভালো প্রতিবেশী হওয়া’ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে। চীন ও ভারত দুটি সভ্যতাভিত্তিক দেশ। আমরা বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ এবং গ্লোবাল সাউথের অংশ...বন্ধু হওয়া, ভালো প্রতিবেশী হওয়া এবং ড্রাগন ও হাতির যৌথভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
দুই নেতা রাশিয়ার ব্রিকস সম্মেলনের পর থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, ভারত ও চীন প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার। মতপার্থক্যকে যেন কখনোই বিরোধে রূপ না দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, ভারত-চীন সরাসরি ফ্লাইট আবার চালু হবে। যদিও সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। করোনার সময় থেকে এই রুট বন্ধ ছিল, ফলে ভ্রমণকারীরা হংকং বা সিঙ্গাপুর হয়ে যেতেন।
বৈঠকে মোদি বলেন, তীর্থযাত্রা ও ট্যুরিস্ট ভিসার পুনরায় চালু হওয়া দুই দেশের জনগণের সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হবে। কোভিড মহামারির পর এগুলো দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল।
দুই নেতা জানান, সম্পর্ককে তৃতীয় কোনো দেশের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই ও বহুপক্ষীয় ফোরামে ন্যায্য বাণিজ্য প্রসারে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য হওয়া জরুরি।
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর সম্পর্ক নষ্ট হলেও কাজান বৈঠকের পর থেকে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উন্নত হচ্ছে। মোদি ও সি বলেন, সেনা প্রত্যাহার ও শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি সীমান্তে স্থিতিশীলতা এনেছে।
সি চিন পিং জানান, ভারত-চীন ‘বন্ধু ও প্রতিবেশী’। আমরা গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তিনি দুই দেশের নাগরিকদের কল্যাণে যৌথ দায়িত্ব নেওয়ার ওপর জোর দেন।
সি বলেন, সীমান্ত সমস্যা দিয়ে গোটা সম্পর্ককে সংজ্ঞায়িত করা উচিত নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে।
খবরটি শেয়ার করুন