ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক এখন শুধু শুল্ক কমানো-বাড়ানোর আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি আমদানি, কৃষিপণ্য কেনা, উড়োজাহাজ ক্রয়, সামরিক সরঞ্জাম কেনা এবং বাণিজ্যনীতি নির্ধারণের নানা শর্ত। ফলে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ঢাকায় যে প্রশ্নটি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, তা হলো—এটি আদৌ দুই দেশের সমান স্বার্থের বাণিজ্য চুক্তি, নাকি মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ধরে রাখার বিনিময়ে ঢাকার ওপর বিস্তৃত আমদানি ও নীতিগত দায় চাপানোর একটি কাঠামো?
চুক্তির সরকারি নাম ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’। কিন্তু এর শর্ত বিশ্লেষণ করলে দুই পক্ষের দায়ের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক ১৯ শতাংশে নামিয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ৬ হাজার ৭১০টি পণ্যশ্রেণিতে শুল্ক সুবিধা দিতে হয়েছে। বাংলাদেশের ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্যশ্রেণি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সুবিধা পেয়েছে। চুক্তির শর্ত শুধু শুল্কে থেমে নেই।
বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও কৃষিপণ্যের জন্য বাজার আরও খুলতে হয়েছে। রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, মোটরযান ও যন্ত্রাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম, জ্বালানি, সয়া, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, গরুর মাংস, মুরগি, ফল ও বাদামসহ বিভিন্ন পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের সনদ এবং কৃষিপণ্যের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সনদ গ্রহণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে ছাড় দিতে হয়েছে। এরপর আসে বড় অঙ্কের কেনাকাটার প্রতিশ্রুতি।
চুক্তির মূল নথিতে বলা হয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে ১৫ বছরে আনুমানিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন জ্বালানি, বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেনার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ। পাঁচ বছর ধরে প্রতিবছর অন্তত ৭ লাখ টন মার্কিন গম কেনার কথাও রয়েছে। সয়া ও সয়া-জাত পণ্য এবং তুলা কেনার জন্যও ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম কেনা বাড়ানোর এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা সীমিত করার প্রতিশ্রুতিও দিতে হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানেই চুক্তিটির বাণিজ্যিক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর হয়। কারণ একটি সাধারণ বাণিজ্য চুক্তিতে শুল্ক, বাজারে প্রবেশাধিকার ও বাণিজ্য বাধা কমানোর বিষয় থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে করা চুক্তিতে উড়োজাহাজ, জ্বালানি, কৃষিপণ্য ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার বিষয়ও একই কাঠামোর মধ্যে এসেছে।
এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মূলত ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে। ২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক ঘোষণা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর এর বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পোশাক বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হয়। পরে কয়েক দফা আলোচনার মাধ্যমে আগস্টে শুল্ক ২০ শতাংশে নামানো হয়। রয়টার্স জানিয়েছিল, এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতিও আলোচনার অংশ ছিল। এই পর্যায়েই অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর পথে যায়।
গত বছরের ২৭ জুলাই রয়টার্স জানায়, বাংলাদেশ ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা ছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, সয়া-জাত পণ্য ও তুলা আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন শুল্কের চাপ কমানোর কৌশলের অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছিল।
৩০ জুলাই রয়টার্স আরও জানায়, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টন গম কেনার অনুমোদন দিয়েছে। প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছিল ৩০২ দশমিক ৭৫ ডলার। প্রতিবেদনে বলা হয়, একই সময়ে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে পাওয়া গমের তুলনায় মার্কিন গমের দাম ৩০ থেকে ৪০ ডলার বেশি হতে পারে।
অর্থাৎ শুল্কের চাপ কমাতে বাংলাদেশ এমন কিছু পণ্য কেনার দিকে এগিয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে কম দামের বিকল্প বাজারও ছিল। এই জায়গাটিই এখন অর্থনীতিবিদদের অন্যতম উদ্বেগের কারণ। শেষ পর্যন্ত গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, ইউনূস সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর এটিকে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই এর বৈধতা, রাজনৈতিক দায় এবং অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
নীতি-গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ চুক্তিটিকে বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি তোলে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সুখবর ডটকমকে বলেন, আলোচনা শুরু হয়েছিল শুল্ক কমানোর বিষয় হিসেবে। কিন্তু চূড়ান্ত চুক্তিতে এর পরিধি অনেক বিস্তৃত হয়েছে। তার মতে, কোনো শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে। ফলে চুক্তিটি তুলনামূলক দুর্বল অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ আরও কঠোর ভাষায় চুক্তিটির সমালোচনা করেছেন। তিনি এটিকে অসম চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করে নিউ এজকে বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হতে পারে। তিনি চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা ও বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
অর্থনীতিবিদ গোলাম রসুলের আশঙ্কা, মার্কিন পণ্যের জন্য বাড়তি সুবিধা দিলে বাংলাদেশের কৃষি ও শিল্প খাত অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে। গবেষক মাহা মির্জা বিশেষভাবে পোলট্রি, দুগ্ধ ও ওষুধশিল্পের কথা বলেছেন। তার মতে, আমদানির সুবিধা স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য বড় চাপ তৈরি করতে পারে।
চুক্তিটির আরেকটি স্পর্শকাতর দিক হলো প্রতিরক্ষা। বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম কেনা বাড়াতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা সীমিত করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। চুক্তির এই অংশ বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের বড় একটি উৎস চীন।
এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চীনবিষয়ক বৃহত্তর কৌশলও বিবেচনায় আসছে। ২০২৫ সালে মার্কিন সিনেটে ‘থিংক টোয়াইস আইন’ নামে একটি প্রস্তাব আনা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল চীনের অস্ত্র রপ্তানি ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার দেশগুলোর ওপর তার প্রভাব মোকাবিলায় নতুন ব্যবস্থা তৈরি করা। ফলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ক্রয়নীতি নিয়ে ওয়াশিংটনের আগ্রহকে শুধু বাণিজ্যিক দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ সীমিত।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার সঙ্গে দুটি চুক্তি করতে চাইছে। সামরিক তথ্যের নিরাপত্তা এবং সামরিক সরঞ্জাম ও সেবা পারস্পরিক সরবরাহের এসব চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশে আলোচনা চলছে। ফলে বাণিজ্য চুক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক—তিনটি বিষয় এখন একই কৌশলগত সমীকরণে চলে এসেছে। জ্বালানি খাতেও এর প্রভাব দৃশ্যমান।
অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সুখবর ডটকমকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি কেনার প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, চুক্তিটি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো থেকে তুলনামূলক সস্তা জ্বালানি কেনার বাংলাদেশের সুযোগও সীমিত করতে পারে।
এরই মধ্যে চুক্তির বাস্তবায়নও এগোচ্ছে। আগস্টে বাংলাদেশ ১২ বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গুনভর ইউএসএ থেকে ১১৭টি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের চালান কেনার অনুমোদন দিয়েছে। চালানগুলো ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সালের মধ্যে আসার কথা। এতে মোট প্রায় ৭৫ লাখ টন গ্যাস সরবরাহ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে। বাংলাদেশ যদি ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশ থেকে কম দামে গ্যাস পায়, তখন কি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির কারণে সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারবে? একই প্রশ্ন কৃষিপণ্য ও উড়োজাহাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
বাংলাদেশ সরকার অবশ্য চুক্তিটিকে একতরফা হিসেবে দেখছে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সংসদে বলেছেন, চুক্তিটি বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনও বলেছেন, চুক্তিটির লক্ষ্য দুই দেশের জন্য আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করা। তবে প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে—এই ‘পারস্পরিকতা’ কতটা বাস্তব?
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর ১৯ শতাংশ শুল্ক রেখেছে। বাংলাদেশ বিপরীতে হাজার হাজার মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার খুলছে। আবার একই সঙ্গে বাংলাদেশকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি, ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য এবং বিপুল মূল্যের উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিতে হচ্ছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রেও নতুন অঙ্গীকার এসেছে।
চুক্তিটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এতে শুধু আমদানি নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নীতির ওপরও কিছু শর্ত রয়েছে। ভর্তুকি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, কৃষিপণ্যের মান, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অনুমোদন এবং তৃতীয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের ওপর বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
এ কারণেই বিতর্কটি এখন আর শুধু ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে কত পণ্য কেনা হবে’—এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। আসল প্রশ্ন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের স্বাধীনতা কতটা অক্ষুণ্ন থাকবে।
ইউনূস সরকারের সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের দায় এখন নির্বাচিত বিএনপি সরকারের ওপরও এসে পড়েছে। নিউ এজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেছেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার আইনগত ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন আছে এবং নির্বাচিত সরকার চাইলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
অন্যদিকে সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের পথেই এগোচ্ছে। অর্থাৎ যে চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিই এখন ধীরে ধীরে বাস্তব আমদানির কাঠামোয় রূপ নিচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের শুরু হয়েছিল শুল্ক দিয়ে। বাংলাদেশ সেই চাপ সামলাতে আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এরপর সেই প্রতিশ্রুতির একটি অংশ ঢুকে গেছে আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে। এখন জ্বালানি, কৃষি, উড়োজাহাজ ও প্রতিরক্ষা—সবগুলো খাতই একই সমীকরণের অংশ।
ফলে বাংলাদেশের সামনে এখন শুধু একটি বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন হলো, শুল্কের চাপ সামলাতে গিয়ে দেশটি এমন কোনো দীর্ঘমেয়াদি দায় নিচ্ছে কি না, যা ভবিষ্যতে তার বাজার, জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পনীতি ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাকে সংকুচিত করবে।
এই প্রশ্নের উত্তর রাজনৈতিক স্লোগানে নয়। প্রয়োজন চুক্তির প্রতিটি ধারা প্রকাশ্যে পরীক্ষা করা, প্রতিশ্রুত প্রতিটি আমদানির প্রকৃত ব্যয় নিরূপণ করা এবং সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করা। কারণ ১৫ বছরের জ্বালানি দায়, বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য, হাজার কোটি টাকার উড়োজাহাজ এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত—এসবের মূল্য শেষ পর্যন্ত পরিশোধ করবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনগণ।
খবরটি শেয়ার করুন