ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বৃদ্ধ মায়ের ওপর নির্যাতন ও খাবার না দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গলায় পানিভর্তি কলসি ঝুলিয়ে পুরো বাজার ঘোরানোর ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার দুপুরে সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ওই যুবকের নাম মোহাম্মদ সহিদ। তিনি একই ইউনিয়নের চিলাদি গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি পেশায় দিনমজুর। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আজ সোমবার সুখবর ডটকম খোঁজ নিলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই যুবক বাড়িতে ছাগলের মাংস রান্না করার পর তার বৃদ্ধ মাকে এক টুকরাও খেতে দেননি। উল্টো মা যখন খাবারের আকুতি জানান, তখন তাকে নির্মমভাবে মারধর করেন।
বিষয়টি নিয়ে তার মা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে অভিযোগ দিলে গত শনিবার রাতে তাকে চৌকিদার (গ্রামপুলিশ) দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসা হয়। পরে গতকাল সকালে এ ঘটনার ভিডিও দুপুরের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সহিদের গলায় কলসি ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর কলসিতে পানি ভরে পুরো বাজার প্রদক্ষিণ করানো হয়। এ সময় ওই যুবককে দিয়ে উচ্চস্বরে বলানো হয়— ‘এই শাস্তি কিসের লাইগা? মারে মারার লাইগা।’
ভিডিওতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানকে ওই যুবকের পাশে বেত নিয়ে দেখা যায়। তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলেন, ‘কোনো লোক যদি মাকে ভাত না দেয় বা মারধর করে, তবে তাকে পুলিশে দেওয়ার দরকার নেই। আমরা এখানেই বিচার করব। এই লোক এখন গোটা বাজারে হাঁটবে আর চিৎকার করে নিজের অপরাধ স্বীকার করবে।’
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে সতর্কতার জন্য যুবককে এভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার আজ মুঠোফোনে সুখবর ডটকমকে বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।
এদিকে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বৃদ্ধ মায়ের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে এই সামাজিক শাস্তির প্রশংসা করছেন আবার অনেকে মনে করছেন, এ ধরনের প্রকাশ্য শাস্তির বদলে আইনগত ব্যবস্থার মাধ্যমে বিচার হওয়া উচিত ছিল।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন