শুক্রবার, ৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সত্য কথা বলতে হবে, বিএনপির মন্ত্রীদের উদ্দেশে মান্না *** ‘বিএনপি গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করছে’ *** ‘শেখ হাসিনা কেন ব্যর্থ হয়েছেন’ *** সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** ‘বিক্ষোভ গণতন্ত্রের বিষয়, ইসলামি আইনে এর ঠাঁই নেই’ *** নেপাল-তিব্বতে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ১২৮০, নিখোঁজ ৫ হাজারের বেশি *** ‘আপা আইতাছে, ডিসেম্বরের আগেই তোরে মাইরা ফেলমু’-বলেই হামলা *** প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারানো ফিরোজা যাচ্ছিলেন মেয়ের বাড়িতে *** প্রতিমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়ির ধাক্কায় নারীর মৃত্যু *** বন্দর বিদেশিদের দিলে অর্থনৈতিক লাভ, এর প্রমাণ কেউ দেখাতে পারেনি: প্রিন্স

‘বিএনপি গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করছে’

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৮:২৩ অপরাহ্ন, ৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ফাইল ছবি

সরকার বা ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপির কর্মকাণ্ডের সামগ্রিক মূল্যায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় এখনো পেরোয়নি। তবে দলটি কোন দিকে এগোচ্ছে, সে বিষয়ে তথ্যভিত্তিক পূর্বাভাস দেওয়ার মতো সময়ও কম নয়। এমন মন্তব্য করেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম।

আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ডেইলি স্টারের ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পিএম কন্টিনিউজ টু বিল্ড কনফিডেন্স, বিএনপি করোডস ইট’ শিরোনামের নিবন্ধটির উপশিরোনাম ছিল ‘হোয়াট আর দ্য লেসনস অব জুলাই চার্টার দ্যাট নিড টু বি ইমপ্লিমেন্টেড’। অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী আস্থা তৈরি করছেন, বিএনপি তা ক্ষয় করছে—জুলাই সনদের কোন শিক্ষাগুলো বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

মাহফুজ আনাম তার নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সঠিক বার্তাই দিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান ‘জবাবদিহিমূলক শাসনের মাধ্যমে জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান’ দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়ন করতে পারলে জনগণ দীর্ঘদিন তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থানের সঙ্গে বিএনপির কিছু কর্মকাণ্ডের মধ্যে অসংগতি দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন মাহফুজ আনাম। বিশেষ করে বিরোধী দলের সঙ্গে আচরণ, দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কিছু লক্ষণকে তিনি উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মন্ত্রী ও নেতাদের পরিবারের সদস্যরাও এসব সুযোগ নিচ্ছেন বলে তার পর্যবেক্ষণ।

সরকার জনগণের কথা শুনছে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তার মতে, জনগণের প্রকৃত মতামত ক্ষমতার কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছানোর বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা থাকা জরুরি। অতীতে সরকারি ও দলীয় পর্যায়ে এমন ব্যবস্থা ছিল না। অপ্রীতিকর খবর বা এমন কোনো তথ্য, যাতে ‘বস’ অসন্তুষ্ট হতে পারেন, তা ওপরের মহলে পৌঁছাত না। বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে সেই সংস্কৃতির পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন মাহফুজ আনাম। তবে তার মতে, হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া গণমাধ্যম রাজনৈতিক বিভাজনে বিভক্ত। এটি গণমাধ্যমের জন্য যেমন স্বাস্থ্যকর নয়, তেমনি ক্ষমতাসীনদের জন্যও সহায়ক নয়। এরপরও তিনি উল্লেখ করেছেন, বিএনপি এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করছে। এ জন্য সরকারকে তিনি সাধুবাদ জানিয়েছেন।

মাহফুজ আনামের মতে, জবাবদিহিমূলক সরকারের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর একটি হলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সততার ভিত্তিতে নিয়োগ। কিন্তু বিএনপি সরকারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় লোকজনকে বসানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল করে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়, পেশাজীবী সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের অনুগতদের স্থান দেওয়ার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেছেন।

নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এ নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। জামায়াতের নেতারা স্থানীয় সরকারের সব স্তর থেকে দলীয় প্রশাসক প্রত্যাহার এবং নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের আসন্ন নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি তুলেছেন। মাহফুজ আনামের মতে, এসব দাবি সহজে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়।

মন্ত্রণালয় পরিচালনায় দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। একাধিক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা থাকায় তাঁদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দিলে আমলারা কার কাছে নির্দেশনা নেবেন, তা নিয়ে জটিলতায় পড়তে পারেন। এ ধরনের পরিস্থিতি প্রভাব খাটানো, স্বজনতোষণ ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বিএনপির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মাহফুজ আনাম। তার মতে, সংবিধান প্রধানমন্ত্রীকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে এবং সেই ক্ষমতার ওপর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল। জুলাই সনদের অন্যতম লক্ষ্যই হলো প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতা কমিয়ে তাকে সংসদের কাছে আরও জবাবদিহিমূলক করা।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশের মধ্যে প্রকৃত সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি বিধান মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্বাধীন বিচার বিভাগ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার বিধানগুলোর পরিবর্তে নতুন আইনে কতটা কার্যকর সংস্কার হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। গুম ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইন নিয়েও তাঁর মূল্যায়ন নেতিবাচক।

সবশেষে মাহফুজ আনাম শেখ হাসিনার ব্যর্থতার একটি কারণ হিসেবে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে না দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তার মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি সত্যিই জবাবদিহিমূলক শাসন নিশ্চিত করতে চান, তাহলে এমন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে, যেগুলো সরকারকেও জবাবদিহির আওতায় রাখতে পারে। ব্যক্তির ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় লক্ষ্য এগিয়ে নিতে সক্ষম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই বিএনপির জন্য জুলাই সনদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা কি না—সেই প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।

মাহফুজ আনাম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250