বৃহস্পতিবার, ১লা অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** পাঁচ দিনের ব্যবধানে শেখ হাসিনার নিউইয়র্ক-লন্ডনে বক্তব্য, ঢাকা কেন প্রতিবাদ জানায়নি *** স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী *** সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী *** বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্কে রপ্তানি, বাড়ছে আয় *** ‘আড়াই মাস পর ফেসবুক ভিডিওর কল্যাণে স্ত্রীকে খুঁজে পেলাম’ *** মার্কিন ভিসাপ্রার্থী বিদেশি সাংবাদিকদের সামাজিকমাধ্যমের প্রোফাইল যাচাই শুরু *** মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক আহত *** সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের জরুরি সতর্কবার্তা *** ভারতের কাছে নাজেহাল শ্রীলঙ্কাই এখন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ *** এক পরিবর্তন নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, ১লা অক্টোবর ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকে তারা এবং ওরা, ওই যে যারা পালিয়ে গেছে, ওরা এবং এই গুপ্ত। এই স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েক দিন পরেই আমরা কী দেখলাম, এই গুপ্ত বাহিনীর লোকজন বলল, তারা যদি আসে, থাকে, কাজ করে আমাদের কোনো আপত্তি নাই। আপত্তি থাকবে কেমন করে। বরাবরই তো এরা একসঙ্গে ছিল। ৯১-তেও তারা একসঙ্গে ছিল, ৮৬ সালেও একসঙ্গে ছিল, গত নির্বাচনের সময়ও তারা একসঙ্গেই ছিল। তলে তলে কাজ করেছিল। এ জন্যই তো তাদের গুপ্ত বলা হয়।’

তারেক রহমান বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপির নেতা-কর্মীরা নির্যাতিত হয়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা জেল-জুলুম, হত্যা, গায়েবি মামলার শিকার হয়েছে। শুনেছেন তাদের কেউ এসবের শিকার হয়েছিল? আপনারাও তো মাঠে নেমে এসেছিলেন, হরতাল, মিছিল-মিটিং করেছিলেন, তাদের কাউকে দেখেছিলেন? তারা রাজপথে কেউ ছিল না।  

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা কিছুদিন যাবৎ খেয়াল করে দেখছি, এই দেশের কিছু সংখ্যক মানুষ একটি অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। করছে না? খেয়াল করেছেন আপনারা? কী বলে, এক দফা, এক দফা। আপনারাই কিন্তু বললেন, আমরা যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছি, বর্তমান সরকার যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছে, এ কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করলে কার উপকার হবে? মানুষের উপকার হবে। সাধারণ মানুষের, খেটে খাওয়া মানুষের উপকার হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরেকটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি, যারা এক দফা এক দফা বলছে অথবা যারা এ দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মানুষ আন্দোলন করেছিল, যারা মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল—এদের কি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আছে? এদের কি খালকাটা কর্মসূচি আছে? এদের কি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আছে? এদের কি কৃষক কার্ড আছে? এদের দলের কর্মসূচির মধ্যে কি ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা আছে? এদের কি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০-এর বদলে ১৫০ বেডে করার কর্মসূচি আছে? তাহলে তারা কিসের রাজনীতি করে? মানুষের কর্মসূচি কই?

সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন চায় ভাগ্যের পরিবর্তন। কেউ কি খারাপ অবস্থায় সব সময় থাকতে চায়? মানুষ তার অবস্থার পরিবর্তন করতে চায়। আমরা মনে করি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যদি মা-বোনদের জন্য সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি, ইমাম সাহেব, মুয়াজ্জিন সাহেবসহ অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিদের মিনিমাম একটি সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে যদি কৃষক ভাইদের কাছে সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি, তাহলে ধীরে ধীরে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। অর্থনৈতিকভাবে এই মানুষগুলো আস্তে আস্তে সচ্ছল হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের মানুষ যখন সচ্ছল হয়ে উঠবে তখন বাংলাদেশও অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হয়ে উঠবে।’  

তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন করতে চায়, ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের সম্মানী বাস্তবায়ন করতে চায়, বিএনপি কৃষক কার্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়, খাল খনন করতে চায়, বন্ধ মিল-কারখানা চালু করতে চায়। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের এই কর্মসূচিগুলো দেখেছেন? যদি না দেখে থাকেন তাহলে যারা আজ দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে, দেশের মধ্যে একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাচ্ছে, তাদের ব্যাপারে আমাদের কী সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত? মুয়াজ্জিন সাহেবরা বলেন না তাদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত? তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক হতে হবে।’

এর আগে সভার শুরুতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

সভা শেষে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন বেলা আড়াইটার দিকে প্রধানমন্ত্রী ফেনী সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথমে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে ফুলগাজীর খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250