শনিবার, ৩রা অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সাজানো মামলা প্রত্যাহার করুন, আখতারুজ্জামানকে মুক্তি দিন: জামায়াত আমির *** বিডিনিউজ সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই *** বৃদ্ধাশ্রমে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ইমাম বললেন—‘সেবা করতে গিয়েছিলাম’ *** যাকে কাশ্মীরে নিহত বলেছিল ভারত, তাকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করল পাকিস্তান, নেপথ্যে কী *** আর্জেন্টিনার হয়ে বিদায়ের আগে দেশে ফিরলেন মেসি *** ভারতে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ: ৭ শতাধিক আটক, বন্ধ মেট্রো-ইন্টারনেট *** কারাগারে থেকেও বিপুল ভোটে জয়ী আওয়ামী লীগ নেতা *** শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতকে চিঠি, অস্থিতিশীলতা কঠোরভাবে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি সংস্কৃতিমন্ত্রীর *** বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা: জামায়াতের আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা *** রেমিট্যান্স আয় ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

সুখবর এক্সপ্লেইনার

পাঁচ দিনের ব্যবধানে শেখ হাসিনার নিউইয়র্ক-লন্ডনে বক্তব্য, ঢাকা কেন প্রতিবাদ জানায়নি

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৯:৪০ অপরাহ্ন, ১লা অক্টোবর ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

দিল্লিতে শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেওয়ামাত্র ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ভারতের মাটি ব্যবহার করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু পাঁচ দিনের ব্যবধানে নিউইয়র্ক ও লন্ডনের মঞ্চে শেখ হাসিনা বক্তব্য দিলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে কঠোরভাবে আক্রমণ করলেন, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিলেন—কিন্তু ঢাকার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ দেখা গেল না।

প্রশ্ন উঠেছে, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তি কি কেবল দিল্লিকে ঘিরেই? যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাইকমিশন থাকা সত্ত্বেও কেন ওয়াশিংটন ও লন্ডনের কাছে একই ধরনের আপত্তি জানানো হলো না? আর ভারতের ক্ষেত্রে যে বিষয়কে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য স্পর্শকাতর বলা হয়েছিল, নিউইয়র্ক ও লন্ডনের ক্ষেত্রে সেটি কেন প্রকাশ্য কূটনৈতিক প্রতিবাদের কারণ হলো না?

গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার আয়োজনে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম বড় ধরনের প্রকাশ্য বক্তব্য। তিনি দেশে ফেরার ইচ্ছা, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং তার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

ওই কর্মসূচিকে ঘিরে ঢাকার প্রতিক্রিয়া ছিল প্রকাশ্য ও কঠোর। ৩ আগস্ট বাংলাদেশ ভারত সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল, শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী থেকে ওই অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে যাচ্ছেন কেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল, ভারতের মাটি ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।

৫ আগস্টের অনুষ্ঠানের পরও বিষয়টি থামেনি। ৮ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানায়, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না এবং সেখানে শেখ হাসিনা বা অন্য কারও বক্তব্য ভারত সরকার সমর্থন করে না। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, নয়াদিল্লি বিশেষভাবে বাংলাদেশের ‘যথাযথভাবে গঠিত সরকার’ সম্পর্কে অনুষ্ঠানে প্রকাশিত বক্তব্যের সঙ্গে নিজেদের দূরত্ব স্পষ্ট করেছিল।

অর্থাৎ ৫ আগস্টের ঘটনায় তিনটি বিষয় স্পষ্ট ছিল—অনুষ্ঠানটি ছিল বেসরকারি, শেখ হাসিনা ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে যুক্ত হয়েছিলেন এবং বাংলাদেশ প্রকাশ্যে ভারতের কাছে আপত্তি জানিয়েছিল। ভারতও প্রকাশ্যেই জবাব দিয়েছিল।

এরপর আসে ২৪ সেপ্টেম্বরের নিউইয়র্ক পর্ব। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন।

একই সময়ে নিউইয়র্কে শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন—এমন তথ্য আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট প্রচার ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে বিষয়টি জানানো হয়। সেখানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল এবং বর্তমান সরকার নিয়ে তিনি বক্তব্য দেন বলে দলীয় সূত্রে প্রচার করা হয়। তবে ২৪ সেপ্টেম্বরের ওই কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মূলধারার গণমাধ্যমে ৫ আগস্টের দিল্লি অনুষ্ঠানের মতো বিস্তৃত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাপ্রবাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি আসে পাঁচ দিন পর, ২৯ সেপ্টেম্বর লন্ডনে।

লন্ডনের ওয়ান গ্রেট জর্জ স্ট্রিটের গডফ্রে মিচেল কক্ষে ‘সেফগার্ডিং ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ: রাইটস, ফ্রিডমস অ্যান্ড দ্য রুল অব ল’ শীর্ষক সেমিনারে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স। সংস্থাটির নিজস্ব পরিচয় অনুযায়ী, এটি গণতন্ত্র, সুশাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের বিষয়ে কাজ করে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার ১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা বলেন। তিনি বাংলাদেশকে শাসন, নিরাপত্তা ও জনআস্থার ক্ষেত্রে গভীর সংকটে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যে দেশে জঙ্গিবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের নতুন করে হুমকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কার কথাও উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয়ও উপস্থিত ছিলেন। সরাসরি উপস্থিত বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ এমপি বব ব্ল্যাকম্যান এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য পাওলো কাসাকা। টাইমস অব ইন্ডিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।

গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্সের প্রচারিত কর্মসূচির তথ্যেও ২৯ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানটির সময়, স্থান এবং বক্তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয় অনলাইনে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল এবং বব ব্ল্যাকম্যান ও পাওলো কাসাকার সরাসরি উপস্থিত থাকার কথা জানানো হয়েছিল।

লন্ডনের এই অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তাদের বক্তব্যের পরও ঢাকার পক্ষ থেকে ব্রিটিশ সরকারের কাছে কোনো প্রকাশ্য প্রতিবাদের তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছেও বাংলাদেশের প্রকাশ্য প্রতিবাদের তথ্য সামনে আসেনি।

এখানেই প্রশ্নটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কেন ভারতের কাছে ব্যাখ্যা চাইল? কেন বলা হলো, ভারতের ভূখণ্ড থেকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে? অথচ একই ব্যক্তির নিউইয়র্ক ও লন্ডনের বক্তব্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সরকারের কাছে প্রকাশ্য একই ধরনের আপত্তি দেখা গেল না?

আরও একটি সময়ের যোগসূত্র রয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বরই ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাসস জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সদ্য সমাপ্ত অধিবেশন নিয়ে আলোচনা হয়। হুমায়ুন কবির ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের পর হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা হবে। একই দিনে দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ‘একেবারেই ইতিবাচক’ বলে বর্ণনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভারত সফরের আমন্ত্রণ বহাল থাকার কথা জানান।

অর্থাৎ ২৯ সেপ্টেম্বর যখন লন্ডনে শেখ হাসিনা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন, একই দিন ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের বৈঠকে ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মানের কথা বলা হচ্ছে। অথচ ওই বৈঠকে শেখ হাসিনার লন্ডন অনুষ্ঠান নিয়ে বাংলাদেশের কোনো প্রকাশ্য আপত্তির তথ্য নেই।

এখানে বাংলাদেশের ঘোষিত পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নও সামনে আসে। পররাষ্ট্রনীতির বহুল ব্যবহৃত মূলনীতি হলো—‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’। জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজের একটি প্রকাশনায় সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের আলোকে এই নীতির ব্যাখ্যায় জাতীয় সার্বভৌমত্ব, সমতা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রশ্ন হলো, শেখ হাসিনার বক্তব্যের ক্ষেত্রে একই ধরনের কূটনৈতিক নীতি কি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ হচ্ছে? নাকি দিল্লির সঙ্গে শেখ হাসিনার অবস্থান ও প্রত্যর্পণ ইস্যুটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে?

এর পেছনে আরেকটি বাস্তবতা রয়েছে। শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে এবং ২৪ সেপ্টেম্বরও তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে ৮ অক্টোবর করা হয়।

ফলে শেখ হাসিনার ভারত অবস্থান সরাসরি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের ২৪ সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণেও শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে গুরুত্বপূর্ণ বাধাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কিংবা লন্ডনে যুক্তরাজ্যের মাটিতে তার বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি একইভাবে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। ফলে কূটনৈতিকভাবে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়ার পার্থক্যও প্রশ্ন তৈরি করছে।

আরেকটি প্রশ্ন হলো, ভারতের ক্ষেত্রে ঢাকা যে যুক্তি দিয়েছিল—ভারতের ভূখণ্ড থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে—সেই যুক্তি কি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নয়? যদি প্রযোজ্য হয়, তাহলে ওয়াশিংটন ও লন্ডনের কাছে একই ধরনের আপত্তি জানানো হয়নি কেন? আর যদি প্রযোজ্য না হয়, তাহলে ৫ আগস্ট দিল্লির অনুষ্ঠানকে ঘিরে বাংলাদেশের অবস্থানের ভিত্তি কী ছিল?

বর্তমান সরকারের ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের তৎপরতাও একই সময়ে দৃশ্যমান। ২৯ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে হুমায়ুন কবির ভারতীয় হাইকমিশনারকে বলেছেন, দুই দেশ পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তাই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে এখন যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, সেটি শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়বস্তুর চেয়েও দেশের প্রতিক্রিয়ার সামঞ্জস্য নিয়ে। দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য প্রতিবাদ, আর পাঁচ দিনের ব্যবধানে নিউইয়র্ক ও লন্ডনে তার বক্তব্যের পর প্রকাশ্য নীরবতা—এই দুই অবস্থানের মধ্যে পার্থক্যের ব্যাখ্যা কী?

দেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলকথা যদি সত্যিই সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব ও কারও সঙ্গে বৈরিতা না করা হয়, তাহলে প্রশ্নটি আরও সরাসরি: বিএনপি সরকার কি ভারতের ক্ষেত্রেও সেই একই নীতি অনুসরণ করছে, নাকি শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের হিসাবটি অন্য দুই দেশের তুলনায় আলাদা? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো সরকার প্রকাশ্যে দেয়নি।

শেখ হাসিনা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250