বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** তোষামোদের বক্তব্যে শেখ হাসিনা ও তারেক রহমান দুজনই ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী’ *** অপারেশন সিঁদুরের পর আলোচনায় জে–১০সিই, বাংলাদেশ কেন কিনতে চায় চীনের এই যুদ্ধবিমান *** কারাগারে মৃত্যু, দীর্ঘ আটক: এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের যেসব নেতার নাম *** কারাগারে হার্ট অ্যাটাক হলেও তখন জামিন পাননি খায়রুল হক *** বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা *** এই অল্প সময়ে বেশি কিছু আশা করা ঠিক হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** হরমুজে ‘অস্থায়ী নৌপথ’ চালু করছে ইরান–ওমান, আছে শর্তও *** আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) *** তিন সাংবাদিককে মারধরের পর বিএনপি নেতা বললেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা পিডামু’ *** সরকার চায় শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থাকুন, আল জাজিরাকে বিশেষজ্ঞরা

সুখবর এক্সপ্লেইনার

তোষামোদের বক্তব্যে শেখ হাসিনা ও তারেক রহমান দুজনই ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী’

প্রণব সাহা

🕒 প্রকাশ: ১১:২২ অপরাহ্ন, ২৬শে আগস্ট ২০২৬

#

ফাইল ছবি

রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন নেতাকে ঘিরে অতিরঞ্জিত প্রশংসা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে চর্চা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, সেটি আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও থামেনি। বরং বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সেই পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির কিছু চেনা প্রকাশ সামনে এসেছে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তাকে ‘বেহেশতে যাওয়ার অধিকারী’, ‘হযরত’, ‘আওলাদে আউলিয়া’, ‘মানবতার মা’ বা ‘বিশ্বের তিনজন সৎ প্রধানমন্ত্রীর একজন’ বলা হয়েছিল। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বলা হচ্ছে ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী’; এমনকি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার তুলনাও করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক এই ধারার সবচেয়ে আলোচিত বক্তব্যটি এসেছে মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুর কাছ থেকে। গত সোমবার (২৪ আগস্ট) কুলাউড়ার শাহজালাল উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী আমাদের তারেক রহমান। তিনি যে পরিমাণে পরিশ্রম করেন, তা পৃথিবীর আর কোনো প্রধানমন্ত্রী করেন বলে মনে হয় না।’ একই বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ব্যয় কমানোর বিভিন্ন উদ্যোগ ও বিদেশ সফরে কমসংখ্যক সঙ্গী নেওয়ার প্রশংসা করেন এবং কুলাউড়ার বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়নকাজ শেষ করার আশ্বাস দেন।

এটি অবশ্য শওকতুল ইসলামের প্রথম এমন মন্তব্য নয়। চলতি বছরের ৪ জুনের এক বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হলে সেটি তারেক রহমান পাবেন। ২৪ আগস্টই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তারেক রহমানের তুলনা করেছেন সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল (জাসাস) আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, নজরুল তার সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বেঁচে আছেন, আর ‘আমাদের নজরুল হলেন তারেক রহমান’।

এর কয়েক সপ্তাহ আগেও সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসাকে ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে যুক্ত করার নজির দেখা গেছে। সংসদ সদস্য মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত তিলাওয়াত করে বলেন, ‘শোকর করতে হবে জীবনের। শোকর করতে হবে বরাদ্দের। শোকর করতে হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। শোকর করতে হবে আমাদের মাননীয় মন্ত্রীদের।’ তার বক্তব্যের আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে সংসদে বিতর্কও হয়।

পবিত্র কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বিতর্ক হয়। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর একাধিক সদস্য প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্য পবিত্র কোরআনের আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ নতুন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ক্ষমতাসীন দলের কয়েক নেতার বক্তব্যে এমন এক ধরনের ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রশংসা দেখা যাচ্ছে, যার সঙ্গে আওয়ামী লীগ আমলের রাজনৈতিক ভাষার যথেষ্ট মিল রয়েছে। পার্থক্য শুধু প্রশংসিত ব্যক্তির নামের ক্ষেত্রে।

শেখ হাসিনার আমলে এ ধরনের বক্তব্যের তালিকা দীর্ঘ। ২০১৮ সালের ২০ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম টাঙ্গাইলে এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে ‘মানবতার মা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী ‘মানবতার মা’ হিসেবে সমাদৃত হয়েছেন এবং তার কাছ থেকে সবাই শিক্ষা নিচ্ছেন।

২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান আরও এক ধাপ এগিয়ে যান। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘উন্নয়ন মেলা-২০১৯’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের মানুষ তিনবেলা ভাত খাচ্ছে, ৯৫-৯৬ শতাংশ ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। এসব উন্নয়নের জন্য শেখ হাসিনা এত ‘পুণ্য’ অর্জন করেছেন যে তার ‘বেহেশতে যাওয়ার অধিকার’ বা ‘হক’ আছে।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকারদলীয় হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের বক্তব্যও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে তিনি শেখ হাসিনাকে ‘হযরত’ সম্বোধন করেন। পরে ৯ ফেব্রুয়ারি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের পোস্টে এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শেখ হাসিনাকে ‘আওলাদে আউলিয়া’ বলেও উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।

২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট সাবেক পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীমও শেখ হাসিনাকে ‘মানবতার মা’ হিসেবে অভিহিত করেন। শরীয়তপুরে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সব সময় মানবতার পাশে থাকেন এবং দুর্যোগে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাই অসহায় মানুষের পাশে ছিলেন।

২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ফরিদপুরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা ‘সারা বিশ্বের তিনজন সৎ প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একজন’। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বেঁচে থাকতে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ক্ষতি হতে দেবেন না।

এটি অবশ্য আব্দুর রহমানের একক বক্তব্য ছিল না। আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনাকে বিশ্বের ‘তিনজন সৎ প্রধানমন্ত্রী’র একজন, ‘চারজন পরিশ্রমী রাষ্ট্রনায়ক’-এর একজন এবং ‘দশজন প্রভাবশালী নেতা’র একজন হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক সংস্কারের যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তার প্রতিফলন কি ক্ষমতার ভাষায় আদৌ ঘটেছে? শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতা, প্রতিষ্ঠান দুর্বল হওয়া, সমালোচনার জায়গা সংকুচিত হওয়া এবং ক্ষমতাসীনদের চারপাশে অতিরিক্ত আনুগত্যের সংস্কৃতির কথা আলোচিত হয়েছে। অথচ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও যদি প্রধানমন্ত্রীকে ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ’ বলা, জাতীয় কবির সঙ্গে তুলনা করা বা তার প্রতি ধর্মীয় অভিধা প্রয়োগের প্রবণতা ফিরে আসে, তাহলে সংস্কারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার সরকারের বহু মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা বিভিন্ন মামলায় আসামি হয়েছেন। তাদের কেউ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন, কেউ বিদেশে অবস্থান করছেন বা আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে কারও বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ থাকাকে আদালতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো, যে নেতাদের অনেকেই ক্ষমতাসীন অবস্থায় শেখ হাসিনার প্রশংসায় উচ্চকণ্ঠ ছিলেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর তাদের একটি বড় অংশ আর সেই রাজনৈতিক প্রভাবের জায়গায় নেই।

এখানেই তোষামোদের রাজনীতির সবচেয়ে বড় শিক্ষা। ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিকে অতিমানবীয় করে তুললে প্রথমে সুবিধা পান প্রশংসাকারীরা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হন নেতা, প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক দল—তিন পক্ষই। দেশে এই সংস্কৃতির শিকড় আরও পুরোনো। ১৯৮২ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা নেওয়ার পর তার চারপাশেও প্রশংসাকারীদের একটি বলয় তৈরি হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের সে সময়কার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও অধিকাংশ পত্রিকার প্রথম পাতায় এরশাদের বক্তৃতা ও হেলিকপ্টার সফর নিয়ে প্রশংসামূলক প্রতিবেদন প্রাধান্য পেত।

রাজনীতিতে এরশাদ আমলকে তোষামোদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে উল্লেখ করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এরশাদের সময় তোষামোদ নতুন মাত্রা পেয়েছিল। সেখানে এমন উদাহরণও দেওয়া হয়েছে যে, তার এক মন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছিলেন, এরশাদ চাইলে তাকে রাস্তাও ঝাড়ু দিতে বললে তিনি তা করবেন।

কেন রাজনীতিতে এই তোষামোদ টিকে থাকে—এর একটি সরল উত্তর আছে। ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা মানে পদ, মনোনয়ন, ব্যবসায়িক সুবিধা, প্রশাসনিক প্রভাব বা রাজনৈতিক ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পাওয়ার সম্ভাবনা। ফলে কোনো নেতা যখন চারপাশে শুধু প্রশংসা শুনতে চান, তখন তার দলের নেতারাও বাস্তবতার চেয়ে নেতার মন রক্ষাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। প্রথম আলোর একটি বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীনদের অতিরিক্ত প্রশংসার পেছনে একটি কারণ আন্তরিক শুভেচ্ছা হলেও আরেকটি উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে সুবিধা পাওয়া।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এই প্রবণতাকে ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি’, ‘ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি’ এবং চরম পর্যায়ে ‘ব্যক্তিত্বের পূজার রাজনীতি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর সঙ্গে স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতির সম্পর্কও রয়েছে। মিথ্যা প্রশংসা একজন নেতাকে এমন ধারণা দিতে পারে যে তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং চূড়ান্ত কর্তৃত্বের অধিকারী। এর ফলে নেতা বাস্তবতা থেকে দূরে সরে গিয়ে ক্রমে স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠতে পারেন।

ডেইলি স্টারের এক বিশ্লেষণেও তোষামোদকে ক্ষমতাবান ব্যক্তির জন্য এক ধরনের ‘পেশাগত বিপদ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তোষামোদকারীরা সাধারণত নেতার স্বার্থে গঠনমূলক সমালোচনা করেন না; বরং তারা নেতার সঙ্গে সুসম্পর্ক ও ব্যক্তিগত সুবিধা ধরে রাখার জন্য সবকিছুর সঙ্গে একমত হন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলী রিয়াজ শেখ হাসিনার শাসনামলে শেখ মুজিবুর রহমানকে ঘিরে ব্যক্তিত্বের পূজার সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তার ভাষ্যে, এই ধরনের রাজনৈতিক কাঠামোর লক্ষ্য হয়ে ওঠে কোনো নেতার ঐতিহাসিক অবস্থানকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নিয়ে যাওয়া।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অধ্যাপক আলী রিয়াজ দেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামো নিয়েও সতর্ক করেছিলেন। তার মতে, বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামো এমন এক কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা তৈরির সুযোগ করে দিয়েছে, যেখানে ব্যক্তিত্বের পূজাভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।

আর এ কারণেই জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর ‘নতুন বাংলাদেশ’, ‘সংস্কার’, ‘ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ’ ও ‘জবাবদিহি’র যে কথা বলা হয়েছিল, তার প্রকৃত পরীক্ষা শুধু সংবিধান পরিবর্তন বা নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরিতে নয়; রাজনৈতিক দলের ভেতরের আচরণেও। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের জন্য প্রশংসা করা আর তাকে ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী’ বলা এক বিষয় নয়। একইভাবে কোনো নেতার রাজনৈতিক অবদান স্বীকার করা আর তাকে জাতীয় কবির সঙ্গে তুলনা করাও এক নয়।

গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নেতার প্রতি আনুগত্যের চেয়ে নীতির প্রতি আনুগত্য গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের সাফল্য বিচার হওয়ার কথা অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন ও নাগরিক অধিকারের বাস্তব ফলাফলে। কিন্তু সেই জায়গায় যদি রাজনৈতিক কর্মীদের প্রধান প্রতিযোগিতা হয়ে ওঠে কে নেতার প্রশংসায় আরও বড় শব্দ ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে ২০২৪ সালের পরিবর্তনের পরও রাজনৈতিক সংস্কৃতির মৌলিক পরিবর্তন ঘটেছে—এমন দাবি করা কঠিন।

শেখ হাসিনার সময়ের অভিজ্ঞতা তাই নতুন সরকারের জন্যও সতর্কবার্তা। ক্ষমতার চারপাশে প্রশংসাকারীদের ভিড় যত বাড়ে, বাস্তবতা তত দূরে সরে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। আজ যারা ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী’ বলছেন, তাদের কথার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সেই প্রশংসার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে, নাকি সমালোচনা ও জবাবদিহির রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করে।

কারণ দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটাই—ক্ষমতাসীন নেতার চারপাশে তোষামোদের দেয়াল যত উঁচু হয়, জনগণের সঙ্গে ক্ষমতার দূরত্বও তত বাড়ে। আর সেই দূরত্ব একসময় রাজনৈতিক পতনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

তোষামোদের বক্তব্যে শেখ হাসিনা ও তারেক রহমান দুজনই ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী’

🕒 প্রকাশ: ১১:২২ অপরাহ্ন, ২৬শে আগস্ট ২০২৬

অপারেশন সিঁদুরের পর আলোচনায় জে–১০সিই, বাংলাদেশ কেন কিনতে চায় চীনের এই যুদ্ধবিমান

🕒 প্রকাশ: ০৮:৪০ অপরাহ্ন, ২৬শে আগস্ট ২০২৬

কারাগারে মৃত্যু, দীর্ঘ আটক: এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের যেসব নেতার নাম

🕒 প্রকাশ: ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, ২৬শে আগস্ট ২০২৬

কারাগারে হার্ট অ্যাটাক হলেও তখন জামিন পাননি খায়রুল হক

🕒 প্রকাশ: ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, ২৬শে আগস্ট ২০২৬

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

🕒 প্রকাশ: ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, ২৬শে আগস্ট ২০২৬

Footer Up 970x250