জর্ডানের হামুদ চার্চে জানাজা চলাকালে বন্দুকধারীদের গুলিতে আহতদের আল-কারাক সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
জর্ডানে একটি গির্জায় শেষকৃত্য অনুষ্ঠান চলাকালে বন্দুকধারীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৭ জন নিহত ও অন্তত আরও ৪০ জন আহত হয়েছেন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার দেশটির কারাক গভর্নরেটের হামুদ গির্জায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। জর্ডানের খ্রিষ্টান সংখ্যালঘুদের ওপর এমন হামলার ঘটনা বিরল। কর্তৃপক্ষ একে উগ্রপন্থীদের সন্ত্রাসী হামলা বলে অভিহিত করেছে।
দেশটির জননিরাপত্তা অধিদপ্তরের প্রধান মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ আল-মায়তা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, হামলায় আহতদের বেশিরভাগই এখনো চিকিৎসাধীন। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিন আল ফারায়েহ বলেন, ‘উগ্রপন্থীরা’ এ হামলা চালিয়েছে। তবে জর্ডানের ভেতরে বা বাইরের পরিচিত কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে হামলাকারীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুলনামূলক স্থিতিশীল দেশ জর্ডানে এ ধরনের হামলা খুবই বিরল।
দেশটির সরকার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা একাধিক হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করেছে। তবে, এ হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-মামলাকায় প্রচারিত বন্দুক হামলার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনজন ফুটপাত থেকে গির্জা লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছেন। তারা গাছ ও নিচু দেয়ালের আড়ালে অবস্থান নেন। পরে হামলাকারীদের গির্জার প্রবেশপথের দিকে দৌড়ে যেতে দেখা যায়।
ভিডিওটি গির্জার নিরাপত্তা ক্যামেরার ধারণ করা হতে পারে।
জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘এটি সন্ত্রাসী মতাদর্শ ও অন্ধ উগ্রবাদের ফল। আমরা সমাজকে এ পথে যেতে দেব না।’
শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন বলেন, সেখানে অনেক মানুষ ছিলেন। বন্দুকধারীরা কয়েক মিনিট ধরে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ইহাব আম্মারিন বলেন, হামলার পর রক্তাক্ত মানুষদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়তে দেখেছেন। ‘মানুষ কাঁদছিল, চিৎকার করছিল। বিষয়টি বর্ণনা করা কঠিন,’ বলেন তিনি।
হামলার কয়েক ঘণ্টা পর জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ কারাক সফর করেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘কারাকে সন্ত্রাসী হামলার সবচেয়ে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। যারা মনে করে, বন্দুকের মাধ্যমে জর্ডানিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারবে, তারা আমাদের ঐক্যের সামনে কোনো সুযোগ পাবে না।’
হামলার পর গির্জার ভেতরের রয়টার্সের ধারণ করা ভিডিওতে প্রবেশপথের কাছে মেঝেতে রক্তের দাগ দেখা যায়। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক্সে দেওয়া পোস্টে এ সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বেসামরিক মানুষ ও উপাসনালয়ে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জর্ডানের জনসংখ্যার একটি অংশ খ্রিষ্টান। দেশটিতে বাইবেলে উল্লেখিত বেশ কয়েকটি স্থান রয়েছে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে খ্রিষ্টান তীর্থযাত্রীরা আসেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর ইরানের হামলার শিকার হওয়া আঞ্চলিক মার্কিন মিত্রদের মধ্যে জর্ডানও ছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
খবরটি শেয়ার করুন