বুধবার, ১৪ই জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** মুসলিম ব্রাদারহুডের তিনটি শাখাকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের *** শেষ চার মাস মন্ত্রণালয়ে আমাকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি: মাহফুজ আলম *** হাদি-মুছাব্বির-সাম্য হত্যার বিচার হতে হবে এ মাটিতে, ইনশাআল্লাহ: মির্জা ফখরুল *** বাহরানে প্রবাসীর বাসায় অনেক পোস্টাল ব্যালট, ব্যবস্থা চায় বিএনপি *** অভ্যুত্থানের পর দেশে আট মাস যেভাবে পালিয়ে ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী *** পাকিস্তানের ‘দরদ’ দেখানোর প্রয়োজন নেই, বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রসঙ্গে হামিন *** চট্টগ্রাম বন্দরে চাকরি পেলেন ৯ জুলাই যোদ্ধা *** যে ইস্যুতে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ চায় বিএনপি *** ‘সাংবাদিকদের স্নাতক হওয়ার বাধ্যবাধকতায় সাংবিধানিক অধিকার খর্ব হবে’ *** বাম ও মধ্যপন্থী মতাদর্শের তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আসছে

টমেটো চাষে বদলে গেছে পাবনার কয়েকটি গ্রামের অর্থনীতির চিত্র

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, ২৫শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

টমেটো চাষে বদলে গেছে পাবনার প্রত্যন্ত গ্রাম খলিলপুরসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের অর্থনীতির চিত্র। শীতকালীন এ সবজি উৎপাদনে কৃষকদের ধারাবাহিক সাফল্যে গ্রামটি খ্যাতি পেয়েছে ‘টমেটো গ্রাম’ নামে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হচ্ছে সারাদেশে।

তথ্য বলছে, সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চর খলিলপুরে ২ যুগ আগে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম টমেটো চাষ করেন আনসার আলী। শুরুতেই তার কাছে ধরা দেয় ব্যাপক সফলতা। এটা দেখে টমেটো চাষে ঝুঁকেছেন আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের কৃষকরাও। ফলে এলাকার প্রায় পুরো জমি এখন টমেটো বাগানে রূপ নিয়েছে।

কৃষি উদ্যোক্তা আনসার আলী বলেন, ‘জৈব বালাইনাশক ও উন্নত জাতের টমেটো চাষ করলে সহজেই লাভের মুখ দেখা সম্ভব। আমি প্রচলিত মিন্টু সুপার জাতের পাশাপাশি সুলতান সুলেমান ও মিরাক্কেল জাতের টমেটো চাষ করেছি। মিরাক্কেল জাতের টমেটো আকারে বড় ও দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। ফলে অন্য টমেটোর চেয়ে দামও বেশি। প্রতিটি টমেটোর ওজন কমপক্ষে ৫০০ গ্রাম। সব মিলিয়ে টমেটো চাষে শুধু আমার নয়, ভাগ্য বদলেছে গ্রামের অনেক চাষির।’

চাষিরা জানান, ১ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করতে সার, বীজ ও শ্রমিকসহ খরচ হয় ২৫-২৭ হাজার টাকা। এবার বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ২০০-৩০০ মণ। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা দরে। উৎপাদন খরচ বাদে প্রতি বিঘা জমির টমেটো বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। প্রতি বছর বিঘাপ্রতি ৬০-৭০ হাজার টাকা লাভের মুখ দেখছেন তারা। এ কারণে অন্য ফসল ছেড়ে টমেটো চাষের দিকে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা। তবে গ্রামগুলোয় টমেটো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর মৌসুমের শেষদিকে বিপুল পরিমাণ টমেটো নষ্ট হয়। এ সংকট কাটাতে গ্রামটিতে সবজি সংরক্ষণাগার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন চাষিরা।

চাষি মানিক শেখ বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতি বিঘা জমিতে ২০০ থেকে ৩৫০ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে। হাট-বাজারে টমেটোর দামও বেশ ভালো। বাজারে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি হয়ে যায়। এ টমেটো চাষ করে অনেক ভালো দিন পার করছি।’

আরও পড়ুন: দাম ভালো পাওয়ায় সুনামগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে ভুট্টার চাষ

কেবল বাণিজ্যিক সফলতাই নয়, জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারে বিষমুক্ত নিরাপদ টমেটো উৎপাদনেও অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন এ গ্রামের চাষিরা। আকর্ষণীয় আকার, স্বাদের সুখ্যাতির জন্য এ গ্রামের টমেটো কিনতে দূর থেকে আসেন পাইকাররা। সরবরাহ হয় ঢাকাসহ সারাদেশে। তবে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় পরিবহনে রয়েছে ভোগান্তি।

জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, উপজেলার সাগরকান্দি ইউনিয়নের খলিলপুর, চর খলিলপুর, কালিকাপুর এবং নাজিরগঞ্জ পূর্ব গ্রামের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এ বছর টমেটো চাষ হয়েছে। চলতি বছর এ অঞ্চলে ৩৫০ হেক্টরের মধ্যে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। যা জেলায় মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২৫ শতাংশ।

এসি/ আই.কে.জে



টমেটো চাষ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250