শনিবার, ২৪শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে থেকে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬ *** সরকারের ভুলের দায় বিরোধী দল নেবে কেন: জামায়াত আমির *** গাজীপুরে দুটি কারখানার গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে *** আল নাসরের জয়ের পর রোনালদোর গোল নিয়ে বিতর্ক *** ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র নয়, সৌদির বিরুদ্ধে হুতিদের নতুন অস্ত্র *** খাগড়াছড়িতে চলছে আধা বেলার সড়ক ও নৌপথ অবরোধ *** দেশের বিভিন্ন কারাগারে ৪০৭ বিদেশি, সাজা শেষে ফেরার অপেক্ষায় ১৭২ *** সাজেক সড়কে অবরোধ অব্যাহত, রিসোর্টের ৬০ শতাংশ বুকিং বাতিল *** দ্রুততম মানব ইমরানুর, মুকুট ধরে রাখলেন শিরিনও *** ১৩ বছর বয়সী ছাত্রীকে ধর্ষণে সহায়তা করেছিলেন মাদ্রাসাশিক্ষকের স্ত্রী, গ্রেপ্তার

সুখবর এক্সপ্লেইনার

ইউটিউব ও টিভি পর্দায় যে টকশো, বাস্তবে তার অস্তিত্বই নেই

আদিত্য কবির

🕒 প্রকাশ: ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, ২৬শে জুন ২০২৬

#

ছবি: ডেইলি স্টার গ্রাফিক্স

২০২৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে মনে হচ্ছিল, একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন টক-শোতে দুই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি বিতর্কে জড়িয়েছেন। স্টুডিওর আলো, উপস্থাপকের পরিচিত মুখ, নিচে সংবাদমাধ্যমের আদলে গ্রাফিক্স—সব মিলিয়ে সেটি ছিল একটি বিশ্বাসযোগ্য টেলিভিশন অনুষ্ঠান বলেই মনে হওয়ার কথা। 

পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওটি কোনো টেলিভিশন স্টুডিওতে ধারণই করা হয়নি। বিভিন্ন সময়ের আলাদা আলাদা সাক্ষাৎকার, বক্তব্য ও ভিডিও ক্লিপ কেটে একসঙ্গে জুড়ে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যাতে দর্শকের কাছে সেটি একটি বাস্তব লাইভ বিতর্ক বলে মনে হয়।

বিশ্বজুড়েই এমন ভিডিওকে এখন বলা হচ্ছে ‘চিপফেক’। ডিপফেকের মতো জটিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার না করেও সাধারণ ভিডিও সম্পাদনার মাধ্যমে এমন বিভ্রম তৈরি করা সম্ভব। প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি হয়তো কম জটিল, কিন্তু বিভ্রান্তি তৈরির ক্ষমতায় অনেক ক্ষেত্রেই কম নয়।

কারণ, একজন দর্শক যখন পরিচিত কোনো সংবাদ উপস্থাপক, টেলিভিশনের গ্রাফিক্স কিংবা আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে একই পর্দায় দেখেন, তখন সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।

এই প্রবণতার স্পষ্ট প্রতিফলন এখন বাংলাদেশেও। ইউটিউব ও ফেসবুকে গত কয়েক মাস ধরে এমন অসংখ্য ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেশের পরিচিত সাংবাদিকদের উপস্থাপক হিসেবে দেখিয়ে রাজনৈতিক নেতা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব কিংবা আলোচিত অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের মধ্যে কথিত মুখোমুখি বিতর্ক দেখানো হচ্ছে। বাস্তবে এসব অনুষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব নেই।

তবু ভিডিওগুলো লাখ লাখ মানুষ দেখছেন, মন্তব্য করছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে এগুলোকে সত্যিকারের সম্প্রচার মনে করে নিজেদের মতামতও দিচ্ছেন।

দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, অন্তত ২০০টির মতো ভিডিও একই কৌশলে তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ধারণ করা পৃথক ভিডিও ফুটেজ কেটে এমনভাবে পাশাপাশি বসানো হয়েছে, যেন একই স্টুডিওতে একই সময়ে সবাই উপস্থিত আছেন। দর্শকের চোখে এটি একটি সরাসরি সম্প্রচার বা টেলিভিশন টক-শো বলেই মনে হয়।

এসব ভিডিও তৈরির পদ্ধতি খুবই সাধারণ। একটি জনপ্রিয় টক-শোর ভিডিও থেকে উপস্থাপকের অংশ নেওয়া হয়। এরপর ভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক বক্তব্য, সংবাদ সম্মেলন, জনসভা কিংবা সাক্ষাৎকারের ক্লিপ সংগ্রহ করে স্প্লিট-স্ক্রিনে বসানো হয়।

নিচে টেলিভিশন চ্যানেলের আদলে গ্রাফিক্স যোগ করা হয়। কখনো কখনো এমনভাবে সম্পাদনা করা হয়, যাতে একজনের বক্তব্যের পর অন্যজনের পুরোনো বক্তব্যকে উত্তর হিসেবে মনে হয়। বাস্তবে দুই ব্যক্তির মধ্যে কোনো কথোপকথনই হয়নি।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক মাসে অন্তত দুটি প্ল্যাটফর্ম এ ধরনের কনটেন্ট ধারাবাহিকভাবে তৈরি করেছে। এর মধ্যে একটি ইউটিউব চ্যানেল প্রায় ১১০টি এবং একটি ফেসবুক পেজ অন্তত ৬৩টি ভুয়া টক-শো প্রকাশ করেছে। দুটি প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে ভিডিওগুলোর মোট ভিউ কয়েক কোটিতে পৌঁছেছে।

সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে দেশের আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের। একই সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে পরিচিত সাংবাদিকদের মুখ, যাতে দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়ে। কোথাও দেখা যাচ্ছে একজন রাজনৈতিক নেতা আরেকজনের বক্তব্যের জবাব দিচ্ছেন, কোথাও ধর্মীয় নেতা ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে একই আলোচনায় দেখানো হচ্ছে। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই এটি সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি একটি কৃত্রিম দৃশ্য।

শুধু টকশো নয়, বিভ্রান্তিকর দাবিও এসব ভিডিওর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো কোনো ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, কারাগারে থাকা একজন রাজনীতিক মুক্তি পাওয়ার পর সরাসরি বক্তব্য দিচ্ছেন। আবার কোথাও এমন ধারণা দেওয়া হয়েছে, পলাতক কোনো রাজনৈতিক নেতা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশের ভেতরে বসে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। প্রকৃত ঘটনা যাচাই করলে দেখা যায়, দাবিগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

এসব ভিডিওর বিস্তার কেবল কৌতূহলের কারণে নয়; এর পেছনে কাজ করছে অ্যালগরিদমও। ইউটিউব কিংবা ফেসবুকের সুপারিশ ব্যবস্থা এমন ভিডিওকে আরও বেশি মানুষের সামনে নিয়ে আসে, যদি শুরুতেই ভিডিওটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভিউ, মন্তব্য বা শেয়ার পায়। ফলে বিভ্রান্তিকর কনটেন্টও দ্রুত ভাইরাল হয়ে ওঠে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মন্তব্যের ঘর। সেখানে অসংখ্য ব্যবহারকারী এমনভাবে আলোচনা করছেন, যেন ভিডিওতে দেখানো বিতর্কটি সত্যিই ঘটেছে। কেউ একজনের যুক্তিকে সমর্থন করছেন, কেউ আরেকজনকে আক্রমণ করছেন। অর্থাৎ ভিডিওটি যে সম্পাদিত, সেই বিষয়টি অনেকেই বুঝতেই পারছেন না। এখানেই চিপফেক কনটেন্টের সবচেয়ে বড় সাফল্য—এটি শুধু একটি ভিডিও নয়; এটি মানুষের বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণাকেও প্রভাবিত করে।

আন্তর্জাতিক পরিসরেও এই প্রবণতা নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে নির্বাচনের সময় কিংবা বড় রাজনৈতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই ধরনের সম্পাদিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে বিবিসি, রয়টার্স, এপি ও ওয়াশিংটন পোস্ট।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাময়িকী ওয়্যারড একাধিক প্রতিবেদনে দেখিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিপফেকের তুলনায় চিপফেক শনাক্ত করা অনেক সময় আরও কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, এখানে ব্যবহৃত ভিডিওগুলো আসল; বদলে দেওয়া হয় কেবল প্রেক্ষাপট। ফলে সাধারণ দর্শকের পক্ষে প্রতারণা ধরতে পারা সহজ হয় না।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিচ্ছে। তথ্যবিকৃতি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, বর্তমানে বিভ্রান্তিকর ভিডিওর বড় একটি অংশই তৈরি হচ্ছে পুরোনো ফুটেজ নতুন প্রসঙ্গে ব্যবহার করে। প্রযুক্তি যত সহজ হচ্ছে, তত কম দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তির পক্ষেও এমন ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। একটি সাধারণ কম্পিউটার, কয়েকটি ভিডিও সম্পাদনার সফটওয়্যার এবং কিছু জনপ্রিয় ভিডিও ক্লিপ—এ তিনটিই এখন যথেষ্ট।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। আলোচিত ব্যক্তি, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম—এই তিন উপাদানকে একত্র করে তৈরি হচ্ছে ভুয়া টক-শো। ভিডিওগুলোর শিরোনামও এমনভাবে লেখা হয়, যাতে দর্শকের কৌতূহল তৈরি হয়। ‘মুখোমুখি’, ‘লাইভ বিতর্ক’, ‘বিস্ফোরক জবাব’, ‘সব ফাঁস’, ‘স্টুডিও কাঁপিয়ে দিলেন’—এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করে ক্লিক বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।

দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্লেষণে দেখা যায়, একটি ইউটিউব চ্যানেলে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। একইভাবে শেখ হাসিনা, জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও নিয়মিত উপস্থিত হয়েছেন এসব সম্পাদিত ভিডিওতে।

অন্যদিকে একটি জনপ্রিয় ফেসবুক পেজে তারেক রহমানের পাশাপাশি ডিজিটাল অ্যাকটিভিস্ট ইলিয়াস হোসেন ও পিনাকী ভট্টাচার্যকে নিয়েও ধারাবাহিকভাবে একই ধরনের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যক্তি ভেদে রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হলেও ভিডিও তৈরির কৌশল ছিল প্রায় একই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল আলম চৌধুরীর মতে, এগুলো শুধু বিনোদনের জন্য বানানো ভিডিও নয়; বরং নির্দিষ্ট মতাদর্শ কিংবা রাজনৈতিক বিশ্বাসকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যও এখানে কাজ করে।

তার ভাষায়, দর্শকের বিশ্বাসের সঙ্গে মিল আছে—এমন কনটেন্ট দেখলে মানুষ সেটি যাচাই করার প্রয়োজনও অনেক সময় অনুভব করেন না। ফলে বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এ প্রবণতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে 'কনফার্মেশন বায়াস' বা পূর্বধারণা-নির্ভর বিশ্বাস। মানুষ সাধারণত সেই তথ্যকেই সহজে গ্রহণ করে, যা তার আগে থেকেই থাকা রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভুয়া টকশো নির্মাতারা ঠিক এই মনস্তত্ত্বকেই কাজে লাগাচ্ছেন।

আরেকটি উদ্বেগের জায়গা হলো সংবাদমাধ্যমের পরিচিত ভিজ্যুয়াল পরিচয় ব্যবহার। কোনো সাংবাদিকের ভিডিও অনুমতি ছাড়া কেটে নিয়ে তাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন তিনিই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক। এতে শুধু দর্শক প্রতারিত হচ্ছেন না, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাও। অনেক সময় দর্শকের পক্ষে বোঝাই কঠিন হয়ে পড়ে, কোনটি আসল সম্প্রচার আর কোনটি সম্পাদিত।

মেটা ও ইউটিউব—দুই প্ল্যাটফর্মের নীতিমালাতেই এমন বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে এমন ভিডিও, যা সম্পাদনার মাধ্যমে বাস্তব ঘটনা সম্পর্কে মানুষকে বিভ্রান্ত করে অথবা কোনো ব্যক্তির বক্তব্য বা উপস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করে, সেগুলো নীতিমালার আওতায় অপসারণ বা সীমিত প্রচারের সুযোগ রয়েছে। তবে বাস্তবে বাংলা ভাষার বিপুল পরিমাণ কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ করা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

এ ছাড়া অনেক নির্মাতা সরাসরি মিথ্যা দাবি না করে ইঙ্গিতপূর্ণ শিরোনাম ব্যবহার করেন। ভিডিওর কোথাও লেখা থাকে না যে এটি বাস্তব টকশো। কিন্তু সম্পূর্ণ উপস্থাপনাই এমনভাবে সাজানো হয়, যাতে দর্শক সেটিকে সত্য বলেই ধরে নেন। এই ধূসর অঞ্চল নীতিমালা প্রয়োগকে আরও জটিল করে তোলে।

ড. সাইফুল আলম চৌধুরীর মতে, শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করলে এই সমস্যা সমাধান হবে না। মানুষের তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। স্কুল-কলেজ থেকেই মিডিয়া ও তথ্যসাক্ষরতা শিক্ষার অংশ হওয়া প্রয়োজন, যাতে একজন শিক্ষার্থী ভিডিও দেখেই অন্তত বুঝতে শেখে—কোন তথ্য যাচাই করা দরকার, আর কোনটি সরাসরি বিশ্বাস করা উচিত নয়।

একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, দেশের নিয়ন্ত্রক কাঠামোও এখনো ডিজিটাল বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামো ছাড়া এ ধরনের বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

প্রযুক্তির বিকাশ মানুষের তথ্যপ্রাপ্তিকে সহজ করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে সত্য ও মিথ্যার সীমারেখাকেও ঝাপসা করে দিয়েছে। আগে একটি ভুয়া টেলিভিশন অনুষ্ঠান তৈরি করতে স্টুডিও, ক্যামেরা ও বড় বাজেট প্রয়োজন হতো। এখন কয়েকটি পুরোনো ভিডিও, একটি সম্পাদনা সফটওয়্যার এবং আকর্ষণীয় একটি শিরোনামই যথেষ্ট।

ফলে ইউটিউব বা ফেসবুকের পর্দায় দেখা প্রতিটি 'মুখোমুখি' বিতর্ক যে সত্যিই ঘটেছে—এমন ধরে নেওয়ার সুযোগ আর নেই। পরিচিত উপস্থাপক, আলোচিত রাজনৈতিক নেতা কিংবা টেলিভিশনের মতো গ্রাফিক্স—এসবই আজ সহজে নকল করা যায়। আর সেই কারণেই ডিজিটাল যুগে সবচেয়ে মূল্যবান দক্ষতা হয়ে উঠছে তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস। কারণ, পর্দায় যা দেখা যায়, বাস্তবে তার অনেক কিছুরই কোনো অস্তিত্ব নেই।

চিপফেক

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250