ছবি: সংগৃহীত
সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তৃতীয় মাত্রা টকশোর উপস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামী কিছুটা চেষ্টা করেছিল। জামায়াত জাতীয় সরকারের একটা টোপ দিয়েছিল বিএনপিকে। বিএনপি চাইলে সেটা হয়তো হয়েও যেত। কিন্তু গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিরোধী দল না থাকলে, সেটা ভালো কিছু হবে না। তা ছাড়া জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হলে বিএনপির যে রাজনীতি, সেটা হুমকির মুখে পড়বে।
তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয় যে পুলিশ নিষ্ক্রিয়, সেনাবাহিনী নির্লিপ্ত এবং প্রশাসন বিভ্রান্ত। প্রশাসন বা আমলাতন্ত্রকে সরকারের নির্দেশ শুনতে হয়; কিন্তু প্রশাসনের ওপর এ সরকারের খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে আমার মনে হয় না। তবে গত ১৭-১৮ মাসে প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় জামায়াত যথেষ্ট প্রভাব তৈরি করতে পেরেছে; বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসের জামায়াত এবার সবচেয়ে অনুকূল পরিবেশ পেয়েছে।
তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কোনোভাবেই অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন বলা যাবে না। কারণ, আওয়ামী লীগ এবং তার মিত্রদের একটা বড় অংশ নির্বাচনে অনুপস্থিত। আওয়ামী লীগ বাইরে এবং এ রকম একটা খারাপ নির্বাচন হবে, সেটাকে আসলে শেষ পর্যন্ত কেউই আর অ্যাকসেপ্ট (গ্রহণ) করতে চাইবে বলে আমার কাছে মনে হয় না।
দৈনিক প্রথম আলোকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে জিল্লুর রহমান এসব কথা বলেন। তার সাক্ষাৎকারটি আজ রোববার (১লা ফেব্রুয়ারি) প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছে ‘নির্বাচন ঘিরে আগে এতগুলো দেশের এত সক্রিয়তা দেখা যায়নি’ শিরোনামে। প্রথম আলোর ওয়েবসাইট থেকে সাক্ষাৎকারটির লিংক ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেনদের মধ্যে জিল্লুর রহমানের বক্তব্য নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা ও পর্যালোচনা চলছে।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) সভাপতি জিল্লুর রহমান সাক্ষাৎকারে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ তো নয়ই, বরং সরকারে থাকা অনেকেই, এমনকি সরকারপ্রধানও বিভিন্ন সময় প্রতিহিংসা ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাগ-অনুরাগের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার যে শপথ তারা নিয়েছিলেন, সেই শপথ তারা রক্ষা করতে পেরেছেন বলে আমার মনে হয় না। তারা যেভাবে নিজেদের জন্য সরকারি বা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো নিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে আমরা তা আশা করিনি।
তিনি বলেন, এই সরকারকে এক মুহূর্তের জন্য আমার কাছে নিরপেক্ষ বলে মনে হয়নি। এনসিপি নামে যে দলটি গঠিত হয়েছে, সেটা এই সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তৈরি হয়েছে। আমি বলব, অন্তর্বর্তী সরকার এই তরুণদের ব্যবহার করেছে এবং তাদের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করেছে। এই সরকারকে আমার কাছে অনেক বেশি জামায়াতে ইসলামীর দ্বারা প্রভাবিত বলে মনে হয়েছে।
খবরটি শেয়ার করুন