সোমবার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিশ্বজুড়ে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে লাখো মানুষের বিক্ষোভ *** আওয়ামী লীগের ভাঙাচোরা কার্যালয়ে দুপুরে নেতা-কর্মীদের স্লোগান, বিকেলে অগ্নিসংযোগ *** ঠাকুরগাঁওয়ে দেড় বছর পর আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের প্রকাশ্যে স্লোগান *** মধ্যপ্রাচ্যে আবারও মার্কিন রণতরী, কী ঘটছে ইরানের সঙ্গে? *** তারেক রহমানের আগমন জাতীয় রাজনীতির জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত: জামায়াত আমির *** ড. ইউনূস ‘দ্বিতীয় মীরজাফর’ ও ‘আমেরিকার দালাল’, তার পোস্টারে আগুন *** নতুন সরকার যখন বলবে তখনই ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী *** দেশের জন্য কাজ করতে এসে আমার সব সঞ্চয় শেষ, দাবি সেই ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের *** নির্ধারিত সময়ের আগেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন আইজিপি *** ভারত কি সত্যিই বিএনপি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়বে

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ‘সন্ত্রাসী খেল’ ফাঁস করে দিলেন জঙ্গিগোষ্ঠী জইশের সদস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, ১৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

জইশ-ই-মুহাম্মদের (জেইএম) শীর্ষ কমান্ডার মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মীরির একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়ার পর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ওই ভিডিওতে তিনি দাবি করেছেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ নিহত ব্যক্তিদের জানাজায় ‘জেনারেলদের পাঠিয়েছিলেন’।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, দশকের পর দশক ধরে ইসলামাবাদ তাদের মাটি থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। অথচ ইলিয়াস কাশ্মীরি মিশন মুস্তাফার ৩৮তম বার্ষিক সম্মেলনে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ভারতীয় অভিযানে নিহত ব্যক্তিদের জানাজায় উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের পাঠান।

গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে দেখা যায়, আমেরিকার সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষিত আবদুর রউফ নিহত ব্যক্তিদের এক জানাজায় ইমামতি করছেন। নিহত ব্যক্তিদের পাকিস্তানের জাতীয় পতাকায় মুড়িয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মিশ্রি বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে, ওইসব স্থাপনায় যে ব্যক্তিরা নিহত হয়েছে, তারা সন্ত্রাসী। পাকিস্তানে হয়তো সন্ত্রাসীদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা দেওয়ার রেওয়াজ থাকতে পারে। আমাদের কাছে এর কোনো অর্থ দাঁড়ায় না।’

মুনির নিজেও তার যুদ্ধংদেহী পরমাণু বক্তব্যের কারণে বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

গত আগস্টে আমেরিকায় দেওয়া এক ভাষণে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান সতর্ক করেন, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ হলে তারা একা ধ্বংস হবেন না।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমরা পরমাণু শক্তিধর দেশ। যদি মনে করি, আমরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি, তাহলে পৃথিবীর অর্ধেককে সঙ্গে নিয়েই ধ্বংস হব।’ তার এ বক্তব্য ওয়াশিংটনে তীব্র নিন্দার জন্ম দেয়।

আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা মাইকেল রুবিন বলেন, পাকিস্তান ‘দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রের’ মতো আচরণ করছে। তিনি মুনিরের বক্তব্যের ধরনকে ‘ওসামা বিন লাদেন ও আইএসের’ সঙ্গে তুলনা করেন।

রুবিন বলেন, আমেরিকানরা সন্ত্রাসবাদকে সাধারণত অভিযোগ-অভিমান বা ক্ষোভের দৃষ্টিতে দেখেন... তারা অনেক সন্ত্রাসীর আদর্শগত ভিত্তি বোঝেন না। আসিম মুনির হলেন স্যুট পরা ওসামা বিন লাদেন।

এমন সতর্ক থাকা সত্ত্বেও গত ১৮ই জুন হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন মুনির, যা ভারতের অপারেশন সিঁদুর শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরের ঘটনা।

এমনকি আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ডপ্রধান জেনারেল মাইকেল কুরিল্লা পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ‘চমৎকার সহযোগী’ হিসেবেও প্রশংসা করেন। তবে পাকিস্তান এখনো ভারতের নজরদারির মধ্যে রয়েছে।

যদিও ২০২২ সালে পাকিস্তানকে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের (এফএটিএফ) ধূসর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, ভারত আবারও তাদের তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ভারত পাকিস্তানকে ফের সন্ত্রাসবাদের ধূসর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ‘এফএটিএফ’কে একটি প্রতিবেদন দেবে।

২০২২ সালে যখন পাকিস্তানকে তালিকা থেকে সরানো হয়েছিল, তখন শর্ত ছিল, তারা সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করবে। কিন্তু এখনো সে আইন হয়নি। ফলে এফএটিএফের নিজেরই পাকিস্তানকে আবার তালিকাভুক্ত করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

জে.এস/

পাকিস্তান সেনাবাহিনী পাকিস্তানি সেনাপ্রধান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250