রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল *** মমতার আমলে পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশে পরিণত করার চেষ্টা হয়েছিল: ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী *** উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে ১,৩৯৯টি ভূমিকম্প হয়ে থাকতে পারে: গবেষণা *** হুতিদের মোকাবিলায় এবার সৌদির পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা তুরস্কের! যুদ্ধ করবে কি? *** কমলাপুর রেলস্টেশনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ *** তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর আগামী নভেম্বরে করা যায় কি না, আলোচনায় ঢাকা-দিল্লি *** জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান *** মন্ত্রী বড়, নাকি সংসদ সদস্য—কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের *** আওয়ামী লীগ-জামায়াত এক হয়েও বিএনপির কিছুই করতে পারেনি: এমপি চাঁদ *** তেজগাঁওয়ে মসজিদে গোপন বৈঠক: উগ্রবাদ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১২ জন ৩ দিনের রিমান্ডে

আমদানি ব্যাপকভাবে কমেছে সয়াবিন তেলের

শাওন দত্ত

🕒 প্রকাশ: ০২:২০ অপরাহ্ন, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দেশে সয়াবিন তেলের আমদানিতে উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা গেছে, যা ভোজ্যতেল বাজারে সম্ভাব্য চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের ঊর্ধ্বমুখী দামের সঙ্গে দেশের বাজারে মূল্য সমন্বয় না হওয়াই এই পতনের মূল কারণ।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে দেশে সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছিল প্রায় ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন। কিন্তু চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার টনে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অন্যদিকে পাম তেলের আমদানিতে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। গত বছর যেখানে এই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৪ লাখ ৫৯ হাজার টন, এ বছর তা সামান্য কমে হয়েছে ৪ লাখ ৫৭ হাজার টন।

আমদানিকারকদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলেও দেশের বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্য সমন্বয় করা হয়নি। ফলে প্রতিটি লিটার তেল বিক্রিতে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। একাধিক আমদানিকারক জানিয়েছেন, তারা সরকারকে বারবার মূল্য সমন্বয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন, কিন্তু কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ অবস্থায় লোকসান দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলেই তারা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।

দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোজ্যতেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুখবর ডটকমকে বলেন, বর্তমানে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক মজুত বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, একটি চালান আমদানিতেই ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। ফলে কোম্পানিগুলো এখন শুধু ন্যূনতম সরবরাহ বজায় রাখছে, যাতে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে না যায় এবং ব্যাংকের দায় মেটানো যায়।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে সরকারের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি আলোচনায় এলেও তা বাস্তবায়নে দেরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তার মতে, পুরো শিল্পখাত বর্তমানে লোকসানের মধ্যে চলছে এবং দীর্ঘদিন এভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে সরবরাহ সংকট আরও প্রকট হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্যও আমদানিকারকদের দাবিকে সমর্থন করছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১ হাজার ১৫৪ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ২৮২ ডলারে এবং মার্চে আরও বেড়ে হয় ১ হাজার ৪৮২ ডলার। অর্থাৎ, কয়েক মাসের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ২৪ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ফলে আমদানিতে এমন বড় ধরনের পতন বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

ইতিমধ্যে বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কিছু এলাকায় ভোজ্যতেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে এবং পণ্যের প্রাপ্যতা সংকুচিত হয়েছে। বিশেষ করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কিছুটা সীমিত বলে স্বীকার করেছে সরকারও। যদিও খোলা তেল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, তবে তা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি দাবি করেন, আমদানির সার্বিক অবস্থা এখনো স্থিতিশীল রয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো সংকট দেখা দেয়নি। তার ভাষায়, “এমন কোনো বড় সমস্যা এখনো দেখা যায়নি, যার জন্য তাৎক্ষণিক বড় ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

মন্ত্রী আরও বলেন, বোতলজাত সয়াবিন তেলের গায়ে দাম উল্লেখ থাকায় এতে কারসাজির সুযোগ কম। তবে সরবরাহ কিছুটা সীমিত থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। পাশাপাশি খোলা তেলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার ও আমদানিকারকদের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ছে, অন্যদিকে দেশে মূল্য সমন্বয় না হওয়ায় আমদানিকারকদের আগ্রহ কমছে। এতে করে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়ে বাজারে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, সয়াবিন তেলের আমদানিতে এই পতন শুধু একটি বাণিজ্যিক ইস্যু নয়, বরং এটি দেশের নিত্যপণ্যের বাজার ও সাধারণ ভোক্তার ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে দ্রুত কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।

সয়াবিন তেল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250