মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বুধবার থেকেই বিশ্বজুড়ে বন্ধ হয়ে যাবে ইরানের সব এয়ারলাইন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি *** রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুতিনের দলের *** ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা ৩ মার্কিন সংবাদমাধ্যমের, টেলিভিশন ‘পুল’ কভারেজ স্থগিত *** বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ কত শক্তিশালী হবে, গরম কমবে কি *** ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী *** ইসলামি বইমেলায় জঙ্গি নেতাদের বই কীভাবে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে, প্রশাসন কী করছে *** ব্যারিস্টার রাজ্জাকের বইকে কেন্দ্র করে জামায়াতের ক্ষমাপ্রার্থনা কেন আলোচনায় *** হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সিএনএন, পলিটিকোর মামলা *** তারেক রহমানের উপহার দেওয়া ইসরায়েলি লেখকের বই কেন ফেরত নিল ধর্ম মন্ত্রণালয় *** বিশ্ববাজারে কমলেও দেশে কেন জ্বালানি তেলের দাম বাড়াচ্ছে সরকার, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী ছিল

২০০ বছরের পুরোনো গৌরীপুর লজ এখন ‘গেস্ট হাউস ও রান্নাঘর’

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, ১৪ই জুন ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ শহরের জুবিলী রোড এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত প্রায় দুই শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপনা ‘গৌরীপুর লজ’ দীর্ঘদিন ধরে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের গেস্ট হাউস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঐতিহ্যবাহী এই ভবনটির যথাযথ সংরক্ষণ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

দোতলা ভবনটি কাঠ ও ঢেউটিন দিয়ে নির্মিত। কাঠের দেয়াল, দরজা-জানালা, চীনা কারিগরদের নির্মাণশৈলীর ছাপ, পাথর বসানো মেঝে, মজবুত স্তম্ভ এবং বারান্দার নান্দনিক খিলান আজও ভবনটির স্থাপত্য ঐতিহ্য বহন করছে। অনন্য এই নির্মাণশৈলী এখনও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।

ইতিহাসবিদদের তথ্য অনুযায়ী, গৌরীপুর জমিদার পরিবারের সদস্য ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী ১৮২৮ সালে ভবনটি নির্মাণ করেন। তবে এখনও এটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়নি। তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার।

১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর ভবনটি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের শাখা হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত এখানে সোনালী ব্যাংকের শাখা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে ব্যাংকের নতুন ভবন নির্মাণ হলে গৌরীপুর লজ প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে বলে ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমানে ভবনটির নিচতলার চারটি কক্ষ গুদামঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কাঠের তৈরি দোতলার পাঁচটি কক্ষ ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যাংক কর্মকর্তাদের গেস্ট হাউস হিসেবে। সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী রান্নার ব্যবস্থাও রয়েছে।

বিশিষ্ট সমাজকর্মী আলী ইউসুফ ঐতিহাসিক এই স্থাপনাকে গেস্ট হাউস ও রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করে একে ‘অপ্রয়োজনীয়, অনভিপ্রেত ও ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গৌরীপুর লজ এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্য সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হচ্ছে। একইসঙ্গে ভবনটি ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতেও রয়েছে।’ তার অভিযোগ, দেশ-বিদেশের দর্শনার্থী, গবেষক ও ইতিহাস-অনুরাগীরা অনেক সময়ই ভবনটিতে প্রবেশের সুযোগ পান না।

আলী ইউসুফ বলেন, ‘সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করে গৌরীপুর লজ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা উচিত। অতীত ঐতিহ্য ও স্থাপত্য ইতিহাসের অংশ হিসেবে ভবনটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।’

প্রত্নতত্ত্ব অনুরাগী সজল কোরাইশী বলেন, ‘ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীতের বিশিষ্ট একজন পৃষ্ঠপোষক। তার আমন্ত্রণে উপমহাদেশের বহু খ্যাতনামা শিল্পী গৌরীপুর লজে পরিবেশনা করেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ওস্তাদ এনায়েত খান, ওস্তাদ মোহাম্মদ আলী খান, ওস্তাদ ওয়াজির খান, ওস্তাদ হাফিজ আলী খান ও ওস্তাদ মোহাম্মদ দবির খানসহ আরও অনেকে।’

পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন জানান, গৌরীপুর লজকে গেস্ট হাউস হিসেবে ব্যবহার বন্ধের দাবিতে গত ৯ জুন সোনালী ব্যাংকের ময়মনসিংহ অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভবনটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে।’

এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘গৌরীপুর লজ সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব সম্পত্তি। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চেয়েও ভালোভাবে ব্যাংক এটি সংরক্ষণ করছে।’

ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন ভবনটি এখন কোন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভবনটি গেস্ট হাউস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রয়োজনে সেখানে রান্নাও করা হয়।’ তার দাবি, এতে ভবনটির কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। বর্তমানে সেখানে কোনো আনসার সদস্যও বসবাস করেন না।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের (ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ফিল্ড অফিসার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘গৌরীপুর লজ এখনও অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত হয়নি। তবে এ বছর ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলোর জরিপ প্রতিবেদনে এটি অন্তর্ভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’ এ বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘গৌরীপুর লজের স্বার্থে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

গৌরীপুর লজ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

গ্রিনল্যান্ডে দুটি নতুন সামরিক ঘাঁটি চালুর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

🕒 প্রকাশ: ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

বুধবার থেকেই বিশ্বজুড়ে বন্ধ হয়ে যাবে ইরানের সব এয়ারলাইন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি

🕒 প্রকাশ: ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুতিনের দলের

🕒 প্রকাশ: ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা ৩ মার্কিন সংবাদমাধ্যমের, টেলিভিশন ‘পুল’ কভারেজ স্থগিত

🕒 প্রকাশ: ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ কত শক্তিশালী হবে, গরম কমবে কি

🕒 প্রকাশ: ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250