ফাইল ছবি
পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটময় মন্তব্য করে যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান বলেছেন, ‘আমরা চাই, যে করেই হোক ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন হয়। দয়া করে আপনারা ইলেকশন বানচাল হতে দেবেন না। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্যারান্টি দিচ্ছেন এবারের নির্বাচন হবে অত্যন্ত আনন্দময়।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় গতকাল শুক্রবার (১৬ই জানুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত নাগরিক শোকসভায় শফিক রেহমান এসব কথা বলেন। এই শোকসভায় রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক, সম্পাদক, কূটনীতিক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
নাগরিক সমাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই শোকসভায় বাংলাদেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নে খালেদা জিয়ার নানামুখী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন বিশিষ্টজনেরা।
শোকসভায় প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান বলেন, খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল সাহস ও দেশপ্রেম। তিনি দেশকে ভালোবাসতেন।
শফিক রেহমান বলেন, ‘আজকের এই শোকসভা অর্থবহ করতে হলে এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। আর সেই শক্তিকে রূপান্তর করবেন কীভাবে? ভোট দিয়ে, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে। সুতরাং দয়া করে আপনারা ইলেকশন বানচাল হতে দেবেন না, কোনো একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় অথবা একটি সহিংসতার ঘটনায় গোটা জাতির নির্বাচনের আশা নষ্ট করবেন না।’
শফিক রেহমান বলেন, যে করেই হোক ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন যেন হয়। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রার্থীদের কাছ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, বেকার সমস্যা সমাধান এবং ব্যাংকের আমানতকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বাস নিতে হবে।
শোকসভায় খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সভামঞ্চের সামনে দর্শকসারিতে বসেন। তাদের পাশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাসসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা বসেছিলেন।
শোকসভা ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, র্যাব, কোস্টগার্ড, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত বছরের ৩০শে ডিসেম্বর মারা যান। তার জানাজা ও দাফন হয় ৩১শে ডিসেম্বর। তার জানাজা পরিণত হয়েছিল জনতার মহাসমুদ্রে।
খবরটি শেয়ার করুন