ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগলে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, 'ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগলে দেশে পুলিশ, র্যাব ও প্রশাসন আছে। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে সেই সুযোগ দেওয়া হবে না।'
আজ বৃহস্পতিবার (২৭শে নভেম্বর) বরিশালে চরমোনাই দরবার শরিফের বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, 'আমি যদি কোনো অন্যায় দেখি, ধর্মীয় সেন্টিমেন্টে আঘাত লাগতে দেখি, তাহলে দেশে পুলিশ আছে, র্যাব আছে, ডিসি আছে, ইউএনও আছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আছে, আমরা আছি। এই দেশে ধর্মের নামে অপব্যাখ্যা করে কেউ মানুষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, এই সুযোগ আমরা দেবো না।'
ধর্ম নিয়ে কটূক্তিকারীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা বারবার আপনাদের আশ্বস্ত করছি, বিভিন্ন জায়গায় কিছু মানুষ ধর্ম, আল্লাহ ও রাসুলকে নিয়ে আজেবাজে কথা বলে। যত দ্রুত সম্ভব তাদের ধরে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। আগামী দিনেও এই বাংলায় যদি কেউ বেয়াদবি বা কটূক্তি করে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।'
ইসলাম সম্পর্কে ব্যাখ্যার অধিকার কেবল হক্কানি-রাব্বানি, ওলামা-মাশায়েখ, আলেমদের—এমন মন্তব্য করে খালিদ হোসেন বলেন, 'ইসলাম, আল্লাহ, রাসুল, কোরআন, আখেরাত—এগুলোর ব্যাখ্যা দেবেন আলেম-ওলামারা। আমি-আপনি যারা মাদ্রাসায় পড়িনি, বুকের ভেতর দ্বীনি ইলম নেই, তারা যদি এগুলোর ব্যাখ্যা দিতে যাই, তাহলে উল্টাপাল্টা কথা বের হবে। ইসলাম সম্পর্কে যদি কেউ কোনো মন্তব্য করতে চায়, সেটা আলেম-ওলামাদের মন্তব্যের সঙ্গে ঐকমত্য হতে হবে। না হলে সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়ে।'
তিনি বলেন, 'আমাকে যদি বলেন শরিয়াহ আইন করেন, এটা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমার তো হাত-পা বাঁধা। আমি তো বিধির বাইরে যেতে পারি না। এই বিধি যদি পরিবর্তন করতে চান, তাহলে পার্লামেন্টের অধিকাংশ আসনে আদর্শিক ও তাকওয়াবান লোক পাঠাতে হবে।'
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, '৫৪ বছর পরে হাতে হাত ধরার একটা সুযোগ এসেছে। সুযোগ বারবার আসে না। এই দেশে আমরা যদি খোলাফায়ে রাশেদিনের আদলে একটা আদর্শিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তাহলে একে অপরের হাত ধরতে হবে।'
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন