শনিবার, ৩১শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী *** স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ঠিক করে দিতে পারে না কে মুক্তিযোদ্ধা, কে নন: ২৮ বিশিষ্টজনের বিবৃতি *** মধ্যরাত থেকে জাটকা ধরায় ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা *** সাংবাদিকদের ওপর ক্ষমতার অপব্যবহারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি সিপিজের আহ্বান *** ২২ বছরে এইচএসসিতে সর্বনিম্ন পাসের হারের নেপথ্যে কী, শিক্ষাবিদরা যা বলছেন *** চাকরি হারালেন ডিবির হারুন অর রশিদসহ ৭ পুলিশ কর্মকর্তা *** এ বছরই চালু হচ্ছে পাঁচটি শিশু হাসপাতাল: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী *** ‘হিন্দুরা মেঝে থেকে গোমূত্র চেটে খায়’— ইহুদি ধর্মপ্রচারকের মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া *** এক মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষা দিতে পারবে এইচএসসিতে অকৃতকার্যরা *** এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২%

স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ঠিক করে দিতে পারে না কে মুক্তিযোদ্ধা, কে নন: ২৮ বিশিষ্টজনের বিবৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৮:১৩ অপরাহ্ন, ৩১শে অক্টোবর ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন এবং রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদানে জামায়েত ইসলামীর বাধা প্রদানের ঘটনার নিন্দা, উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট ২৮ নাগরিক। তারা বলেছেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঞ্চার করছে। তারা বলেছেন, স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে প্রায় ১৫ ঘণ্টা তার দাফন আটকে থাকে। রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া কোনো ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা কি না, তা নির্ধারণ করার একমাত্র ক্ষমতা রাষ্ট্রের। স্বাধীনতার বিরোধিতা করা দল কোনো পর্যায়ে ঠিক করে দিতে পারে না কে মুক্তিযোদ্ধা, আর কে নন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার গার্ড অব অনার ও দাফনকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে সৃষ্ট পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রথমবার কবর খোঁড়ার পর স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা সেটি ভরাট করে দেন। পরবর্তী সময়ে আনুমানিক রাত ২টার পর মানিক পশারীর মেয়ে ও দুই বোন গ্রাম পুলিশের সহায়তায় মোবাইল ফোনের আলোয় আবার কবর খুঁড়ে মৃত্যুর প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর পুলিশি নিরাপত্তায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষবিদায়কে ঘিরে এমন পরিস্থিতি আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দেয়।

বিবৃতিদাতারা বলেন, পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে গোপালগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই ২৪ অক্টোবর তিনি মারা যান। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে গার্ড অব অনার প্রদানের মাধ্যমে দাফন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু যারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, সেই জামায়াতের পক্ষ থেকে তিনি মুক্তিযোদ্ধা কি না, সেই প্রশ্ন তুলে তাকে দাফন করতে বাধা প্রদান করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর দাফন তার মৌলিক মানবাধিকার। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এমনকি রাষ্ট্রও এ অধিকার লঙ্ঘন করতে পারে না। পরবর্তী সময়ে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে তার মৃতদেহ নিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। তথ্যানুযায়ী, স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে প্রায় ১৫ ঘণ্টা তার দাফন আটকে থাকে। স্বভাবতই প্রশ্ন হচ্ছে, রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া কোনো ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা কি না, তা নির্ধারণ করার একমাত্র ক্ষমতা রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র যদি কখনো প্রয়োজন মনে করে তবে সে তা যাচাই-বাছাই করতে পারে। স্বাধীনতার বিরোধিতা করা দল কোনো পর্যায়ে ঠিক করে দিতে পারে না কে মুক্তিযোদ্ধা আর কে নন।’

বিবৃতিতে বলা হয়, যে দলটি ১৯৭১ সালে শুধু স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাই করেনি, যার নেতাদের অনেকের বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ দালিলিকভাবে প্রমাণিত এবং তারা আজ পর্যন্ত সেই অপরাধের দায় স্বীকার বা মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতার জন্য ন্যূনতম প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।

বিবৃতিদাতারা মনে করেন, মানিক পশারীর সঙ্গে যে কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা ফৌজদারি অপরাধের শামিল। তারা বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক অবস্থান বা অতীতের ভূমিকার কারণে তার জানাজা ও দাফনে বাধা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যেখানে মৃত ব্যক্তির যথাযথ মর্যাদায় সৎকার করা ইসলাম ধর্মসহ সব ধর্মেরই অনুশাসন এবং অবশ্যপালনীয় শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত; সেই শিক্ষাকে অবজ্ঞা দেখিয়ে মানিক পশারীর প্রতি যে অসম্মান তারা দেখিয়েছে, তাকে ধিক্কার জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। যারা এ ধরনের ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে উপযুক্ত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধুরী, খুশী কবির, জেড আই খান পান্না, ইফতেখারুজ্জামান, শাহীন আনাম, রেহনুমা আহমেদ, শহিদুল আলম, স্বপন আদনান, শামসুল হুদা, তবারক হোসেন, সামিনা লুৎফা, সুমাইয়া খায়ের, তানজীমউদ্দিন খান, রোবায়েত ফেরদৌস, জোবাইদা নাসরীন, নোভা আহমেদ, জাকির হোসেন, সুব্রত চৌধুরী, সালমা আলী, মো. নুর খান, পাভেল পার্থ, রোজিনা বেগম, সাইদুর রহমান, সাঈদ আহমেদ, দীপায়ন খীসা, হানা শামস আহমেদ ও মুক্তাশ্রী চাকমা।

নাগরিক বিবৃতি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৮:২৮ অপরাহ্ন, ৩১শে অক্টোবর ২০২৬

স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ঠিক করে দিতে পারে না কে মুক্তিযোদ্ধা, কে নন: ২৮ বিশিষ্টজনের বিবৃতি

🕒 প্রকাশ: ০৮:১৩ অপরাহ্ন, ৩১শে অক্টোবর ২০২৬

মধ্যরাত থেকে জাটকা ধরায় ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা

🕒 প্রকাশ: ০৮:০৩ অপরাহ্ন, ৩১শে অক্টোবর ২০২৬

সাংবাদিকদের ওপর ক্ষমতার অপব্যবহারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি সিপিজের আহ্বান

🕒 প্রকাশ: ০৭:৫০ অপরাহ্ন, ৩১শে অক্টোবর ২০২৬

২২ বছরে এইচএসসিতে সর্বনিম্ন পাসের হারের নেপথ্যে কী, শিক্ষাবিদরা যা বলছেন

🕒 প্রকাশ: ০৭:১৫ অপরাহ্ন, ৩১শে অক্টোবর ২০২৬

Footer Up 970x250