ছবি: সংগৃহীত
নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা দেশের পাঁচটি ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চলতি বছরের শেষ দিকে চালু হবে। নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একযোগে হাসপাতালগুলোর উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোব) দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জিয়াউদ্দিন হায়দার এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি হাসপাতালের চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, সারাদেশে ২০০ শয্যার পাঁচটি শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। এসব হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগে নতুন পদ সৃষ্টির কাজ শেষ হয়েছে। যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র কেনার প্রক্রিয়াও শেষের পথে। এ বছরের শেষ দিকে, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় একযোগে পাঁচটি হাসপাতালের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।
রামেক হাসপাতালের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়ে বিশেষ সহকারী বলেন, রামেক হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য জনবলের সংকট রয়েছে। ২০১৩ সালে হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা ৫৫০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ করা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, ভৌত অবকাঠামোর সম্প্রসারণ কিংবা অতিরিক্ত যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করা হয়নি।
জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও বলেন, ‘হাসপাতালে এখন যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা মূলত ৫৫০ শয্যার উপযোগী। বিগত স্বৈরাচারী সরকার জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার জন্যই ১ হাজার ২০০ শয্যার ঘোষণা দিয়েছিল। আমরা ১ হাজার ২০০ সাধারণ শয্যা ও ১০০ আইসিইউ শয্যার উপযোগী সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এ জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, রামেক হাসপাতালসহ দেশের আরও সাতটি পুরোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি শয্যাসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা হবে। এ বছরের শেষ দিকে রামেক হাসপাতালের সম্প্রসারণকাজ শুরু হবে। এতে বর্তমানে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে, তার মান উন্নত হবে।
রাজশাহী অঞ্চলে সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘পদ্মা নদীর কারণে এ অঞ্চলে সাপের প্রাদুর্ভাব অনেক বেশি। এখানে অনেক সাপের কামড়ের রোগী আসেন। কিন্তু তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মতো ব্যবস্থা অনেক সময় হাসপাতালে থাকে না। আমরা আশা করছি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হবে।’
রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ভবনে লিফট স্থাপন নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। লিফট সরবরাহ করা হলেও ত্রুটির অভিযোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা স্থাপন করতে দেয়নি। এ কারণে রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশেষ সহকারী জানান, বিষয়টি তার জানা নেই।
এ সময় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলাম বলেন, ‘এটি ২০২৩ সালের ঘটনা। ঠিকাদার যে লিফট সরবরাহ করেছিলেন, সেটি সঠিক ছিল না বলে আমাদের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে প্রতিবেদন আকারে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। আমরা জানতে পেরেছি, গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমেও আবার তদন্ত হয়েছে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ীও ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।’
এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হকসহ রামেক হাসপাতালের চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।
খবরটি শেয়ার করুন