শনিবার, ৩১শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী *** স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ঠিক করে দিতে পারে না কে মুক্তিযোদ্ধা, কে নন: ২৮ বিশিষ্টজনের বিবৃতি *** মধ্যরাত থেকে জাটকা ধরায় ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা *** সাংবাদিকদের ওপর ক্ষমতার অপব্যবহারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি সিপিজের আহ্বান *** ২২ বছরে এইচএসসিতে সর্বনিম্ন পাসের হারের নেপথ্যে কী, শিক্ষাবিদরা যা বলছেন *** চাকরি হারালেন ডিবির হারুন অর রশিদসহ ৭ পুলিশ কর্মকর্তা *** এ বছরই চালু হচ্ছে পাঁচটি শিশু হাসপাতাল: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী *** ‘হিন্দুরা মেঝে থেকে গোমূত্র চেটে খায়’— ইহুদি ধর্মপ্রচারকের মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া *** এক মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষা দিতে পারবে এইচএসসিতে অকৃতকার্যরা *** এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২%

সুখবর এক্সপ্লেইনার

২২ বছরে এইচএসসিতে সর্বনিম্ন পাসের হারের নেপথ্যে কী, শিক্ষাবিদরা যা বলছেন

আদিত্য কবির

🕒 প্রকাশ: ০৭:১৫ অপরাহ্ন, ৩১শে অক্টোবর ২০২৬

#

ফাইল ছবি

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি দেখা গেছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার পাস করেছেন মাত্র ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ পরীক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। ২০০৪ সালের পর এই প্রথম এত কম পাসের হার দেখল দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলো। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও গত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার মান, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষকসংকট, শিক্ষায় বৈষম্য এবং পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

আজ ৩১ অক্টোবর, শনিবার সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন।

শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সংরক্ষিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৪ সালে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। পরের বছর তা বেড়ে ৫৯ দশমিক ১৬ শতাংশে পৌঁছায়। এরপর বিভিন্ন সময়ে পাসের হারে ওঠানামা থাকলেও এবারের মতো এত নিচে নামেনি। এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশে। এসব বোর্ডে ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৭ হাজার ২৮১ জন। ১৯৯০ সাল থেকে পাওয়া ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে এক বছরে এত বেশি শিক্ষার্থী আগে কখনো অকৃতকার্য হননি।

মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফল যুক্ত করার পরও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। গত বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার তা কমে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ হয়েছে। গত বছর যেখানে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জনে।

শুধু পাসের হার নয়, সর্বোচ্চ ফল অর্জনের ক্ষেত্রেও পিছিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এবার ১১টি বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩। ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২৯ হাজার ২৬২ জন এবং ২০১৯ সালে ৪৭ হাজার ২৮৬ জন। এরপর এবারই সর্বনিম্নসংখ্যক শিক্ষার্থী এ ফল অর্জন করেছেন।

বোর্ডভিত্তিক ফলেও উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার সর্বোচ্চ ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। বিপরীতে বরিশাল বোর্ডে পাস করেছেন ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী। যশোর ও রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার যথাক্রমে ৪৪ দশমিক ৯২ ও ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এ পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবারের ফলকে সন্তোষজনক বলে মনে করেননি। শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি দূর করতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের পরীক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করার প্রস্তুতি চলছে। এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। সব মিলিয়ে ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী এ সুযোগের আওতায় আসতে পারেন।

তবে ফলের এই অবনতির পেছনে ঠিক কোন বিষয়টি কতটা দায়ী, তা নিয়ে শিক্ষাবিদদের মধ্যে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী মনে করেন, কয়েক বছর ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। করোনার সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, সেটি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠার আগেই ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা ও পাঠদানে বিঘ্ন ঘটে। এর সঙ্গে শিক্ষকসংকটসহ অন্যান্য সমস্যাও যুক্ত হয়েছে। এসবের সম্মিলিত প্রভাব শিক্ষার্থীদের ফলাফলে পড়েছে বলে তার ধারণা।

রাশেদা কে চৌধুরী মুঠোফোনে সুখবর ডটকমকে বলেন, পরীক্ষার ফলাফলে আর্থসামাজিক ও ভৌগোলিক ব্যবধানের প্রতিফলন রয়েছে। আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের সন্তানদের তুলনায় গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের পারিবারিক আর্থিক সামর্থ্যও তাদের শিক্ষাগত অর্জনে প্রভাব ফেলছে। তার মতে, শিক্ষার সুযোগ ও মানের এই ব্যবধান দূর করা না গেলে সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান অবশ্য ফল বিপর্যয়ের কারণ নির্ধারণে অনুমাননির্ভর ব্যাখ্যার পরিবর্তে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, শিক্ষার্থীরা কেন প্রত্যাশিত ফল করতে পারছেন না, তা জানতে নমুনাভিত্তিক গবেষণা করতে হবে। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পাঠদানে যে ছেদ পড়েছিল, তার প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলে থাকতে পারে। পাশাপাশি অতীতে উত্তরপত্র মূল্যায়নে অতিরিক্ত উদারতা দেখানো হয়েছিল কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

সুখবর ডটকমকে তিনি বলেন, মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের একটি অংশ উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে এসে প্রত্যাশিত সাফল্য পাচ্ছে না। ইংরেজিতে দুর্বলতা এর অন্যতম কারণ হতে পারে। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হওয়ার পেছনে আগের শিক্ষাস্তরের ঘাটতিও ভূমিকা রাখতে পারে। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর এসব শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তা পাচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

বিষয়ভিত্তিক ফলের পরিসংখ্যানেও ইংরেজিতে দুর্বলতার বিষয়টি সামনে এসেছে। এবার ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ে মোট ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এর মধ্যে ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিতে এ সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩। অর্থাৎ এ দুটি বিষয়েই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর প্রত্যাশিত দক্ষতা অর্জিত হয়নি। তবে শুধু এ পরিসংখ্যান দিয়ে সামগ্রিক ফল বিপর্যয়ের কারণ নির্ধারণ করা যায় না।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলেও উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে। এ বছর দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। গত বছর এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। অন্যদিকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবার ১৩৯। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৪৫। ফলে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ফলের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমানের পরামর্শ, যেসব কলেজে ২০ শতাংশের কম শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন, সেগুলোর শিক্ষার পরিবেশ বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা দরকার। শিক্ষক উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস এবং শিক্ষকদের সহযোগিতার বিষয়গুলো যাচাই করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্যও নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন, সেগুলোর পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষার্থীদের সহায়তার ধরন পর্যালোচনা করে কার্যকর উদ্যোগগুলো অন্য প্রতিষ্ঠানে অনুসরণ করা যেতে পারে।

রাশেদা কে চৌধুরীর মতে, শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যার কারণ অনুসন্ধানে সরকারের পাশাপাশি স্বাধীন গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসংকট, বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষকের অভাব, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা রয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে না পারলে তার দায় শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, এসব শিক্ষার্থীর শিক্ষার পেছনে পরিবার ও রাষ্ট্র উভয়েরই বিনিয়োগ রয়েছে।

তিনি আরও মনে করেন, শহর ও গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষার সুযোগের যে ব্যবধান রয়েছে, তা কমাতে হবে। বিশেষ করে কলেজ পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু পরীক্ষায় ভালো করার কৌশল শেখানোর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা দরকার। এ কাজে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

দুর্বল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে থাইল্যান্ডের উদাহরণও দিয়েছেন রাশেদা কে চৌধুরী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের মতো বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়ে তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। এরপর এক থেকে দুই বছর ধরে ঘাটতি পূরণে কাজ করা হয়। বাংলাদেশেও শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এমন বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে।

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও বিকল্প পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন তিনি। এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও দুইয়ের বেশি বিষয়ে অকৃতকার্যদের জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের জন্য স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা এবং কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। যাতে একটি পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার কারণে তাদের শিক্ষা ও কর্মজীবনের পথ বন্ধ হয়ে না যায়।

এদিকে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের নির্ধারিত নিয়মে এ আবেদন করতে পারবেন।

এবারের ফলাফল শিক্ষাব্যবস্থার কয়েকটি দীর্ঘদিনের দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। তবে করোনার প্রভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা, শিক্ষকসংকট, পাঠদানের মান কিংবা উত্তরপত্র মূল্যায়নের পদ্ধতি—কোন বিষয়টি কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা এখনো গবেষণার মাধ্যমে নির্দিষ্ট হয়নি। শিক্ষাবিদদের বক্তব্যে তাই একটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে: ফলের সংখ্যা প্রকাশের পর দায় নির্ধারণে থেমে না থেকে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা শনাক্ত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

এইচএসসির ফল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৮:২৮ অপরাহ্ন, ৩১শে অক্টোবর ২০২৬

স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ঠিক করে দিতে পারে না কে মুক্তিযোদ্ধা, কে নন: ২৮ বিশিষ্টজনের বিবৃতি

🕒 প্রকাশ: ০৮:১৩ অপরাহ্ন, ৩১শে অক্টোবর ২০২৬

মধ্যরাত থেকে জাটকা ধরায় ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা

🕒 প্রকাশ: ০৮:০৩ অপরাহ্ন, ৩১শে অক্টোবর ২০২৬

সাংবাদিকদের ওপর ক্ষমতার অপব্যবহারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি সিপিজের আহ্বান

🕒 প্রকাশ: ০৭:৫০ অপরাহ্ন, ৩১শে অক্টোবর ২০২৬

২২ বছরে এইচএসসিতে সর্বনিম্ন পাসের হারের নেপথ্যে কী, শিক্ষাবিদরা যা বলছেন

🕒 প্রকাশ: ০৭:১৫ অপরাহ্ন, ৩১শে অক্টোবর ২০২৬

Footer Up 970x250