ছবি: সংগৃহীত
আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিন মাসের আটকাদেশ দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আজ বুধবার (২৪শে ডিসেম্বর) সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লা আল মামুন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ রাখা হয়েছে।
আতাউর রহমান বিক্রমপুরী, আসাদুল্লাহ বা আতাউর নামেও পরিচিত। তার বাবার নাম হুমায়ুন সর্দার, মা রোকেয়া বেগম।
তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কিনা, কিংবা ঠিক কী অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে কিছু জানায়নি পুলিশ। তাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বেশ সরব ছিলেন এবং নানা কারণে আলোচনায় ছিলেন।
ফ্যাক্টচেকার ও সাংবাদিক কদরুদ্দিন শিশিরের ফেসবুক পোস্ট এর বরাত দিয়ে গত ৭ই মার্চ দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্রমপুরী তার ওয়াজ, অনলাইন বয়ান ও ফেসবুকে ‘অতি উগ্র কথাবার্তা প্রচারের জন্য’ পরিচিত। তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রথম আলোর সামনের বিক্ষোভে এবং সেখান থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া কয়েকজনকে থানা থেকে জোর করে ছাড়িয়ে নেওয়ায় ‘নেতৃত্ব’ দিয়েছিলেন।
বিক্রমপুরী ২০২১ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলেও ওই প্রতিবেদনে তথ্য দেওয়া হয়। গত ১৮ই ডিসেম্বর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রমপুরীর নাম আসছিল। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই হামলার সমর্থনে কিছু পোস্টও দেখা যায়।
আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার টংগীবাড়ী উপজেলার আমতলী গ্রামে। তিনি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় ইস্তা গ্রামে অবস্থিত মারকাজুল হুনাফা আল মুসলিমিন মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল (অধ্যক্ষ)। এ ছাড়া হুনাফা ইসলামীক স্কুলেরও প্রিন্সিপাল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৪শে মার্চ ঝিকরগাছা থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের করা এফআইআর (নং- ১৮ / ৭৭)-এর এজাহারভুক্ত আসামি তিনি।
আতাউর রহমান বিক্রমপুরী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। সোশ্যাল মিডিয়াতেও বেশ সক্রিয়। রাজধানীতেও বিভিন্ন আন্দোলন বিক্ষোভের সময় তাকে সামনের সারিতে দেখা গেছে।
জানা গেছে, আতাউর রহমান আযাদী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির, বৈষম্যহীন কারামুক্তি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় জয়েন্ট সেক্রেটারি এবং শানে সাহাবা জাতীয় খতীব ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানেরও পদে রয়েছেন।
গত অক্টোবরে গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলায় হিন্দু যুবক কর্তৃক মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। একই মাসে গাজীপুরের একটি মসজিদের ইমাম মুহিবুল্লাহ মিয়াজীর কথিত ‘অপহরণ’ ঘটনা সারাদেশে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।
দুটি ঘটনা নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় তৎপর ছিলেন আতাউর রহমান। এ দুটি বিষয় নিয়ে সশরীরে থানা-পুলিশ করেন তিনি। যদিও মুহিবুল্লাহ মিয়াজীর ঘটনাটি পরে ‘অপহরণ’ নয় বলে জানায় পুলিশ।
সর্ব সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর প্রতিবাদে ঢাকার শাহবাগে আয়োজিত বিক্ষোভের একটি অংশে আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। যদিও অন্য বিক্ষোভকারীরা তাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখায় তিনি মাঝপথে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করে চলে যান।
নরসিংদী থেকে আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) অনুরোধে আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে জিএমপিতে হস্তান্তর করা হয়।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, আতাউর রহমানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিন মাসের আটকাদেশ দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আজ বুধবার সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ পাঠানো হয়।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'এটা সরকারের নির্বাহী আদেশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আদেশ জারি করে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে সরকারের একটা এখতিয়ার আছে। এটা আদালতের বিষয় না, সরকারের এখতিয়ার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যখন কোনো ব্যক্তিকে সমাজের জন্য, দেশের জন্য তার কর্মকাণ্ড খুব বিপজ্জনক, ক্ষতিকর মনে করে, তখন সরকার চাইলে তাকে আটক করতে পারে।'
খবরটি শেয়ার করুন