ছবি: সংগৃহীত
চব্বিশের সেপ্টেম্বরে দায়িত্বে আসার পর বই নির্বাচন নীতিমালার সংস্কার করতে চেয়েছিলেন লেখক আফসানা বেগম। যেন অযোগ্য বই সরিয়ে ভালো বই নেওয়া হয় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে। এজন্য নীতিমালা সংশোধন করে, সচিব ও মন্ত্রী কোটা ২০ শতাংশ তুলে দিয়ে ১০০ শতাংশ বই নির্বাচন কমিটির মাধ্যমে আনতে চেয়েছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সদ্য অব্যহতি পাওয়া পরিচালক আফসানা।
কিন্তু তাতে সম্মতি ছিল না সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর। আফসানা বেগম গতকাল বৃহস্পতিবার (২২শে ডিসেম্বর) রাতে চার পর্বের ফেসবুক পোস্টে উপদেষ্টার সঙ্গে এ বিষয়ক কথোকপথন প্রকাশ করেছেন।
পোস্টে আফসানা বেগম লেখেন, ফারুকী ভাই কথা বলা শুরু করেন, ‘কোটা থাকুক। পরবর্তী সরকার এসে ব্যবহার করবে। এটা ওদের লাগবে।’ আমি চমকে উঠি, ভাই, কী বলেন, কোটা কেন থাকবে, কোটার জন্যেই না…।
চব্বিশের অভ্যূত্থানের পরে ৫ই সেপ্টেম্বর জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয় আফসানা বেগমকে। তৎকালীন সংস্কৃতি উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের অনুরোধেই তিনি এই দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
গত মঙ্গলবার আফসানা বেগমকে হুট করেই অব্যহতি দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। আফসানা বেগমের স্থলভিষিক্ত হয়েছেন এ এইচ এম সাখাওয়াত উল্লাহ, যিনি কবি সাখাওয়াত টিপু নামে পরিচিত।
আফসানা বেগম দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পর বই নির্বাচন নীতিমালা সংশোধনে হাত দিয়েছিলেন। আফসানা ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে বলেন, তখন সংস্কৃতি উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, তাকে বলেছিলেন- নীতিমালা এমন হবে, যেন ভালো ভালো বই নেওয়া যায়। আর অযোগ্য বই প্রত্যাহার করা যায়।
নীতিমালার শুধু অনুমোদনের কাজ বাকি, আর তখনই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা পরিবর্তন হয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দায়িত্বে আসেন।
আফসানা বেগম লেখেন, নীতিমালার পুরো বিষয়টা উনাকে (মোস্তফা সরয়ার ফারুকী) বোঝানোর চেষ্টা করি, আসিফ ভাইয়ের (আসিফ নজরুল) ই-মেইলগুলো পাঠাই, কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া পাই না। শেষে অনেক অনুরোধের পরে একদিন একটা বড় কমিটি বসে। উপকমিটি সরাসরি নীতিমালা অনুমোদনের কাজ করবে বলে জানায়।
খবরটি শেয়ার করুন