রবিবার, ২৫শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ফ্রান্সে ৪ লাখ মানুষের বিক্ষোভ, বাড়ছে উত্তেজনা–সংঘর্ষ *** আজই ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প *** সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশের নিয়ম-কানুন পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর *** এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর *** টঙ্গীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ *** তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে উচ্চকক্ষ থেকে নিয়োগের প্রস্তাব *** সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিকের লাশ দাফনে বাধা, গোপনে গার্ড অব অনার *** মৃত্যুর জন্য ইউএনওকে দায়ী করে এসি ল্যান্ডের ফেসবুক পোস্ট, পরিবারের দাবি মানসিক সমস্যা *** সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডে কূটনৈতিক যোগাযোগের ফাঁক উন্মোচিত, ঢাকার অজান্তেই আরও ২০ জনের পরিণতি অনিশ্চিত *** আসিফ আকবরের চালকের পেছনের আসন বরাবর গুলি করা হয়

নায়ক রহমান-আনোয়ার হোসেনদের সঙ্গে অভিনয়ও করেছেন মির্জা ফখরুল

নবনীতা রায়

🕒 প্রকাশ: ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, ১৪ই আগস্ট ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

দেশের রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিচিত মুখ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এখন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে তার নাম আলোচনার কেন্দ্রে। ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকেই মির্জা ফখরুলকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জোরালোভাবে আলোচনা করা হচ্ছিল। সুখবর ডটকমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার নাম উঠে এসেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএনপি তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার পর রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে তার ব্যক্তিজীবনের নানা অধ্যায়ও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে সামনে এসেছে মঞ্চের অভিনেতা মির্জা ফখরুলের পরিচয়। রাজনীতির মাঠে পরিচিত এই মানুষটি একসময় ঠাকুরগাঁওয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন। শুধু নাটক দেখতেন না, অভিনয় করতেন, নাটক নির্দেশনাও দিতেন। পাশাপাশি খেলাধুলার সঙ্গেও ছিল তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঠাকুরগাঁওয়ে ধারণ করা জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র একটি পর্বে উপস্থাপক হানিফ সংকেতের সঙ্গে আলাপচারিতায় নিজের সেই সময়ের কথা বলেন মির্জা ফখরুল। পরে তার সেই সাক্ষাৎকারের নানা অংশ দেশের একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ের নাট্যচর্চার ঐতিহ্যের কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল জানান, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফণীন্দ্র ভূষণ পালিতের কাছে তার নাট্যজীবনের হাতেখড়ি। তার ভাষায়, ‘ছাত্রজীবন থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে নাটকের সঙ্গে আমি জড়িত। এই ফণী পালিতের হাতে আমার হাতেখড়ি।’

মির্জা ফখরুলের বর্ণনায়, ঠাকুরগাঁওয়ের নাট্যচর্চার ইতিহাসও বেশ পুরোনো। রাজা অষ্টম এডওয়ার্ডের অভিষেক উপলক্ষে সেখানে নাট্য সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এলাকায় নাট্যচর্চার বিকাশ ঘটে। ফণীন্দ্র ভূষণ পালিতকে তিনি অসাধারণ সৃজনশীল মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন।

তার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকগুলোর একটি হলো, সে সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক রহমান এবং খ্যাতিমান অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে একই মঞ্চে অভিনয় করা। চিত্রনায়ক রহমান, অর্থাৎ আবদুর রহমান, সম্পর্কে মির্জা ফখরুলের মামাতো ভাই। তার সঙ্গে অভিনয়ের পাশাপাশি ঢাকাই চলচ্চিত্রের ‘নবাব’খ্যাত আনোয়ার হোসেনের সঙ্গেও মঞ্চে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনেত্রী আনোয়ারার সঙ্গেও অভিনয়ের সুযোগ হয়েছিল বলে জানান মির্জা ফখরুল।

এখানেই শেষ নয়। মঞ্চে অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক পরিচালনাও করেছেন তিনি। হানিফ সংকেতের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ওই অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে অভিনয় করা এবং নাটক পরিচালনা করা—দুটিই তার জন্য সৌভাগ্যের বিষয় ছিল।

সংস্কৃতির পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ের ক্রীড়াঙ্গনেও সক্রিয় ছিলেন মির্জা ফখরুল। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, ক্রিকেট খেলতেন এবং সংগঠক হিসেবেও মাঠে থাকতেন। অর্থাৎ ছাত্রজীবনে তার ব্যস্ততা শুধু পড়াশোনা বা রাজনীতিকেন্দ্রিক ছিল না; নাটক, অভিনয়, খেলাধুলা—সব মিলিয়ে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সরব উপস্থিতি ছিল।

মির্জা ফখরুলের জীবনে শিক্ষকতার অধ্যায়ও রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার পর ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন। বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতি পড়িয়েছেন। পরে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। তার জীবনের এই তিন পরিচয়—নাট্যজন, শিক্ষক ও রাজনীতিক—এর মধ্যে কোনটি বেশি উপভোগ্য, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নিঃসংকোচে সংস্কৃতিকেই বেছে নেন। তার ভাষায়, ‘নিঃসন্দেহে সাংস্কৃতিক জগৎটাই বেশি উপভোগের।’

সেই সাক্ষাৎকারে তার আরেকটি পরিচয়ও সামনে আসে। তিনি আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুঃসময়’ কবিতার কয়েকটি লাইন আবৃত্তি করে শোনান। ফলে রাজনীতির কঠিন বক্তব্য, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা বা রাষ্ট্রপতি পদ ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনার বাইরে মির্জা ফখরুলের আরেকটি পরিচয়ও স্পষ্ট হয়—তিনি একসময় মঞ্চের মানুষ ছিলেন।

রাজনীতির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে সাংবিধানিক সর্বোচ্চ পদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার আলোচনায় থাকা মির্জা ফখরুলের জীবনের এই অধ্যায় তাই কিছুটা বিস্ময় জাগায়। যে মানুষকে এতদিন মূলত রাজনৈতিক বক্তৃতা, দলীয় কর্মকাণ্ড ও আন্দোলনের নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে দেখা গেছে, তার স্মৃতিতে মঞ্চ, নাটক, অভিনয় ও সংস্কৃতির জায়গাটি যে এখনো আলাদা, ‘ইত্যাদি’র সেই সাক্ষাৎকারেই তার প্রমাণ মেলে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250